চিনি ছাড়া ৪২ দিন, ‘অবিশ্বাস্য’ পরিবর্তন লেখিকার
প্রতিদিন অন্তত এক-দুটি চকোলেট বা মিষ্টিজাতীয় খাবার খাওয়া ছিল বিবিসির বিজ্ঞানবিষয়ক পুরস্কারজয়ী লেখিকা মেলিসা হোজেনবুমের দীর্ঘদিনের অভ্যাস। কিন্তু অতিরিক্ত চিনি সেবনের স্বাস্থ্যঝুঁকি; যেমন দাঁতের ক্ষয়, টাইপ-২ ডায়াবেটিস, হৃদরোগ এবং স্থূলতার কথা চিন্তা করে তিনি এক সাহসী সিদ্ধান্ত নেন। টানা ৪২ দিন বা ছয় সপ্তাহ তিনি কোনো ধরণের ‘অ্যাডেড সুগার’ বা কৃত্রিম চিনি ছোঁবেন না। এই সময়ের মধ্যে তার শরীরে যে পরিবর্তনগুলো এসেছে, তা এক কথায় অবিশ্বাস্য।
লুকিয়ে থাকা চিনির ফাঁদ
মেলিসা তার পরীক্ষা শুরু করতে গিয়ে দেখেন, চিনি কেবল চকোলেট বা মিষ্টিতেই সীমাবদ্ধ নয়। সাধারণ সুপারমার্কেটের পাউরুটি, স্যান্ডউইচ, এমনকি পাস্তা সসের মতো নোনতা খাবারেও প্রচুর পরিমাণে চিনি লুকানো থাকে। তিনি লক্ষ্য করেন, অতি-প্রক্রিয়াজাত খাবারগুলো আমাদের অজান্তেই প্রচুর চিনি শরীরে ঢুকিয়ে দিচ্ছে।
মস্তিষ্কের রসায়ন ও আসক্তি
চিনি ছাড়ার প্রথম কয়েকদিন মেলিসার জন্য ছিল প্রচণ্ড কষ্টের। তিনি তীব্রভাবে মিষ্টি খাওয়ার অভাব বোধ করতেন এবং ফ্রিজে পাগলের মতো মিষ্টি কিছু খুঁজতেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চিনি মস্তিষ্কের ‘রিওয়ার্ড সিস্টেম’ সক্রিয় করে ডোপামিন হর
প্রতিদিন অন্তত এক-দুটি চকোলেট বা মিষ্টিজাতীয় খাবার খাওয়া ছিল বিবিসির বিজ্ঞানবিষয়ক পুরস্কারজয়ী লেখিকা মেলিসা হোজেনবুমের দীর্ঘদিনের অভ্যাস। কিন্তু অতিরিক্ত চিনি সেবনের স্বাস্থ্যঝুঁকি; যেমন দাঁতের ক্ষয়, টাইপ-২ ডায়াবেটিস, হৃদরোগ এবং স্থূলতার কথা চিন্তা করে তিনি এক সাহসী সিদ্ধান্ত নেন। টানা ৪২ দিন বা ছয় সপ্তাহ তিনি কোনো ধরণের ‘অ্যাডেড সুগার’ বা কৃত্রিম চিনি ছোঁবেন না। এই সময়ের মধ্যে তার শরীরে যে পরিবর্তনগুলো এসেছে, তা এক কথায় অবিশ্বাস্য।
লুকিয়ে থাকা চিনির ফাঁদ
মেলিসা তার পরীক্ষা শুরু করতে গিয়ে দেখেন, চিনি কেবল চকোলেট বা মিষ্টিতেই সীমাবদ্ধ নয়। সাধারণ সুপারমার্কেটের পাউরুটি, স্যান্ডউইচ, এমনকি পাস্তা সসের মতো নোনতা খাবারেও প্রচুর পরিমাণে চিনি লুকানো থাকে। তিনি লক্ষ্য করেন, অতি-প্রক্রিয়াজাত খাবারগুলো আমাদের অজান্তেই প্রচুর চিনি শরীরে ঢুকিয়ে দিচ্ছে।
মস্তিষ্কের রসায়ন ও আসক্তি
চিনি ছাড়ার প্রথম কয়েকদিন মেলিসার জন্য ছিল প্রচণ্ড কষ্টের। তিনি তীব্রভাবে মিষ্টি খাওয়ার অভাব বোধ করতেন এবং ফ্রিজে পাগলের মতো মিষ্টি কিছু খুঁজতেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চিনি মস্তিষ্কের ‘রিওয়ার্ড সিস্টেম’ সক্রিয় করে ডোপামিন হরমোন নিঃসরণ করে, যা অনেকটা মাদকাসক্তির মতো কাজ করে। মেলিসার ক্ষেত্রেও তাই ঘটেছিল, যা কাটিয়ে ওঠা ছিল এক বড় চ্যালেঞ্জ।
অবিশ্বাস্য পরিবর্তনসমূহ
ছয় সপ্তাহের এই সফরে মেলিসা বেশকিছু বিস্ময়কর পরিবর্তনের সাক্ষী হন:
১. অফুরন্ত শক্তি: চিনি ছাড়ার পর তার দুপুরের খাবারের পরের ক্লান্তি বা ঝিমুনি ভাব পুরোপুরি চলে যায়। সারা দিন তার শরীরের শক্তির মাত্রা স্থিতিশীল থাকতে শুরু করে।
২. স্বাদের অনুভূতি পুনর্গঠন: তিন সপ্তাহ পর মেলিসা লক্ষ্য করেন তার ‘টেস্ট বাডস’ বা স্বাদকোরকগুলো পরিবর্তিত হচ্ছে। সাধারণ একটি আপেলও তার কাছে আগের চেয়ে অনেক বেশি মিষ্টি মনে হতে থাকে।
৩. আভ্যন্তরীণ সুস্থতা: তার শরীরে ইনসুলিনের কার্যকারিতা বৃদ্ধি পায় এবং ট্রাইগ্লিসারাইড বা ক্ষতিকর চর্বির পরিমাণ কমতে শুরু করে।
৪২ দিন পর সেই চকোলেট কুকি
পরীক্ষা শেষে মেলিসা যখন আবারও একটি চকোলেট চিপ কুকি মুখে তুলেন, তখন ফল হয় উল্টো। সেটি তার কাছে এতটাই অসহ্য রকমের মিষ্টি মনে হয় যে, তিনি তা শেষ করতে পারেননি। কয়েক কামড় খাওয়ার পরেই তিনি ক্লান্তি অনুভব করেন এবং তার ঝিমুনি আসে।
মেলিসা হোজেনবুম তার এই অভিজ্ঞতার পর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তিনি পুরোপুরি চিনি বর্জন না করলেও সপ্তাহের কাজের দিনগুলোতে আর কখনোই চিনিযুক্ত খাবার খাবেন না। চিনির ‘আসক্তির চক্র’ থেকে মুক্তি পাওয়াই ছিল তার এই ৪২ দিনের সবচেয়ে বড় অর্জন।
বিবিসি অবলম্বনে