চারু ও কারুশিল্পের সামগ্রিক উন্নয়নে ২১ দফা প্রস্তাবনা

বাংলাদেশের চারু ও কারুশিল্পের সামগ্রিক উন্নয়নের লক্ষ্যে সরকারের কাছে ২১ দফা প্রস্তাবনা পেশ করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী চারু ও কারুশিল্পী দল। বুধবার (৪ মার্চ) সচিবালয়ে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী; আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে তাদের কার্যালয়ে সংগঠনের সাত সদস্যের প্রতিনিধি দল সৌজন্য সাক্ষাৎ করে এবং সংস্কৃতি মন্ত্রীর কাছে ২১ দফা প্রস্তাবনা পেশ করে। সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী চারু ও কারুশিল্পী দলের সভাপতি অধ্যাপক ড. শেখ মনির উদ্দিন এবং সাধারণ সম্পাদক শিল্পী সঞ্জয় কুমার দে’র নেতৃত্বে প্রতিনিধি দলে আরও ছিলেন, সংগঠনের সিনিয়র সহ-সভাপতি শিল্পী ড. মো. মফিদুল আলম খান, সাংগঠনিক সম্পাদক শিল্পী কিউ এইচ এম ওয়াহিদুজ্জামান রাজন এবং উপদেষ্টা শিল্পী দেবাশীষ পাল, শিল্পী সরকার জিয়া উদ্দিন আহাম্মদ ও শিল্পী মো. আব্দুল অযীয। সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরীর সঙ্গে আলোচনায় বাংলাদেশের চারু ও কারুশিল্পের বর্তমান অবস্থা তুলে ধরেন প্রতিনিধি দলের সদস্যরা। তারা বলেন, বাংলাদেশে বহু মানুষ (আনুমানিক প্রায় দশ লক্ষ) সৃজনশীল পেশার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। বর্তমা

চারু ও কারুশিল্পের সামগ্রিক উন্নয়নে ২১ দফা প্রস্তাবনা
বাংলাদেশের চারু ও কারুশিল্পের সামগ্রিক উন্নয়নের লক্ষ্যে সরকারের কাছে ২১ দফা প্রস্তাবনা পেশ করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী চারু ও কারুশিল্পী দল। বুধবার (৪ মার্চ) সচিবালয়ে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী; আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে তাদের কার্যালয়ে সংগঠনের সাত সদস্যের প্রতিনিধি দল সৌজন্য সাক্ষাৎ করে এবং সংস্কৃতি মন্ত্রীর কাছে ২১ দফা প্রস্তাবনা পেশ করে। সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী চারু ও কারুশিল্পী দলের সভাপতি অধ্যাপক ড. শেখ মনির উদ্দিন এবং সাধারণ সম্পাদক শিল্পী সঞ্জয় কুমার দে’র নেতৃত্বে প্রতিনিধি দলে আরও ছিলেন, সংগঠনের সিনিয়র সহ-সভাপতি শিল্পী ড. মো. মফিদুল আলম খান, সাংগঠনিক সম্পাদক শিল্পী কিউ এইচ এম ওয়াহিদুজ্জামান রাজন এবং উপদেষ্টা শিল্পী দেবাশীষ পাল, শিল্পী সরকার জিয়া উদ্দিন আহাম্মদ ও শিল্পী মো. আব্দুল অযীয। সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরীর সঙ্গে আলোচনায় বাংলাদেশের চারু ও কারুশিল্পের বর্তমান অবস্থা তুলে ধরেন প্রতিনিধি দলের সদস্যরা। তারা বলেন, বাংলাদেশে বহু মানুষ (আনুমানিক প্রায় দশ লক্ষ) সৃজনশীল পেশার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। বর্তমানে বিশ্ব-বাজারব্যবস্থায় শিল্পনির্মাণ পেশা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং সম্মানজনক হলেও বাংলাদেশে চারু ও কারুশিল্পীদের পেশাগত স্বীকৃতি নেই; নেই কোনো মানসম্পন্ন প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি। এই বাস্তবতা থেকেই সরকারের মনোযোগ আকর্ষণের লক্ষ্যে তারা সংস্কৃতি মন্ত্রীর কাছে ২১ দফা প্রস্তাবনা পেশ করেন। প্রস্তাবনাসমূহ হলো ১. ‘সৃজনশীল শিক্ষা অধিদপ্তর’ নামে নতুন একটি অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠা করা এবং প্রাথমিক থেকে মাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত ‘চারু ও কারুকলা শিক্ষা’ বাধ্যতামূলক করা। পঠন-পাঠনে ‘শিল্পকলার ইতিহাস ও নন্দনতত্ত্ব’ অন্তর্ভুক্ত করা। ২. কর্মমুখী শিক্ষায় চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সৃজনশীল পেশাভিত্তিক আধুনিক-যুগোপযোগী কারিকুলাম প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করা। শিল্পকলার ভিন্ন ভিন্ন মাধ্যমভিত্তিক ‘হাতে-কলমে শিক্ষা ব্যবস্থা’ স্থাপন করা। ডিজিটাল শিল্পমাধ্যম যথা, অ্যানিমেশন, ভার্চুয়াল রিয়্যালিটি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ব্যবহারবিধি ইত্যাদি হাতে-কলমে শিক্ষার ব্যবস্থা করা। ৩. চারুকলা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে যোগ্যতা হিসেবে স্বল্পমেয়াদি ডিপ্লোমা ডিগ্রীকে মূল্যায়ন বন্ধ করা। বরং বিএফ‌এ (পাস), অনার্স এবং এম‌এফ‌এ ডিগ্রিধারী দক্ষ শিক্ষক নিয়োগ দেয়ার মাধ্যমে ‘চারু ও কারুকলা’ শিক্ষার প্রকৃত মানোন্নয়ন করা। চারু ও কারুশিল্প বিষয়ে উদ্ভাবনধর্মী গবেষণার জন্য মেধাবৃত্তি প্রণয়ন করা। ৪. নান্দনিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার নামে বিদেশি আগ্রাসন থেকে বাংলাদেশি চারু ও কারুশিল্পের মৌলিকত্ব রক্ষা ও সুনির্দিষ্টকরণ, অনুশীলনের রূপরেখা নির্মাণ এবং বাস্তবায়নে অভিভাবকের ভূমিকা নিশ্চিত করতে ‘জাতীয় চারু ও কারুশিল্প কমিশন’ গঠন করা। বাংলাদেশের চারু ও কারুশিল্পের সার্বিক উন্নয়নের জন্য ‘চারু ও কারুশিল্প উন্নয়ন বোর্ড’ গঠন করা।  ৫. চারু ও কারুশিল্পীদের জন্য চিকিৎসা সহায়তা তহবিল গঠন এবং স্বাস্থ্যবিমার ব্যবস্থা করা। প্রান্তিক পর্যায়ের শিল্পীদের জন্য স্বাস্থ্য-কার্ডের ব্যবস্থা করা এবং চিকিৎসা খরচে ভর্তুকি দেওয়া। বয়স্ক চারু ও কারুশিল্পীদের মাসিক ভাতা প্রদানের ব্যবস্থা গ্রহণ করা। ৬. বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী কারুশিল্প বাঁচিয়ে রাখতে সুনির্দিষ্ট সাংস্কৃতিক নীতিমালা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করা। ৭. বিভিন্ন ধরনের কারুশিল্পকে পেশাগত স্বীকৃতি দেয়া এবং শিল্পীদের জন্য রাষ্ট্রীয়ভাবে জাতীয় চারু ও কারুশিল্পী পুরস্কার দেয়ার ব্যবস্থা করা।  ৮. জলবায়ু পরিবর্তনের হুমকির সম্মুখীন কারুশিল্পের বিভিন্ন প্রাকৃতিক উপকরণসমূহ সংরক্ষণ এবং কাঁচামাল ক্রয়ে ভর্তুকি এবং সুদমুক্ত ঋণ প্রদান করা। ৯. বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী অঞ্চলসমূহে কারুশিল্প-পল্লি স্থাপন এবং অঞ্চলভিত্তিক প্রসিদ্ধ কারুপণ্য প্রদর্শন, উৎপাদন এবং বিপণন ব্যবস্থা চালু করা। ১০. প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর চারু ও কারুশিল্পকে সামাজিক ও পেশাভিত্তিক মূল্যায়নে ব্যবস্থা গ্রহণ করা এবং সাংস্কৃতিক মন্ত্রণালয় কর্তৃক চারু ও কারুশিল্পীদের আন্তর্জাতিক মানের স্বীকৃতিমূলক পরিচয়পত্র প্রদান করা।  ১১. সব নৃগোষ্ঠীর ঐতিহ্যবাহী শিল্পকে সংরক্ষণ ও উন্নয়নের মাধ্যমে মর্যাদা প্রদান করা। গৃহিণী নারী হস্তশিল্পীদের পেশাগত মর্যাদা দেয়া এবং অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করার জন্য পদক্ষেপ গ্রহণ করা। ১২. সরকারি উদ্যোগে নিয়মিত জাতীয় এবং বিভাগীয় পর্যায়ে চারু ও কারুশিল্প প্রদর্শনী/মেলার ব্যবস্থা করা। ১৩. দেশের মধ্যে আন্তর্জাতিক চারু ও কারুশিল্পী সম্মেলন এবং কর্মশালা আয়োজন করা। গুণী শিল্পীদের মাস্টার ট্রেইনার হিসেবে মূল্যায়ন করা, আর্থিক সহায়তা এবং তাদের দ্বারা নতুন প্রজন্মের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা। ১৪. চারু ও কারুশিল্পের প্রসারে আন্তর্জাতিক মানের গ্যালারি ও বিপণন ব্যবস্থা স্থাপন করা এবং আন্তর্জাতিক প্রদর্শনীর আয়োজন করা। চারু ও কারুপণ্য রপ্তানিতে ভর্তুকি প্রদান, ট্যাক্স ফ্রি সুবিধা দেয়া। শিল্পকর্ম বিপণনে মধ্যস্বত্বভোগীদের নিয়ন্ত্রণ করা। শিল্পীদের রয়্যালটি প্রদানের ব্যবস্থা করা।  ১৫. চারু ও কারুশিল্পের জন্য বিশেষায়িত পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় অর্থাৎ ‘বাংলাদেশ চারু ও কারুকলা বিশ্ববিদ্যালয়’ প্রতিষ্ঠা করা এবং দেশের সব আর্ট কলেজকে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত করা। ১৬. সকল পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজে চারু এবং কারুশিল্পের বিভিন্ন মাধ্যমভিত্তিক বিভাগ প্রতিষ্ঠা করা। ১৭. স্বতন্ত্র শিল্পকর্ম সৃষ্টি এবং সৃজনশীল কাজকে গবেষণা কর্মের স্বীকৃতি দেয়া।  ১৮. চারু ও কারুকলা বিষয়ে ব্যবহারিক কাজের মাধ্যমে এমফিল, পিএইচডি এবং পোস্টডক করার ব্যবস্থা করা।  ১৯. যথাযথ প্রাতিষ্ঠানিক কর্তৃপক্ষ গঠনের মাধ্যমে শিল্পকর্মকে বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পত্তি হিসেবে রেজিস্ট্রেশন করার সুযোগ সৃষ্টি করা। ২০. জাতীয় প্রতিষ্ঠানগুলোতে চারু ও কারুশিল্পীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা।  ২১. শিল্পকলা একাডেমি, শিশু একাডেমি, বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর, বাংলাদেশ টেলিভিশন, জাতীয় গণমাধ্যম ইনস্টিটিউট, জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি জাদুঘর, প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর, গণগ্রন্থাগার অধিদপ্তর, আরকাইভস ও গ্রন্থাগার অধিদপ্তর, জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি), বাংলাদেশ বেতার, বাংলাদেশ শিল্পী কল্যাণ ট্রাস্ট, বাংলাদেশ ইউনেস্কো জাতীয় কমিশন, বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশনসহ সংশ্লিষ্ট সকল প্রতিষ্ঠানের মহাপরিচালক ও পরিচালক পদসহ উচ্চতর সকল পদে চারু ও কারুকলার মেধাবী শিল্পীদের পদায়ন করা। আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামানের সাথে আলোচনায় বাংলাদেশের চারু ও কারুশিল্পের সার্বিক উন্নয়নের জন্য যথাযথ আইন প্রণয়ন, প্রান্তিক শিল্পীদের জন্য আইনি সাহায্য এবং সুবিচার প্রাপ্তির জন্য মন্ত্রণালয়ের সহায়তার অনুরোধ করা হয়।  এ ছাড়া বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাতের সাথে সাক্ষাতের সময় বাংলাদেশের পর্যটনখাতের উন্নয়নে চারু ও কারুশিল্পের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা তুলে ধরা হয়। এ সময় বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী অঞ্চলসমূহে কারুশিল্প-পল্লি স্থাপন এবং অঞ্চলভিত্তিক প্রসিদ্ধ কারুপণ্য প্রদর্শন, উৎপাদন এবং বিপণন ব্যবস্থা চালু করার বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতার আহ্বান জানানো হয়।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow