চা শিল্পে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করছে শাবিপ্রবির এফইটি বিভাগ

আজ ২১ মে, আন্তর্জাতিক চা দিবস। টেকসই চা উৎপাদন, শ্রমিক কল্যাণ, নিরাপদ প্রক্রিয়াজাতকরণ ও পরিবেশবান্ধব চাষাবাদের গুরুত্ব তুলে ধরতে বিশ্বজুড়ে এই দিবসটি উদযাপন করা হয়। এবারের চা দিবসের প্রতিপাদ্য ‘সাস্টেইনেবল টি, সাপোর্টিং কমিউনিটিস’। বাংলাদেশের অর্থনীতি ও কৃষিভিত্তিক শিল্পে চায়ের অবদান দীর্ঘদিনের। সিলেট, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ অঞ্চলের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের বড় একটি অংশজুড়ে রয়েছে চা শিল্প। বর্তমানে দেশে প্রায় ১৭০টি চা বাগান রয়েছে। লাখো মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে যুক্ত রয়েছেন এ খাতের সঙ্গে। তবে জলবায়ু পরিবর্তন, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি, আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা এবং মান নিয়ন্ত্রণের মতো নানা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ছে দেশের চা শিল্প। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা ও গবেষণাকে গুরুত্ব দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা। চা শিল্পের অগ্রগতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) ‘ফুড ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টি টেকনোলজি (এফইটি)’ বিভাগ। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, দেশে চা প্রযুক্তিভিত্তিক উচ্চশিক্ষার পথিকৃৎ বিভাগগুলোর অন্যতম এটি। ২০০৪-০৫ শিক্ষাবর্ষে

চা শিল্পে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করছে শাবিপ্রবির এফইটি বিভাগ

আজ ২১ মে, আন্তর্জাতিক চা দিবস। টেকসই চা উৎপাদন, শ্রমিক কল্যাণ, নিরাপদ প্রক্রিয়াজাতকরণ ও পরিবেশবান্ধব চাষাবাদের গুরুত্ব তুলে ধরতে বিশ্বজুড়ে এই দিবসটি উদযাপন করা হয়। এবারের চা দিবসের প্রতিপাদ্য ‘সাস্টেইনেবল টি, সাপোর্টিং কমিউনিটিস’।

বাংলাদেশের অর্থনীতি ও কৃষিভিত্তিক শিল্পে চায়ের অবদান দীর্ঘদিনের। সিলেট, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ অঞ্চলের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের বড় একটি অংশজুড়ে রয়েছে চা শিল্প। বর্তমানে দেশে প্রায় ১৭০টি চা বাগান রয়েছে। লাখো মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে যুক্ত রয়েছেন এ খাতের সঙ্গে।

তবে জলবায়ু পরিবর্তন, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি, আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা এবং মান নিয়ন্ত্রণের মতো নানা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ছে দেশের চা শিল্প। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা ও গবেষণাকে গুরুত্ব দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা। চা শিল্পের অগ্রগতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) ‘ফুড ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টি টেকনোলজি (এফইটি)’ বিভাগ।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, দেশে চা প্রযুক্তিভিত্তিক উচ্চশিক্ষার পথিকৃৎ বিভাগগুলোর অন্যতম এটি। ২০০৪-০৫ শিক্ষাবর্ষে ‘টি টেকনোলজি’ নামে যাত্রা শুরু করা বিভাগটি পরে ‘ফুড অ্যান্ড টি টেকনোলজি’ হয়ে বর্তমানে পূর্ণাঙ্গ ‘ফুড ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টি টেকনোলজি’ বিভাগে রূপ নেয়।

বিভাগটিতে চা উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাতকরণ, খাদ্য প্রকৌশল, গুণগত মান নিয়ন্ত্রণ, খাদ্য নিরাপত্তা ও আধুনিক প্রযুক্তি নিয়ে পাঠদান ও গবেষণা পরিচালিত হয়। শিক্ষার্থীরা চা শিল্পের বিভিন্ন ধাপ সম্পর্কে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণের সুযোগ পান। ফলে একাডেমিক জ্ঞানের পাশাপাশি শিল্প খাতের বাস্তব অভিজ্ঞতাও অর্জন করছেন তারা।

বিভাগটির গবেষণার গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রগুলোর মধ্যে রয়েছে চায়ের গুণগত মান উন্নয়ন, গ্রিন টি ও ভ্যালু অ্যাডেড টি উদ্ভাবন, নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন এবং টেকসই প্রযুক্তি উন্নয়ন। পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা ও পরিবেশবান্ধব উৎপাদন পদ্ধতি নিয়েও কাজ করছেন গবেষকরা।

চা শিল্পে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করছে শাবিপ্রবির এফইটি বিভাগ

সংশ্লিষ্টরা জানান, শাবিপ্রবির এফইটি বিভাগ দেশের বিভিন্ন চা বাগান, গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করছে। এর মাধ্যমে শিল্প একাডেমিক সহযোগিতা বাড়ছে এবং বাস্তব সমস্যার বৈজ্ঞানিক সমাধান বেরিয়ে আসছে। নিয়মিত আয়োজন করা হচ্ছে সেমিনার, কর্মশালা ও ইন্ডাস্ট্রিয়াল ট্রেনিং।

চা বিশেষজ্ঞ ও বিভাগের অধ্যাপক ড. ইফতেখার আহমদ বলেন, বর্তমানে চা শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে গবেষণা, প্রযুক্তি ও দক্ষ মানবসম্পদের বিকল্প নেই। আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে মানসম্পন্ন উৎপাদন, আধুনিক প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং দক্ষ জনবল তৈরি করতে হবে।

শাবিপ্রবির এফইটি বিভাগ সেই লক্ষ্য নিয়েই কাজ করছে। শিক্ষার্থীদের দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে প্রস্তুত করা হচ্ছে যাতে তারা দেশের চা শিল্পে নেতৃত্ব দিতে পারে বলে জানান এই অধ্যাপক।

এসএইচ জাহিদ/এফএ/এমএস

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow