চবিতে অফিস শুরুর পরও তালাবদ্ধ দপ্তর

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রমে সময়ানুবর্তিতার চরম অব্যবস্থাপনার চিত্র উঠে এসেছে। নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও অনেক দপ্তর তালাবদ্ধ, আবার অফিস শেষ হওয়ার আগেই কর্মস্থল ছাড়ছেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ৮টায় সরেজমিনে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনে গিয়ে দেখা যায়, অফিস সময় শুরু হলেও অধিকাংশ কর্মকর্তা-কর্মচারী অনুপস্থিত। অফিস শুরুর ৩০ মিনিট পরও বেশ কয়েকটি শাখা বন্ধ পাওয়া যায়। ছয়তলা বিশিষ্ট ভবনের ১৮টি শাখায় প্রায় ১৩৬ জন কর্মরত থাকলেও দিনের শুরুতে উপস্থিতির হার ছিল খুবই কম। পরিদর্শনে দেখা যায়, চারটি শাখা তালাবদ্ধ ছিল। ডেসপাস, তথ্য ও স্টোর শাখায় মাত্র ২-৩ জন করে কর্মচারী উপস্থিত ছিলেন। আইন ও গোপনীয় শাখা খোলা থাকলেও ভেতরে কাউকে পাওয়া যায়নি। রেকর্ড শাখা, রেজিস্ট্রার অফিস সংলগ্ন একটি কক্ষ এবং ষষ্ঠ তলায় উপ-রেজিস্ট্রারের দপ্তরও বন্ধ ছিল। হিসাব নিয়ামক, কাউন্সিল ও উচ্চশিক্ষা শাখায় উপস্থিতি ছিল সবচেয়ে কম। অনুপস্থিতির কারণ জানতে চাইলে উপস্থিত কর্মচারীদের কেউ বলেন সহকর্মীরা ওয়াশরুমে, কেউ বলেন তারা আসছেন পথে। তবে বাস্তবে এমন উপস্থিতির প্রমাণ পাওয়া যায়নি। অনেকেই দে

