চা বাগান দখলে নিলেন সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান
পঞ্চগড়ের বোদায় প্রায় সাড়ে সাত বিঘা চা বাগানসহ জমি জোরপূর্বক দখল করে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে মাড়েয়া বামনহাট ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান রুহুল আমিন প্রধানের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীরা বোদা থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) দায়ের করেছেন।
সম্প্রতি উপজেলার শালবাড়ি সরদার পাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। অভিযোগ অনুযায়ী, রুহুল আমিন প্রধান তার বাহিনী নিয়ে চা বাগান দখল করে বর্তমানে সেখানে পরিচর্যা করছেন। বাগানে গেলে লিজগ্রহীতাদের প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, রুহুল আমিন প্রধান, তার ভাই রমজান আলী প্রধান, আব্দুর রাজ্জাক প্রধান ও জাকির হোসেন প্রধানের কাছ থেকে দেবীগঞ্জ পৌরসভার মধ্যপাড়া এলাকার ফাহমিদ আল ফরিদ, তাসরিফুল ইসলাম, মমতাজুল আহসান ও আতাউর রহমান ২০১৬ সালের ৩০ অক্টোবর থেকে ২০৪১ সালের ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত ২৫ বছরের জন্য দুই একর ৪০ শতক জমি লিজ নেন। প্রতি বিঘা জমির ভাড়া নির্ধারণ করা হয় সাড়ে আট হাজার টাকা এবং প্রতি পাঁচ বছর পরপর ১০ শতাংশ হারে ভাড়া বৃদ্ধির শর্ত ছিল।
পরবর্তীতে লিজগ্রহীতারা পতিত জমি পরিষ্কার করে সেখানে চা বাগান গড়ে তোলেন। ২০১৮ সালের বন্যায় বাগান ক্ষ
পঞ্চগড়ের বোদায় প্রায় সাড়ে সাত বিঘা চা বাগানসহ জমি জোরপূর্বক দখল করে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে মাড়েয়া বামনহাট ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান রুহুল আমিন প্রধানের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীরা বোদা থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) দায়ের করেছেন।
সম্প্রতি উপজেলার শালবাড়ি সরদার পাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। অভিযোগ অনুযায়ী, রুহুল আমিন প্রধান তার বাহিনী নিয়ে চা বাগান দখল করে বর্তমানে সেখানে পরিচর্যা করছেন। বাগানে গেলে লিজগ্রহীতাদের প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, রুহুল আমিন প্রধান, তার ভাই রমজান আলী প্রধান, আব্দুর রাজ্জাক প্রধান ও জাকির হোসেন প্রধানের কাছ থেকে দেবীগঞ্জ পৌরসভার মধ্যপাড়া এলাকার ফাহমিদ আল ফরিদ, তাসরিফুল ইসলাম, মমতাজুল আহসান ও আতাউর রহমান ২০১৬ সালের ৩০ অক্টোবর থেকে ২০৪১ সালের ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত ২৫ বছরের জন্য দুই একর ৪০ শতক জমি লিজ নেন। প্রতি বিঘা জমির ভাড়া নির্ধারণ করা হয় সাড়ে আট হাজার টাকা এবং প্রতি পাঁচ বছর পরপর ১০ শতাংশ হারে ভাড়া বৃদ্ধির শর্ত ছিল।
পরবর্তীতে লিজগ্রহীতারা পতিত জমি পরিষ্কার করে সেখানে চা বাগান গড়ে তোলেন। ২০১৮ সালের বন্যায় বাগান ক্ষতিগ্রস্ত হলেও পুনরায় তা তৈরি করেন তারা। করোনাকালে লোকসান হলেও নিয়মিত জমির ভাড়া পরিশোধ করা হয় বলে দাবি তাদের।
লিজগ্রহীতাদের অভিযোগ, সম্প্রতি কাঁচা চা পাতার দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় লোভে পড়ে লিজের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই রুহুল আমিন প্রধান চুক্তি ভঙ্গ করে বাগান দখল করে নেন। এমনকি বাগানে গেলে তাদের হুমকি দিয়ে তাড়িয়ে দেওয়া হয়। বর্তমানে তারা বাগানে যেতে পারছেন না এবং নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন।
লিজগ্রহীতা তাসরিফুল ইসলাম তমু বলেন, চারজন মিলে স্বাবলম্বী হওয়ার জন্য আমরা জমিটি লিজ নিয়েছিলাম। জঙ্গল পরিষ্কার করে চা বাগান করেছি। বন্যা ও করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত হলেও ভাড়া নিয়মিত দিয়েছি। এখন চায়ের দাম বাড়তেই আমাদের বাগান দখল করে নেওয়া হয়েছে। আমরা গেলে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হচ্ছে।
অভিযোগের বিষয়ে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান রুহুল আমিন প্রধান বলেন, জমি আমি লিজ দিয়েছিলাম ঠিক, কিন্তু তারা সেখানে আম গাছ লাগিয়েছে। আমাকে কখনো কিছু দেয়নি, দাওয়াতও দেয়নি। আমার বোন অসুস্থ হলে ৪০ হাজার টাকা চেয়েছিলাম, তাও দেয়নি। তাই আমি আমার জমি দখল করে নিয়েছি। এখন তারা বিভিন্ন জায়গায় বিচার দিচ্ছে।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, জমিটি আগে পরিত্যক্ত ছিল এবং লিজগ্রহীতারাই সেখানে চা বাগান তৈরি করেছেন। হঠাৎ করে দখল নেওয়াকে তারা অন্যায় বলে মনে করছেন।
বোদা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোয়েল রানা বলেন, চা পাতা বিক্রির টাকা দুই পক্ষের সম্মতিতে থানায় জমা রয়েছে। এটি চুক্তি সংক্রান্ত বিষয় হওয়ায় তাদের আদালতে মামলা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তবে এ নিয়ে প্রতিদিন বিভিন্ন মহল থেকে তদবির আসছে।