চ্যাটজিপিটির লেখা শপথে বিয়ে, শেষ পর্যন্ত আদালতেই বাতিল

পেশাদার রেজিস্ট্রার বা কাজির বদলে এক বন্ধুকে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা পরিচালনার অনুরোধ করেন নেদারল্যান্ডসের এক দম্পতি। আর সেই বন্ধু বিয়ের শপথবাক্য তৈরিতে সাহায্য নেন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক সফটওয়্যার চ্যাটজিপিটির। কিন্তু এই সৃজনশীল উদ্যোগই শেষ পর্যন্ত কাল হয়ে দাঁড়ায়। আইনি শর্ত পূরণ না হওয়ায় দেশটির একটি আদালত ওই বিয়েকে অবৈধ ঘোষণা করেছে। নেদারল্যান্ডসের জুইলা শহরের একটি আদালত সম্প্রতি এ বিষয়ে রায় দেন। গোপনীয়তার কারণে রায়ে দম্পতির পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, গত বছরের ১৯ এপ্রিল ওই বিয়ের আয়োজন করা হয়। তবে বিয়ের সময় পাঠ করা শপথবাক্য ডাচ আইনের নির্ধারিত কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল না। ফলে আদালতের নির্দেশে এখন শহরের সিভিল রেজিস্ট্রি থেকে ওই বিয়ের নথি বাতিল করা হচ্ছে। নেদারল্যান্ডসের দেওয়ানি বিধির ১:৬৭ অনুচ্ছেদের ১ নম্বর ধারায় বিয়ের শপথ নিয়ে সুস্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, রেজিস্ট্রার ও সাক্ষীদের উপস্থিতিতে হবু স্বামী-স্ত্রীকে দুটি বিষয়ে প্রকাশ্যে সম্মতি জানাতে হবে। এক, তারা একে অপরকে আইনগতভাবে স্বামী-স্ত্রী হিসেবে গ্রহণ করছেন। দুই, দাম্পত্য জীবনের সঙ্গ

চ্যাটজিপিটির লেখা শপথে বিয়ে, শেষ পর্যন্ত আদালতেই বাতিল
পেশাদার রেজিস্ট্রার বা কাজির বদলে এক বন্ধুকে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা পরিচালনার অনুরোধ করেন নেদারল্যান্ডসের এক দম্পতি। আর সেই বন্ধু বিয়ের শপথবাক্য তৈরিতে সাহায্য নেন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক সফটওয়্যার চ্যাটজিপিটির। কিন্তু এই সৃজনশীল উদ্যোগই শেষ পর্যন্ত কাল হয়ে দাঁড়ায়। আইনি শর্ত পূরণ না হওয়ায় দেশটির একটি আদালত ওই বিয়েকে অবৈধ ঘোষণা করেছে। নেদারল্যান্ডসের জুইলা শহরের একটি আদালত সম্প্রতি এ বিষয়ে রায় দেন। গোপনীয়তার কারণে রায়ে দম্পতির পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, গত বছরের ১৯ এপ্রিল ওই বিয়ের আয়োজন করা হয়। তবে বিয়ের সময় পাঠ করা শপথবাক্য ডাচ আইনের নির্ধারিত কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল না। ফলে আদালতের নির্দেশে এখন শহরের সিভিল রেজিস্ট্রি থেকে ওই বিয়ের নথি বাতিল করা হচ্ছে। নেদারল্যান্ডসের দেওয়ানি বিধির ১:৬৭ অনুচ্ছেদের ১ নম্বর ধারায় বিয়ের শপথ নিয়ে সুস্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, রেজিস্ট্রার ও সাক্ষীদের উপস্থিতিতে হবু স্বামী-স্ত্রীকে দুটি বিষয়ে প্রকাশ্যে সম্মতি জানাতে হবে। এক, তারা একে অপরকে আইনগতভাবে স্বামী-স্ত্রী হিসেবে গ্রহণ করছেন। দুই, দাম্পত্য জীবনের সঙ্গে যুক্ত সব আইনি দায়িত্ব তারা নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করবেন। গালফ নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়, ওই দম্পতি ইচ্ছাকৃতভাবেই তাদের বিয়েকে অনানুষ্ঠানিক রাখতে চেয়েছিলেন। তাই বন্ধুকে বিয়ে পড়ানোর দায়িত্ব দেন। সেই বন্ধু চ্যাটজিপিটির সহায়তায় একটি আবেগঘন ও রসিকতায় ভরা বক্তব্য তৈরি করেন, যেখানে আইনি ভাষার বদলে ব্যক্তিগত অনুভূতি ও সম্পর্কের উষ্ণতার ওপর জোর দেওয়া হয়। আদালতের নথি অনুযায়ী, বিয়ের সময় বন্ধু দম্পতিকে প্রশ্ন করেন, ‘জীবন কঠিন হয়ে উঠলে কি আপনারা একে অপরের পাশে থাকবেন, একে অপরকে ক্ষেপাবেন এবং জড়িয়ে ধরে রাখবেন?’ বক্তব্যে দম্পতিকে ‘পাগলাটে’ বলেও সম্বোধন করা হয়, যা অনুষ্ঠানে হাস্যরস তৈরি করেছিল। তবে বিচারকের মতে, এসব কথা যতই আবেগঘন বা আনন্দদায়ক হোক না কেন, এতে দাম্পত্য জীবনের সেই আইনগত দায়িত্ব পালনের অঙ্গীকার অনুপস্থিত ছিল, যা ডাচ আইনে বাধ্যতামূলক।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow