চাকরির টোপ দিয়ে বিদেশে পাচার, অভিযোগ এনসিপি নেতার বিরুদ্ধে

গাইবান্ধায় জেলা জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ভারপ্রাপ্ত সদস্য-সচিব রাহাত ইবনে শহীদের বিরুদ্ধে লাখ টাকার চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে বেকার যুবকদের বিদেশে পাচারের অভিযোগ উঠেছে। চাকরি দেওয়ার নাম করে জেলার বিভিন্ন এলাকার যুবকদের টার্গেট করে তিনি লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন বলে জানা গেছে। ভুক্তভোগী ও তাদের স্বজনদের দাবি, এনসিপি নেতা রাহাত ও তার বাবা শহিদুল ইসলাম প্রভাব খাটিয়ে একটি শক্তিশালী চক্রের মাধ্যমে এই কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছেন। তাদের হিসাবমতে, এ পর্যন্ত গাইবান্ধার আটজনসহ সারাদেশে প্রায় ৭৫ জন যুবক এই প্রতারণার শিকার হয়েছেন। অনুসন্ধানে জানা যায়, ফুলছড়ি উপজেলার কঞ্চিপাড়া ইউনিয়নের রসুলপুর গ্রামের কৃষক ছকু মিয়ার ছেলে সাদা মিয়াকে (২৭) কম্বোডিয়ায় ভালো চাকরির প্রলোভন দেখান জেলা এনসিপির ভারপ্রাপ্ত সদস্য-সচিব রাহাত ইবনে শহীদ। ছেলেকে বিদেশে পাঠাতে ছকু মিয়া ৬ লাখ টাকা দেন তাকে। একইভাবে কঞ্চিপাড়া ইউনিয়নের ইয়াসিন আলি (২৭), সাগর (২৭), কিশোর শাওন আহমেদ, আবু হানিফ (২৭), সৈকত (২৭) ও বাদিয়াখালি এলাকার রাশেদের (২৪) কাছ থেকেও বিপুল সংখ্যক টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, রাহাত প্রথমে তাদের কম্ব

চাকরির টোপ দিয়ে বিদেশে পাচার, অভিযোগ এনসিপি নেতার বিরুদ্ধে

গাইবান্ধায় জেলা জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ভারপ্রাপ্ত সদস্য-সচিব রাহাত ইবনে শহীদের বিরুদ্ধে লাখ টাকার চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে বেকার যুবকদের বিদেশে পাচারের অভিযোগ উঠেছে। চাকরি দেওয়ার নাম করে জেলার বিভিন্ন এলাকার যুবকদের টার্গেট করে তিনি লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন বলে জানা গেছে।

ভুক্তভোগী ও তাদের স্বজনদের দাবি, এনসিপি নেতা রাহাত ও তার বাবা শহিদুল ইসলাম প্রভাব খাটিয়ে একটি শক্তিশালী চক্রের মাধ্যমে এই কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছেন। তাদের হিসাবমতে, এ পর্যন্ত গাইবান্ধার আটজনসহ সারাদেশে প্রায় ৭৫ জন যুবক এই প্রতারণার শিকার হয়েছেন।

অনুসন্ধানে জানা যায়, ফুলছড়ি উপজেলার কঞ্চিপাড়া ইউনিয়নের রসুলপুর গ্রামের কৃষক ছকু মিয়ার ছেলে সাদা মিয়াকে (২৭) কম্বোডিয়ায় ভালো চাকরির প্রলোভন দেখান জেলা এনসিপির ভারপ্রাপ্ত সদস্য-সচিব রাহাত ইবনে শহীদ। ছেলেকে বিদেশে পাঠাতে ছকু মিয়া ৬ লাখ টাকা দেন তাকে। একইভাবে কঞ্চিপাড়া ইউনিয়নের ইয়াসিন আলি (২৭), সাগর (২৭), কিশোর শাওন আহমেদ, আবু হানিফ (২৭), সৈকত (২৭) ও বাদিয়াখালি এলাকার রাশেদের (২৪) কাছ থেকেও বিপুল সংখ্যক টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, রাহাত প্রথমে তাদের কম্বোডিয়ায় পাঠিয়ে একটি অপরাধী চক্রের কাছে বিক্রি করে দেন। সেখানে এসব যুবককে বারবার এক কোম্পানি থেকে অন্য কোম্পানির দালালের কাছে বিক্রি করা হয়। পরবর্তীতে ওই দালাল চক্র পরিবারের কাছে মোটা অঙ্কের মুক্তিপণ দাবি করে। অনেকে ভিটেমাটি বিক্রি করে টাকা পাঠিয়ে সন্তানদের দেশে ফিরিয়ে আনেন। ছয়জন ফিরলেও বাকিরা এখনো ফেরার অপেক্ষায় রয়েছেন।

সাদা মিয়ার বাবা ছকু মিয়া আক্ষেপ করে বলেন, ‘আটটি গরু বিক্রি ও ঋণ করে রাহাতকে টাকা দিয়েছিলাম। সে আমার ছেলের সঙ্গে প্রতারণা করে তাকে দালালের কাছে বিক্রি করে দিয়েছে।’

কম্বোডিয়া ফেরত যুবক ইয়াসিন জানান, সেখানে তাদের দিয়ে অবৈধ কাজ করানোর চেষ্টা করা হতো। রাজি না হলে চলত অমানবিক শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন। ইয়াসিনকে বৈদ্যুতিক শক দিয়ে নির্যাতন করার লোমহর্ষক বর্ণনাও দেন তিনি। পরবর্তীতে বন-জঙ্গলে পালিয়ে থেকে এবং পরিবারের দেওয়া মুক্তিপণের বিনিময়ে পাসপোর্ট ফিরে পেয়ে তারা দেশে ফেরেন।

ইয়াসিনের দাবি, তিনি ফুলছড়ি থানায় অভিযোগ দিতে গেলেও পুলিশ তা গ্রহণ করেনি।

অভিযোগের বিষয়ে রাহাত ইবনে শহীদ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘বায়ারদের সঙ্গে আমার সম্পর্ক রয়েছে। কাউকে বিদেশ পাঠানোর ব্যবসায় আমি জড়িত নই।’

এনসিপির জেলা আহ্বায়ক খাদেমুল ইসলাম খুদির সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

ফুলছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুরুল হুদা বলেন, ‘এ ধরনের কোনো ঘটনা জানা নেই। কেউ অভিযোগও করেনি। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow