চবিতে দেশের প্রথম ওশান স্যাটেলাইট গ্রাউন্ড স্টেশন, উদ্বোধন কাল
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) আগামীকাল (মঙ্গলবার) উদ্বোধন হতে যাচ্ছে চীন-বাংলাদেশ ওশান স্যাটেলাইট গ্রাউন্ড স্টেশন ফর মেরিন রিমোট সেন্সিং। এর মাধ্যমে সমুদ্র গবেষণা, দুর্যোগ পূর্বাভাস ও মৎস্যসম্পদ ব্যবস্থাপনায় নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। সোমবার (৮ জুন) দুপুরে চবি উপাচার্যের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। সংবাদ সম্মেলনে প্রকল্পের কো–অর্ডিনেটর অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মোসলেম উদ্দিন লিখিত বক্তব্যে বলেন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ও চীনের সেকেন্ড ইনস্টিটিউট অব ওশানোগ্রাফির (এসআইও) যৌথ উদ্যোগে এ কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। ২০১৯ সালে দুই প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সহযোগিতার উদ্যোগ নেওয়া হয় এবং পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন কারিগরি ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হয়। তিনি জানান, স্টেশনটি এক্স ও এল-ব্যান্ড প্রযুক্তি ব্যবহার করে চীন, যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ ও জাপানের বিভিন্ন স্যাটেলাইট থেকে তথ্য সংগ্রহ করতে সক্ষম হবে। এর মাধ্যমে সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা, ক্লোরোফিলের ঘনত্ব, সাগরের স্রোতের গতিপথসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) আগামীকাল (মঙ্গলবার) উদ্বোধন হতে যাচ্ছে চীন-বাংলাদেশ ওশান স্যাটেলাইট গ্রাউন্ড স্টেশন ফর মেরিন রিমোট সেন্সিং। এর মাধ্যমে সমুদ্র গবেষণা, দুর্যোগ পূর্বাভাস ও মৎস্যসম্পদ ব্যবস্থাপনায় নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সোমবার (৮ জুন) দুপুরে চবি উপাচার্যের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
সংবাদ সম্মেলনে প্রকল্পের কো–অর্ডিনেটর অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মোসলেম উদ্দিন লিখিত বক্তব্যে বলেন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ও চীনের সেকেন্ড ইনস্টিটিউট অব ওশানোগ্রাফির (এসআইও) যৌথ উদ্যোগে এ কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। ২০১৯ সালে দুই প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সহযোগিতার উদ্যোগ নেওয়া হয় এবং পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন কারিগরি ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হয়।
তিনি জানান, স্টেশনটি এক্স ও এল-ব্যান্ড প্রযুক্তি ব্যবহার করে চীন, যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ ও জাপানের বিভিন্ন স্যাটেলাইট থেকে তথ্য সংগ্রহ করতে সক্ষম হবে। এর মাধ্যমে সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা, ক্লোরোফিলের ঘনত্ব, সাগরের স্রোতের গতিপথসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দ্রুত পাওয়া যাবে। এ কেন্দ্রের মাধ্যমে বঙ্গোপসাগর ও উপকূলীয় অঞ্চলের স্যাটেলাইটভিত্তিক তথ্য সরাসরি সংগ্রহ ও বিশ্লেষণের সক্ষমতা অর্জন করবে বাংলাদেশ। এটি সমুদ্র গবেষণা, দুর্যোগ পূর্বাভাস, মৎস্যসম্পদ ব্যবস্থাপনা এবং নীল অর্থনীতির উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
ড. মোহাম্মদ মোসলেম উদ্দিন আরও জানান, এসব তথ্য ব্যবহার করে বঙ্গোপসাগরে মাছের সম্ভাব্য অবস্থান নির্ধারণ সহজ হবে, যা জেলেদের আয় বৃদ্ধিতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে। পাশাপাশি ঘূর্ণিঝড়ের তীব্রতা ও সম্ভাব্য আঘাতের স্থান আরও নির্ভুলভাবে পূর্বাভাস দেওয়া সম্ভব হবে, যা উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের জীবন ও সম্পদ রক্ষায় কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
তিনি বলেন, এ কেন্দ্রের মাধ্যমে গবেষক ও শিক্ষার্থীরা স্যাটেলাইট ডাটা বিশ্লেষণ, সফ্টওয়্যার উন্নয়ন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও মেশিন লার্নিংভিত্তিক গবেষণায় দক্ষতা অর্জনের সুযোগ পাবেন। এখানে বাংলাদেশি গবেষক ও প্রযুক্তিবিদদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
তথ্য নিরাপত্তার বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, এটি সম্পূর্ণ বেসামরিক ও গবেষণাভিত্তিক প্রকল্প। এটি শুধুমাত্র ডাউনলিংক গ্রাউন্ড স্টেশন হিসেবে কাজ করবে এবং জাতীয় নিরাপত্তার জন্য কোনো ঝুঁকি সৃষ্টি করবে না।
সংবাদ সম্মেলনে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড.আল-ফোরকান, উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. শামীম উদ্দিন খান, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. কামাল উদ্দিন, বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক আল-আমিনসহ প্রকল্প সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
মোস্তাফিজুর রহমান/কেএইচকে/এএসএম
What's Your Reaction?