চিকিৎসা দিতে ব্যর্থ: নামের আগে ‘ডাক্তার’ লেখা বাদ দিতে বললো আদালত

ধর্ষণের শিকার চার বছর বয়সী এক শিশুকে সময়মতো চিকিৎসা না দেওয়ার অভিযোগে দুটি বেসরকারি হাসপাতাল ও সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের তীব্র ভর্ৎসনা করেছে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট। শুক্রবার (১৮ জুলাই) প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে উদ্দেশ করে বলেন, আপনারা যদি দায়িত্ব পালন না করেন, তাহলে নামের আগে ‘ডাক্তার’ লেখা বাদ দিন। আদালত আরও মন্তব্য করে, শিশুটি দরিদ্র ছিল বলেই আপনারা তাকে উপেক্ষা করেছেন। তার পরিবারের চিকিৎসার খরচ বহনের সামর্থ্য ছিল না। ঘটনাটি গত ১৬ মার্চ ভারতের উত্তর প্রদেশের গাজিয়াবাদে। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রতিবেশী এক ব্যক্তি চকলেট কিনে দেওয়ার কথা বলে চার বছরের শিশুটিকে বাড়ি থেকে নিয়ে যায়। পরে পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে তাকে রক্তাক্ত ও অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করেন। শিশুটিকে প্রথমে দুটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হলেও সেখানে ভর্তি নিতে অস্বীকৃতি জানানো হয় বলে অভিযোগ। পরে তাকে গাজিয়াবাদ জেলা হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। শিশুটির বাবা দাবি করেন, উদ্ধার করার পর প্রায় দুই ঘণ্টা তার মেয়ে জীবিত ছিল। সময়মতো চিকিৎসা পেলে তাকে বাঁচানো সম্ভব হতে পারত।

চিকিৎসা দিতে ব্যর্থ: নামের আগে ‘ডাক্তার’ লেখা বাদ দিতে বললো আদালত

ধর্ষণের শিকার চার বছর বয়সী এক শিশুকে সময়মতো চিকিৎসা না দেওয়ার অভিযোগে দুটি বেসরকারি হাসপাতাল ও সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের তীব্র ভর্ৎসনা করেছে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট।

শুক্রবার (১৮ জুলাই) প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে উদ্দেশ করে বলেন, আপনারা যদি দায়িত্ব পালন না করেন, তাহলে নামের আগে ‘ডাক্তার’ লেখা বাদ দিন।

আদালত আরও মন্তব্য করে, শিশুটি দরিদ্র ছিল বলেই আপনারা তাকে উপেক্ষা করেছেন। তার পরিবারের চিকিৎসার খরচ বহনের সামর্থ্য ছিল না।

ঘটনাটি গত ১৬ মার্চ ভারতের উত্তর প্রদেশের গাজিয়াবাদে। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রতিবেশী এক ব্যক্তি চকলেট কিনে দেওয়ার কথা বলে চার বছরের শিশুটিকে বাড়ি থেকে নিয়ে যায়। পরে পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে তাকে রক্তাক্ত ও অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করেন।

শিশুটিকে প্রথমে দুটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হলেও সেখানে ভর্তি নিতে অস্বীকৃতি জানানো হয় বলে অভিযোগ। পরে তাকে গাজিয়াবাদ জেলা হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

শিশুটির বাবা দাবি করেন, উদ্ধার করার পর প্রায় দুই ঘণ্টা তার মেয়ে জীবিত ছিল। সময়মতো চিকিৎসা পেলে তাকে বাঁচানো সম্ভব হতে পারত।

সুপ্রিম কোর্টের গঠিত বিশেষ তদন্ত দল (এসআইটি) তদন্তে এই অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার কথা জানায়।

প্রধান বিচারপতি বলেন, হাসপাতালে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা-সুবিধা না থাকলেও চিকিৎসকদের উচিত ছিল শিশুটিকে অন্য হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করা। কিন্তু তারা মানবিক দায়িত্ব পালন করেননি।

আদালত শাস্তিস্বরূপ হাসপাতাল দুটিকে শিশুটির পরিবারকে স্বেচ্ছায় আর্থিক সহায়তা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। নির্দেশ না মানলে তাদের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত জরিমানাসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ারও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।

এ ঘটনায় স্থানীয় পুলিশের ভূমিকাও প্রশ্নের মুখে পড়েছে। অভিযোগ রয়েছে, শিশুটির পরিবার প্রথমে থানায় অভিযোগ করতে গেলে পুলিশ মামলা নেওয়ার বদলে তাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করে। পরে জনরোষের মুখে ১৭ মার্চ এফআইআর দায়ের করা হয় এবং ১৮ মার্চ অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়।

তবে আদালত উল্লেখ করেছে, প্রাথমিক এফআইআরে শিশু যৌন নির্যাতন প্রতিরোধ আইন (পকসো) এবং ধর্ষণের ধারাও অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।

সুপ্রিম কোর্ট বলেছে, এই ঘটনায় দুটি বেসরকারি হাসপাতাল ও স্থানীয় পুলিশের চরম উদাসীনতা ও অমানবিক আচরণ অত্যন্ত উদ্বেগজনক।

সূত্র: এনডিটিভি

এমএসএম

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow