চট্টগ্রাম সিটি কলেজ: সংঘর্ষের শুরুর দিকে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন
চট্টগ্রামে সরকারি সিটি কলেজে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ঘটনার শুরুতেই পুলিশের পক্ষ থেকে কার্যকর ব্যবস্থা নিলে সংঘর্ষের ব্যাপকতা এতোটা ছড়াতো না বলে মনে করছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা। প্রত্যক্ষদর্শী শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্ট কয়েকজন শিক্ষক জানিয়েছেন, প্রায় ৪ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে কলেজ ক্যাম্পাসে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও উত্তেজনাকর পরিস্থিতি চললেও প্রথম দিকে পুলিশ দূর থেকে অবস্থান নেয়। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিলে অতিরিক্ত পুলিশ ক্যাম্পাসে প্রবেশ করে। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) দুপুরে কলেজ ক্যাম্পাসে এ ঘটনা ঘটে। সকাল থেকেই দুই ছাত্রসংগঠনের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছিল। দুপুর ১২টার দিকে দুই পক্ষ ক্যাম্পাসে মুখোমুখি অবস্থান নেয়। একপর্যায়ে তারা পাল্টাপাল্টি স্লোগান দিতে থাকে। কিছু সময়ের মধ্যে উত্তেজনা পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও হাতাহাতিতে রূপ নেয়। এতে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনেকে দ্রুত ক্যাম্পাস ছেড়ে চলে যান। প্রত্যক্ষদর্শী একাধিক শিক্ষার্থী বলেন, সংঘর্ষের সময় কলেজের প্রধান ফটকের বাইরে কয়েকজন পুলিশ সদস্য অবস্থান
চট্টগ্রামে সরকারি সিটি কলেজে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ঘটনার শুরুতেই পুলিশের পক্ষ থেকে কার্যকর ব্যবস্থা নিলে সংঘর্ষের ব্যাপকতা এতোটা ছড়াতো না বলে মনে করছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা।
প্রত্যক্ষদর্শী শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্ট কয়েকজন শিক্ষক জানিয়েছেন, প্রায় ৪ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে কলেজ ক্যাম্পাসে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও উত্তেজনাকর পরিস্থিতি চললেও প্রথম দিকে পুলিশ দূর থেকে অবস্থান নেয়। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিলে অতিরিক্ত পুলিশ ক্যাম্পাসে প্রবেশ করে।
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) দুপুরে কলেজ ক্যাম্পাসে এ ঘটনা ঘটে। সকাল থেকেই দুই ছাত্রসংগঠনের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছিল। দুপুর ১২টার দিকে দুই পক্ষ ক্যাম্পাসে মুখোমুখি অবস্থান নেয়।
একপর্যায়ে তারা পাল্টাপাল্টি স্লোগান দিতে থাকে। কিছু সময়ের মধ্যে উত্তেজনা পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও হাতাহাতিতে রূপ নেয়। এতে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনেকে দ্রুত ক্যাম্পাস ছেড়ে চলে যান।
প্রত্যক্ষদর্শী একাধিক শিক্ষার্থী বলেন, সংঘর্ষের সময় কলেজের প্রধান ফটকের বাইরে কয়েকজন পুলিশ সদস্য অবস্থান করছিলেন। তবে শুরুতে তারা ক্যাম্পাসে ঢুকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেননি। বরং শিক্ষকরা প্রথমে দুই পক্ষকে থামানোর চেষ্টা করেন। পরে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠলে অতিরিক্ত পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
সংঘর্ষে আহত শিক্ষার্থীকে উদ্ধার করে নিয়ে যাচ্ছে সহপাঠীরা/ছবি: জাগো নিউজ
সিটি কলেজ শিক্ষার্থী মিশকাত বলেন, প্রথমে আমরা ভেবেছিলাম পুলিশ সঙ্গে সঙ্গে এগিয়ে আসবে। কিন্তু অনেকক্ষণ তারা শুধু দাঁড়িয়ে ছিল। পরে পরিস্থিতি খারাপের দিকে গেলে পুলিশ ভেতরে আসে।
সংঘর্ষের জেরে কলেজের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হয়। দুপুরের পর থেকে কলেজের সব অভ্যন্তরীণ ক্লাস ও পরীক্ষা স্থগিত করা হয়। তবে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে চলমান ডিগ্রি দ্বিতীয় বর্ষ ও মাস্টার্সের পরীক্ষাগুলো নির্ধারিত সময়েই অনুষ্ঠিত হয় বলে কলেজ প্রশাসন জানিয়েছে।
কলেজের এক শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, আমরা প্রথমে শিক্ষার্থীদের বুঝিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেছি। কারণ সংঘর্ষের কারণে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা বন্ধ হলে কলেজের সুনাম নষ্ট হতো। পরে পুলিশ সক্রিয় হওয়ায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
সংঘর্ষের সূত্রপাত নিয়ে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কলেজ ক্যাম্পাসের একটি ভবনের দেয়ালে আঁকা একটি গ্রাফিতিকে কেন্দ্র করে কয়েকদিন ধরে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা চলছিল। ওই গ্রাফিতির নিচে ‘ছাত্র রাজনীতি ও ছাত্রলীগমুক্ত ক্যাম্পাস’ লেখা ছিল। পরে ছাত্রদলের এক নেতা সেখানে গিয়ে ‘ছাত্র’ শব্দটি মুছে অন্য শব্দ লিখে দেন। সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ আরও বাড়ে। শেষ পর্যন্ত সেটিই সংঘর্ষে রূপ নেয়।
কলেজের অধ্যক্ষ আবু সালেহ মোহাম্মদ নঈম উদ্দিন বলেন, দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। শিক্ষকরা প্রথমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে মহানগর দক্ষিণ শিবিরের সভাপতি মাইমুনুল ইসলাম মামুন জাগো নিউজকে বলেন, পুলিশ শুরুতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে পারতো। কিন্তু তারা নীরব দর্শকের ভূমিকায় ছিল। তারা অ্যাকটিভ থাকলে আমাদের ১৫-১৬ জন ভাই আহত হতো না। তারা (ছাত্রদল) আমাদের ওপর সশস্ত্র হামলা করেছে। এর মধ্যে দুইজনের অবস্থা গুরুতর। তারা নগরীর পার্কভিউ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছে।
ছবি: জাগো নিউজ
জানতে চাইলে মহানগর ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, আমাদের মোটামুটি ১০-১২ জন আহত হয়েছে। পুলিশের ভূমিকা ছিল মোটামুটি। জামায়াত-শিবির একত্রে জড়ো হয়ে আমাদের ধাওয়া দিলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। এ সময় পুলিশের কিছুই করার ছিল না।
এ বিষয়ে চট্টগ্রামের কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আফতাব উদ্দিন বলেন, সংঘর্ষের ঘটনা আমার এরিয়ায় পড়েনি, এটি সদরঘাট থানার অধীনে পড়েছে। তারপরও খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে এবং ক্যাম্পাসে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
এ বিষয়ে কথা বলতে সদরঘাট থানার ওসির মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।
জানতে চাইলে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারী কমিশনার (গণমাধ্যম) আমিনুর রশিদ জাগো নিউজকে বলেন, সংঘর্ষ থামানোর ক্ষেত্রে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের বক্তব্যের সঙ্গে আমি দ্বিমত পোষণ করছি। আমাদের পর্যাপ্ত ফোর্স ছিল। উত্তপ্ত পরিস্থিতি সফটলি হ্যান্ডেল করে নিয়ন্ত্রণে এনেছি, যা আপনারা মিডিয়ায় দেখেছেন।
ঘটনার পর ক্যাম্পাসে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক কাটেনি। অনেকেই মনে করছেন, শুরুতেই পুলিশ সক্রিয় হলে পরিস্থিতি এতটা উত্তপ্ত হতো না। কলেজ প্রশাসনও ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা এড়াতে নজরদারি বাড়ানোর কথা জানিয়েছে।
এমআরএএইচ/এমএমকে
What's Your Reaction?