চলতি বছরেও ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রায় যুদ্ধ চালাতে সক্ষম রাশিয়া
রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যকার যুদ্ধ চার বছর পেরিয়েছে। চলতি বছরেও এ যুদ্ধ বন্ধের কোনো ইঙ্গিত নেই বলে মনে করছেন সামরিক বিশেষজ্ঞরা। এমনকি এ বছল চলতি বছরও পূর্ণমাত্রায় যুদ্ধ চালাতে সক্ষম রাশিয়া। ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ নামে ইউরোপের শীর্ষ সামরিক থিঙ্কট্যাঙ্কের এক প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠে এসেছে। সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, উদীয়মান অর্থনৈতিক ও জনবল চাপ সত্ত্বেও রাশিয়া ২০২৬ সালেও ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রায় যুদ্ধ চালিয়ে যেতে পারবে। একই সঙ্গে ইউরোপের অন্যান্য দেশেও রুশ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার হুমকি বাড়ছে। প্রতিষ্ঠানটির মহাপরিচালক বাস্তেইন গিয়েরিশ বলেন, ‘ইউক্রেনের বিরুদ্ধে পঞ্চম বছরে রাশিয়ার যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা কমে গেছে বলে তেমন কোনো ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি। থিঙ্কট্যাঙ্কের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালে ক্রেমলিন প্রতিরক্ষায় ব্যয় করেছে অন্তত ১৮৬ বিলিয়ন ডলার। এ ব্যয় দেশটির জিডিপির ৭ দশমিক ৩ শতাংশ। এই অনুপাত যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয়ের দ্বিগুণেরও বেশি এবং যুক্তরাজ্যের তুলনায় প্রায় তিনগুণ। থিঙ্কট্যাঙ্কের
রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যকার যুদ্ধ চার বছর পেরিয়েছে। চলতি বছরেও এ যুদ্ধ বন্ধের কোনো ইঙ্গিত নেই বলে মনে করছেন সামরিক বিশেষজ্ঞরা। এমনকি এ বছল চলতি বছরও পূর্ণমাত্রায় যুদ্ধ চালাতে সক্ষম রাশিয়া। ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ নামে ইউরোপের শীর্ষ সামরিক থিঙ্কট্যাঙ্কের এক প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠে এসেছে।
সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, উদীয়মান অর্থনৈতিক ও জনবল চাপ সত্ত্বেও রাশিয়া ২০২৬ সালেও ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রায় যুদ্ধ চালিয়ে যেতে পারবে। একই সঙ্গে ইউরোপের অন্যান্য দেশেও রুশ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার হুমকি বাড়ছে। প্রতিষ্ঠানটির মহাপরিচালক বাস্তেইন গিয়েরিশ বলেন, ‘ইউক্রেনের বিরুদ্ধে পঞ্চম বছরে রাশিয়ার যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা কমে গেছে বলে তেমন কোনো ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি।
থিঙ্কট্যাঙ্কের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালে ক্রেমলিন প্রতিরক্ষায় ব্যয় করেছে অন্তত ১৮৬ বিলিয়ন ডলার। এ ব্যয় দেশটির জিডিপির ৭ দশমিক ৩ শতাংশ। এই অনুপাত যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয়ের দ্বিগুণেরও বেশি এবং যুক্তরাজ্যের তুলনায় প্রায় তিনগুণ। থিঙ্কট্যাঙ্কের প্রতিরক্ষা অর্থনীতি বিশেষজ্ঞ ফেনেলা ম্যাকগের্টি বলেন, ২০২১ সালের পর থেকে রাশিয়ার সামরিক ব্যয় প্রকৃত অর্থে দ্বিগুণ হয়েছে। এর ফলে দেশটি সামরিক সরঞ্জাম ও সৈন্য নিয়োগে বেশি ব্যয় এবং ইউক্রেনের বিরুদ্ধে স্থল ও আকাশ হামলা অব্যাহত রাখতে সক্ষম হচ্ছে।
বাস্তেইন গিগরিচ বলেন, যুদ্ধবিরতি নিয়ে পশ্চিমা আলোচনার মধ্যেও রাশিয়া ক্রুজ ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ইউএভি (ড্রোন) ব্যবহার করে ইউক্রেনের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ও জনবসতিপূর্ণ এলাকায় হামলা জোরদার করছে।
থিঙ্কট্যাঙ্কের রাশিয়া বিশেষজ্ঞ নিগেল গোল্ড ডেভিস বলেন, রাশিয়ার সেনাবাহিনীতে মাসিক ক্ষয়ক্ষতি তুলনামূলক কমে আসছে। মস্কো ইউক্রেনীয় ফ্রন্টলাইনে আক্রমণের গতি কমিয়ে ক্ষয়ক্ষতির হার আরও কমাতে পারে।
প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, রাশিয়া প্রতিমাসে আনুমানিক ৩০ হাজার থেকে ৩৫ হাজার সেনা নিয়োগ করছে। তবে গোল্ড-ডেভিস জানিয়েছেন, নিয়োগকারীরা মদ্যপ, মাদকাসক্ত এবং অসুস্থ ব্যক্তিদেরও নিতে বাধ্য হওয়ায় বাহিনীর মান কমছে।
চলতি মাসের শুরুর দিকে যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, ডিসেম্বর মাসে রাশিয়ার ৩৫ হাজার ৩০ জন এবং জানুয়ারিতে ৩১ হাজার ৭১৩ জন হতাহত হয়েছে। তবে এ সংখ্যা পশ্চিমাদের উল্লেখ করা ‘প্রতিমাসে প্রায় ৪০ হাজার’ সংখ্যার তুলনায় কিছুটা কম।
থিঙ্কট্যাঙ্কটির মতে, মস্কো যুদ্ধকে ব্যবহার করছে নতুন রণকৌশল, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন আক্রমণ উন্নয়নের জন্য। এর মধ্যে অন্যতম হলো শাহেদ-১৩৬ ড্রোন। এটি ইউরোপের ২ হাজার কিলোমিটার এলাকাজুড়ে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম।
গিয়েরিশ বলেন, এটি ন্যাটোর জন্য ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ও অ্যান্টি-ড্রোন ব্যবস্থায় বিনিয়োগ বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তাকে জোরদার করে। তিনি জানান, গত সেপ্টেম্বর ২১টি রুশ ড্রোন পোল্যান্ডের আকাশসীমায় প্রবেশ করায় কয়েকটি বিমানবন্দর বন্ধ করতে হয় এবং তিনটি অঞ্চলে বাসিন্দাদের ঘরের ভেতরে আশ্রয় নিতে বলা হয়েছিল।
প্রতিবেদনে আরও উঠে এসেছে, ক্রমবর্ধমান রুশ হুমকি এবং ট্রাম্প প্রশাসনের দাবির প্রেক্ষিতে গত গ্রীষ্মে ইউরোপীয় ন্যাটো মিত্ররা এবং কানাডা ২০৩৫ সালের মধ্যে প্রতিরক্ষা বাজেট ৩ দশমিক ৫ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এসময়ে ইউরোপকে নিজস্ব নিরাপত্তার মূল দায়িত্ব নিতে বলা হয়েছে।
থিঙ্কট্যাঙ্কটি তাদের বার্ষিক পর্যালোচনা দ্য মিলিটারি ব্যালান্সে জানিয়েছে, এ লক্ষ্য অর্জনে ‘দীর্ঘস্থায়ী ও উল্লেখযোগ্য বিনিয়োগ’ প্রয়োজন হবে। এটি অনেক ন্যাটোভুক্ত দেশগুলোর জন্য কঠিন হতে পারে। কারণ এতে অন্য খাতে ব্যয় কমাতে হতে পারে।
গিয়েরিশ আরও বলেন, ইউরোপের যুক্তরাষ্ট্রের ওপর সামরিক নির্ভরতা কমাতে ‘২০৩০-এর দশকের মাঝামাঝি পর্যন্ত’ সময় লাগবে। কারণ হিসেবে তিনি বলেন, সামরিক গোয়েন্দা তথ্য, ক্লাউড কম্পিউটিং ও মহাকাশ সম্পদের ক্ষেত্রে তারা এখনো একটি অনিশ্চিত হোয়াইট হাউসের ওপর নির্ভরশীল। আকাশ প্রতিরক্ষা উন্নয়নও একটি অগ্রাধিকার বলে তিনি উল্লেখ করেন।
What's Your Reaction?