চবিতে অফিস শুরুর পরও তালাবদ্ধ দপ্তর
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রমে সময়ানুবর্তিতার চরম অব্যবস্থাপনার চিত্র উঠে এসেছে। নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও অনেক দপ্তর তালাবদ্ধ, আবার অফিস শেষ হওয়ার আগেই কর্মস্থল ছাড়ছেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ৮টায় সরেজমিনে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনে গিয়ে দেখা যায়, অফিস সময় শুরু হলেও অধিকাংশ কর্মকর্তা-কর্মচারী অনুপস্থিত। অফিস শুরুর ৩০ মিনিট পরও বেশ কয়েকটি শাখা বন্ধ পাওয়া যায়। ছয়তলা বিশিষ্ট ভবনের ১৮টি শাখায় প্রায় ১৩৬ জন কর্মরত থাকলেও দিনের শুরুতে উপস্থিতির হার ছিল খুবই কম। পরিদর্শনে দেখা যায়, চারটি শাখা তালাবদ্ধ ছিল। ডেসপাস, তথ্য ও স্টোর শাখায় মাত্র ২-৩ জন করে কর্মচারী উপস্থিত ছিলেন। আইন ও গোপনীয় শাখা খোলা থাকলেও ভেতরে কাউকে পাওয়া যায়নি। রেকর্ড শাখা, রেজিস্ট্রার অফিস সংলগ্ন একটি কক্ষ এবং ষষ্ঠ তলায় উপ-রেজিস্ট্রারের দপ্তরও বন্ধ ছিল। হিসাব নিয়ামক, কাউন্সিল ও উচ্চশিক্ষা শাখায় উপস্থিতি ছিল সবচেয়ে কম। অনুপস্থিতির কারণ জানতে চাইলে উপস্থিত কর্মচারীদের কেউ বলেন সহকর্মীরা ওয়াশরুমে, কেউ বলেন তারা আসছেন পথে। তবে বাস্তবে এমন উপস্থিতির প্রমাণ পাওয়া যায়নি। অনেকেই দেরিতে আসার কারণ হিসেবে পরিবহন সংকটের কথা স্বীকার করেন। অন্যদিকে বিকেল সাড়ে ৩টায়  অফিস ছুটি হলেও তার আগেই দপ্তর ছাড়তে দেখা যায় অনেককে। ছুটির অনেক আগেই বিভিন্ন শাখা তালাবদ্ধ হতে শুরু করে। নির্ধারিত সময়ের আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাস ধরতে গিয়ে অনেকেই অফিস ত্যাগ করেন। তখন প্রশাসনিক ভবনের অধিকাংশ শাখাই বন্ধ পাওয়া যায়। বিশ্ববিদ্যালয়ে নির্ধারিত কোনো লাঞ্চ টাইম না থাকায় কর্মচারীরা নিজ নিজ সুবিধামতো বিরতি নিচ্ছেন। কেউ দুপুর ১টায়, কেউ ১টা ১০ মিনিটে আবার কেউ আরও আগে বা পরে লাঞ্চে যান। এমনকি লাঞ্চের পর অনেকেই আর অফিসে ফেরেন না বলেও অভিযোগ রয়েছে। এতে প্রশাসনিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। নিয়ম অনুযায়ী ৮ ঘণ্টা কর্মদিবস থাকলেও বাস্তবে কাজ হচ্ছে প্রায় ৭ ঘণ্টা। দেরিতে এসে আবার আগেভাগে চলে যাওয়ায় দৈনিক প্রায় এক ঘণ্টা কম কাজ করছেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। শুধু প্রশাসনিক ভবন নয়, একই চিত্র দেখা গেছে আবাসিক হল ও বিভিন্ন অনুষদেও। সকালবেলায় অধিকাংশ হল অফিস কক্ষ তালাবদ্ধ থাকে। নিয়ম অনুযায়ী আবাসিক হলে একজন হাউস টিউটর থাকার কথা থাকলেও শিক্ষার্থীরা জানান, বাস্তবে কাউকে নিয়মিত পাওয়া যায় না। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক সাইফুল ইসলাম বলেন, সময় মেনে কাজ করার জন্য সবাইকে নির্দেশনা দেওয়া হয়। বায়োমেট্রিক ব্যবস্থা চালু থাকলেও অনেকেই তা ব্যবহার করতে অনাগ্রহী। লাঞ্চ টাইম প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে নির্দিষ্ট বিরতির সময় কখনোই ছিল না। ফলে অনেকেই নিজের মতো করে বিরতি নেন, এমনকি কেউ কেউ পরে আর অফিসে ফেরেন না। বিষয়টি মাঝে মধ্যে তদারকি করা হয়। তিনি আরও জানান, অফিসে সময়মতো উপস্থিতি নিশ্চিত করতে অতীতে শোকজ করা হলেও এতে বিভিন্ন চাপের মুখে পড়তে হয়েছে। এছাড়া বিকেল সাড়ে ৩টায় বাস থাকায় অনেকেই আগেই চলে যান। বিশ্ববিদ্যালয়ের শামসুন নাহার হলের প্রভোস্ট প্রফেসর বেগম ইসমত আরা হক বলেন, ‘আমরা এ বিষয়ে সচেতন ও কঠোর থাকার চেষ্টা করি। তবুও অনেকেই নির্ধারিত সময়ে উপস্থিত হন না। বিষয়টি অবশ্যই পরবর্তী সভায় আলোচনা করা হবে।’ হাউস টিউটরদের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আবাসিক শিক্ষক বলা হলেও আমাদের শিক্ষকরা পুরোপুরি আবাসিক নন। ফলে তারা ২৪ ঘণ্টা অবস্থান করতে পারেন না। তবে আমরা উপস্থিত থাকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করি।’

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow