চিকিৎসা নিতে এসে খোয়া যাচ্ছে টাকা-স্বর্ণালংকার, উদ্বিগ্ন রোগীরা

মাগুরার শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগী বেশে সক্রিয় হয়ে উঠেছে সংঘবদ্ধ চোরচক্র। হাসপাতালের টিকিট কাউন্টার, বহির্বিভাগ ও ওষুধ সংগ্রহের লাইনে অপেক্ষারত রোগী ও তাদের স্বজনদের কাছ থেকে কৌশলে টাকা, মোবাইল ফোন, স্বর্ণালংকারসহ মূল্যবান সামগ্রী চুরির অভিযোগ উঠেছে। একের পর এক ঘটনায় রোগী ও স্বজনদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। শনিবার (৯ মে) উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ঘুরে এ তথ্য জানা গেছে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে হাসপাতালটিতে এ ধরনের ঘটনা ঘটলেও চোরচক্রের কাউকে শনাক্ত বা আটক করা সম্ভব হয়নি। এতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষও উদ্বিগ্ন। হাসপাতাল ঘুরে রোগী ও তাদের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রতিদিন বহির্বিভাগে শত শত রোগীর সমাগম ঘটে। টিকিট সংগ্রহ, চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ও ওষুধ নিতে দীর্ঘ সময় নিয়ে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। আর এই ভিড় ও ব্যস্ততার সুযোগ নিয়েই সক্রিয় হয়ে ওঠে চোরচক্র। ভুক্তভোগী তখলপুর গ্রামের নূর জাহান বেগম বলেন, কিছুদিন আগে ব্যাংক থেকে ১০ হাজার টাকা তুলে ব্যাগে রেখে ডাক্তার দেখাতে হাসপাতালে যাই। সিরিয়ালে দাঁড়িয়ে চিকিৎসা নেওয়ার পর বাইরে এসে দেখি ব্যাগে টাকা নেই। কখন যে চোরেরা টাকা

চিকিৎসা নিতে এসে খোয়া যাচ্ছে টাকা-স্বর্ণালংকার, উদ্বিগ্ন রোগীরা

মাগুরার শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগী বেশে সক্রিয় হয়ে উঠেছে সংঘবদ্ধ চোরচক্র। হাসপাতালের টিকিট কাউন্টার, বহির্বিভাগ ও ওষুধ সংগ্রহের লাইনে অপেক্ষারত রোগী ও তাদের স্বজনদের কাছ থেকে কৌশলে টাকা, মোবাইল ফোন, স্বর্ণালংকারসহ মূল্যবান সামগ্রী চুরির অভিযোগ উঠেছে। একের পর এক ঘটনায় রোগী ও স্বজনদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।

শনিবার (৯ মে) উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ঘুরে এ তথ্য জানা গেছে।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে হাসপাতালটিতে এ ধরনের ঘটনা ঘটলেও চোরচক্রের কাউকে শনাক্ত বা আটক করা সম্ভব হয়নি। এতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষও উদ্বিগ্ন।

হাসপাতাল ঘুরে রোগী ও তাদের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রতিদিন বহির্বিভাগে শত শত রোগীর সমাগম ঘটে। টিকিট সংগ্রহ, চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ও ওষুধ নিতে দীর্ঘ সময় নিয়ে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। আর এই ভিড় ও ব্যস্ততার সুযোগ নিয়েই সক্রিয় হয়ে ওঠে চোরচক্র।

ভুক্তভোগী তখলপুর গ্রামের নূর জাহান বেগম বলেন, কিছুদিন আগে ব্যাংক থেকে ১০ হাজার টাকা তুলে ব্যাগে রেখে ডাক্তার দেখাতে হাসপাতালে যাই। সিরিয়ালে দাঁড়িয়ে চিকিৎসা নেওয়ার পর বাইরে এসে দেখি ব্যাগে টাকা নেই। কখন যে চোরেরা টাকাটা নিয়ে গেছে বুঝতেই পারিনি।

তিনি আরও বলেন, আমার সামনেই আরেক নারীর কানের দুলও চুরি হয়। হাসপাতালে সাধারণ রোগীদের কোনো নিরাপত্তা নেই।

উপজেলার হোগলডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা নন্দিতা দাস বলেন, টিকিট কাউন্টারে লাইনে দাঁড়িয়ে টিকিট কাটার পর ছোট পার্সটি ভ্যানিটি ব্যাগে রেখে দিই। কিছুক্ষণ পর দেখি পার্সসহ ১০ হাজার টাকা নেই। ভিড়ের মধ্যেই কেউ নিয়ে গেছে।

আরেক ভুক্তভোগী ফরিদা বেগম বলেন, টিকিট কাটার সময় পেছন থেকে এক বোরখাপরা নারী আমার গলায় হাত দেয়। তখন কিছু বুঝিনি। বাসায় ফিরে দেখি সোনার চেইনটি নেই।

হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা ষাটোর্ধ্ব আলমগীর হোসেন বলেন, চোরেরা মূলত নারী রোগীদের টার্গেট করছে। প্রায়ই এমন ঘটনা ঘটছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. আশরাফুজ্জামান লিটন বলেন, এ ধরনের ঘটনায় আমরাও অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছি। অনেক চেষ্টা করেও চোরদের শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। রোগী ও স্বজনদের সতর্ক থাকার জন্য বারবার বলা হচ্ছে। সমন্বিতভাবে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা চলছে।

মো. মিনারুল ইসলাম জুয়েল/এনএইচআর/জেআইএম

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow