চাণক্য বাড়ৈর গুচ্ছ কবিতা

বসন্ত বাসনা ফাগুন এলো, শরীর যেন শুকনো কুলের কাঠ তুমি এসে আগুন দিলে তাতে এখন যেন জানো না কিচ্ছুটি, নিস্তব্ধ নিপাট একলা আমি বিপন্ন মৌতাতে। না হয় তুমি থাকো এমন ধোঁয়া তুলসীর পাতা আমার গায়ে কলঙ্কছাই মাখি আধেক চুমু দিলে যখন, কাঁপছিল বুক মাথা সেই স্মৃতি আগলে ধরে থাকি। কী দেখালে! এক পলকে সমস্ত সুন্দর কী অকরুণ আগুনজ্বলা রূপ সেদিন থেকে সংগোপনে পুড়ছে নিরন্তর যৌবনবনে ব্যক্তিগত ধূপ। এখন আবার ফাগুন এল ফাগুন দিগ্বিদিক তুমি কি তার প্রতিধ্বনি পেলে উসকে আছি, তুষের মতো পুড়ব ধিকিধিক  তুমি এসে আগুন দিয়ো জ্বেলে।     তৃষ্ণানদী তোকে দেখার লোভ হয়েছে, নির্লজ্জ দুই চোখ হয়েছে চোখের ভেতর একটা দিঘি নিটোল চোখ চলে যায় পর্যটনে তোর দেহটার সকল কোণে যেথায় ব-দ্বীপ, পাহাড় নদীর ভূগোল।   নিজেকে তুই গোপন রাখিস, আচ্ছাদনে আগুন ঢাকিস বাঁধা কি যায় প্রজাপতির পাখা আমি সকাল সন্ধ্যা রাতে দেখি তোকে কল্পনাতে অনর্থ তোর লজ্জা পুষে রাখা। আকাশ যখন জোছনা ঢালে পদ্ম কেমন পাপড়ি মেলে নেই সেখানে একটুও তো ছল আবার যখন দেখব তোকে, তৃষ্ণা জাগা শুষ্ক চোখে অনাবৃত থাকবি তখন বল? তোকে দেখার লোভ হয়েছে, নির্লজ্জ দুই চোখ হয়েছে সেই দুচোখে তৃষ্ণানদী

চাণক্য বাড়ৈর গুচ্ছ কবিতা

বসন্ত বাসনা

ফাগুন এলো, শরীর যেন শুকনো কুলের কাঠ
তুমি এসে আগুন দিলে তাতে
এখন যেন জানো না কিচ্ছুটি, নিস্তব্ধ নিপাট
একলা আমি বিপন্ন মৌতাতে।

না হয় তুমি থাকো এমন ধোঁয়া তুলসীর পাতা
আমার গায়ে কলঙ্কছাই মাখি
আধেক চুমু দিলে যখন, কাঁপছিল বুক মাথা
সেই স্মৃতি আগলে ধরে থাকি।

কী দেখালে! এক পলকে সমস্ত সুন্দর
কী অকরুণ আগুনজ্বলা রূপ
সেদিন থেকে সংগোপনে পুড়ছে নিরন্তর
যৌবনবনে ব্যক্তিগত ধূপ।

এখন আবার ফাগুন এল ফাগুন দিগ্বিদিক
তুমি কি তার প্রতিধ্বনি পেলে
উসকে আছি, তুষের মতো পুড়ব ধিকিধিক 
তুমি এসে আগুন দিয়ো জ্বেলে।
 

 

তৃষ্ণানদী

তোকে দেখার লোভ হয়েছে, নির্লজ্জ দুই চোখ হয়েছে
চোখের ভেতর একটা দিঘি নিটোল
চোখ চলে যায় পর্যটনে তোর দেহটার সকল কোণে
যেথায় ব-দ্বীপ, পাহাড় নদীর ভূগোল।
 
নিজেকে তুই গোপন রাখিস, আচ্ছাদনে আগুন ঢাকিস
বাঁধা কি যায় প্রজাপতির পাখা
আমি সকাল সন্ধ্যা রাতে দেখি তোকে কল্পনাতে
অনর্থ তোর লজ্জা পুষে রাখা।

আকাশ যখন জোছনা ঢালে পদ্ম কেমন পাপড়ি মেলে
নেই সেখানে একটুও তো ছল
আবার যখন দেখব তোকে, তৃষ্ণা জাগা শুষ্ক চোখে
অনাবৃত থাকবি তখন বল?

তোকে দেখার লোভ হয়েছে, নির্লজ্জ দুই চোখ হয়েছে
সেই দুচোখে তৃষ্ণানদী কাঁদছে ছলাৎছল।

 

 

বইমেলাতে প্রথম দেখা

বইমেলাতে দেখা হবে অবশেষে তোমার-আমার
ঠিক জানি না কেমন হবে মুহূর্তটি প্রথম দেখার
হয়তো সেদিন আসবে তুমি খোঁপায় গুঁজে কৃষ্ণগাঁদা
কেমন রঙের পরবে শাড়ি, কে জানে তা, হলুদ-সাদা?
ফাগুন মাসের শেষ বিকেলে মাঠের ধুলো, প্রচণ্ড ভিড়
তার ভেতরে উন্মনা খুব আমরা দুজন লাজুক তিতির
ভাবতে পারো, আমার কত শত্রু হবে এক বিকেলে?
ওরা আমার একহাত নেবে একটুখানি সুযোগ পেলে।
যা হবে হোক, নিন্দুকেরা বলুক যা-তা, থোড়াই কেয়ার
বইমেলাতে দেখা হবে ঠিক সময়ে তোমার-আমার।

 

আমরা তুমুল ঘুরব দুজন বইয়ের গন্ধে নাক ডুবিয়ে
কিনব কিছু কাঙ্ক্ষিত বই পকেট-টকেট যাক ফুরিয়ে 
হঠাৎ করে দেখা হলে প্রিয় কোনো কবির সাথে 
তোমার নামে অটোগ্রাফ লিখিয়ে নেব এক কথাতে
সেল্ফি যদি তুলতেই চাও হয়তো তিনি হবেন রাজি
তোমার ইচ্ছে সমস্তটাই পূর্ণ হবে, ধরব বাজি 
হালকা শীতের সন্ধেবেলা তোমার ছোঁয়ায় উষ্ণতা পাক
জীবনখাতার স্মৃতির পাতায় দৃশ্যগুলো জীবন্ত থাক।

 

হয়তো এবার খুলবে দুয়ার নতুন কোনো সম্ভাবনার--
এইতো প্রথম বইমেলাতে দেখা হবে তোমার-আমার।

 

 

তোমার বাড়ি যাব


হঠাৎ তোমার বাড়ি যাব, হঠাৎ কোনো দিনের শেষে রাত্রিবেলা
জমবে আবার খুনসুটিটা, শ্যাম্পু করা চুলের ভেতর আঙুল খেলা
হঠাৎ তোমায় চমকে দেব, আচম্বিতে পেছন থেকে জড়িয়ে ধরে 
বোতাম খুলে দেখিয়ে দেব, তোমায় ছাড়া বুকের ভেতর কেমন পোড়ে
হঠাৎ যদি প্রশ্ন করো, দগদগে ঘা বুকে নিয়ে কেমনে বাঁচি?
ওই যে তুমি চোখ নামিয়ে, মিথ্যে করে প্রায়ই বলো 'পাশেই আছি'!

 

তাইতো আবার হঠাৎ যাব, বাঁচার প্রবল ইচ্ছে নিয়ে তোমার কাছে
মেখে নেব সমস্ত গা'য় তোমার অঙ্গ-সঞ্জীবনী, আর যা আছে...

 

 

বৈয়াম

 

ভাঁড়ারের পুরোনো বৈয়াম হয়ে আছি

একমুঠো লবঙ্গের মতো কাম অথবা
কয়েক রোঁয়া রসুনের মতো ক্রোধ
কিংবা লোভ এলাচের মতো করে কেউ
রেখে দিয়েছিল- সযত্নে  জমা করা আছে

রাখা ছিল বিনয়, সততা, কিছু সংস্কার...
তার কিছু চাপা পড়ে গেল মোহ আর মদে
গোলমরিচের মতো মাৎসর্য্য রাখা ছিল কিছু
কিছু ঘৃণা, হিংসা ছিল জিরা আর তেজপাতার মতো
তা-ও আছে, আছে প্রেম... সত্ত্ব, রজো, তমো... জয়ত্রীর মতো

যাকিছু ছিল সব রাখা আছে...

সেই কবে ভাঁড়ারে এসেছি- রুপোর বৈয়াম-
মুখ খুলতেই আজ অচেনা ঝাঁজ বের হয়ে আসে-

 

চাণক্য বাড়ৈ : জন্ম ২৮ ফাল্গুন, ১৩৮৮ বঙ্গাব্দ (১২ মার্চ, ১৯৮২ খ্রিস্টাব্দ); বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলার রায়গ্রামে। মা পিপাসা বাড়ৈ, বাবা চিত্তরঞ্জন বাড়ৈ। 

এসএস নিকেতন খালিশপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে এসএসসি, চিতলমারী শেরে বাংলা ডিগ্রি কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ছাপচিত্র বিভাগে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর। বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়াতে সাংবাদিকতা শেষে বর্তমানে প্রাথমিক শিক্ষক প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউ, পিটিআইতে ইন্সট্রাক্টর পদে কর্মরত।

 

প্রকাশিত বই
কবিতাগ্রন্থ
১। পাপ ও পুনর্জন্ম, ঐতিহ্য প্রকাশনী, ২০১২।
২। চাঁদের মাটির টেরাকোটা, বিভাস প্রকাশন, ২০১৫।
৩। সুন্দরবন সিরিজ, ভাষাচিত্র প্রকাশনী, ২০২১।

 

উপন্যাস
১। কাচের মেয়ে, ভাষাচিত্র প্রকাশনী, ২০১৯।
২। জলমানুষ, প্রসিদ্ধ পাবলিকেশন, ২০২০।
৩। খুনলিপি, ভাষাচিত্র প্রকাশনী, ২০২৩।
৪। অরণ্য দস্যু, প্রসিদ্ধ প্রকাশনী, ২০২৬।

 

শিশুতোষ
১। এলিয়েন, (ছড়াগ্রন্থ) পাঞ্জেরী পাবলিশার্স লিমিটেড, ২০১৯।
২। আলোর পরি, (গল্প)  পেন বুকস পাবলিকেশন, ২০২৪।

৩। ভূতবন্ধু (গল্পগ্রন্থ), প্রসিদ্ধ পাবলিকেশন, ২০২৪।

 

পুরস্কার
১। আইএফআইসি ব্যাংক নিবেদিত কালি ও কলম তরুণ কবি ও লেখক পুরস্কর ২০২১ (কবিতা বিভাগে)।
২। ফুলকলি সাহিত্য পুরস্কার-২০২০ (কাচের মেয়ে উপন্যাসের জন্য)।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow