টেলিগ্রামে বিনিয়োগের প্রলোভনে কোটি টাকা আত্মসাৎ, গ্রেফতার ১

অনলাইন প্ল্যাটফর্ম টেলিগ্রামে টাস্ক সম্পন্ন করানো সংক্রান্ত প্রতারণার ফাঁদে ফেলে ১ কোটিরও বেশি টাকা হাতিয়ে নেওয়া চক্রের আরেক সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। গ্রেফতার ব্যক্তির নাম মো. সোহেল মিয়া (৪১)। রোববার (১১ জানুয়ারি) সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসীম উদ্দিন খান এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, শনিবার (১০ জানুয়ারি) যাত্রাবাড়ি থানার ধলপুর এলাকা থেকে সোহেল মিয়াকে গ্রেফতার করে সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টারের (সিপিসি) সাইবার পার্সোনেল ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ইউনিটের একটি চৌকশ আভিযানিক দল। মোট চারটি পৃথক বিকাশ অ্যাকাউন্ট ও নয়টি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে বাদীর কাছ থেকে চক্রটি প্রতারণা করে ১ কোটি ১০ লাখ ৫৮ হাজার ৩০৫ টাকা হাতিয়ে নেয়। এ ঘটনায় হওয়া মামলার এজাহারে বাদী উল্লেখ করেন, বিগত ২০২৪ সালের ডিসেম্বর মাসে প্রতারক চক্রের এক সদস্য একটি অজ্ঞাত হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর থেকে তাকে অনলাইনে পার্টটাইম জবের প্রস্তাব দেওয়া হয়। বাসায় বসে অবসর সময়ে কাজ করে উপার্জন করা যাবে ভেবে বাদী রাজি হয়ে যান। তিনি নির্দেশনা অনুযায়ী একটি সাইটে ওয়ালেট খুলে টাস্ক সম্পন্ন করে প্রথম দফায় ১৫০

টেলিগ্রামে বিনিয়োগের প্রলোভনে কোটি টাকা আত্মসাৎ, গ্রেফতার ১

অনলাইন প্ল্যাটফর্ম টেলিগ্রামে টাস্ক সম্পন্ন করানো সংক্রান্ত প্রতারণার ফাঁদে ফেলে ১ কোটিরও বেশি টাকা হাতিয়ে নেওয়া চক্রের আরেক সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। গ্রেফতার ব্যক্তির নাম মো. সোহেল মিয়া (৪১)।

রোববার (১১ জানুয়ারি) সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসীম উদ্দিন খান এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, শনিবার (১০ জানুয়ারি) যাত্রাবাড়ি থানার ধলপুর এলাকা থেকে সোহেল মিয়াকে গ্রেফতার করে সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টারের (সিপিসি) সাইবার পার্সোনেল ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ইউনিটের একটি চৌকশ আভিযানিক দল। মোট চারটি পৃথক বিকাশ অ্যাকাউন্ট ও নয়টি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে বাদীর কাছ থেকে চক্রটি প্রতারণা করে ১ কোটি ১০ লাখ ৫৮ হাজার ৩০৫ টাকা হাতিয়ে নেয়।

এ ঘটনায় হওয়া মামলার এজাহারে বাদী উল্লেখ করেন, বিগত ২০২৪ সালের ডিসেম্বর মাসে প্রতারক চক্রের এক সদস্য একটি অজ্ঞাত হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর থেকে তাকে অনলাইনে পার্টটাইম জবের প্রস্তাব দেওয়া হয়। বাসায় বসে অবসর সময়ে কাজ করে উপার্জন করা যাবে ভেবে বাদী রাজি হয়ে যান। তিনি নির্দেশনা অনুযায়ী একটি সাইটে ওয়ালেট খুলে টাস্ক সম্পন্ন করে প্রথম দফায় ১৫০ টাকা উপার্জন করেন। এভাবে ২৮টি টাস্ক সম্পন্ন করলে প্রতারক চক্র কর্তৃক বাদীকে ৩৮ হাজার টাকা দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়। বাদী চক্রের দেখানো মতে ১৪টি টাস্ক সম্পন্ন করে ২ হাজার ১০০ টাকা উপার্জন করেন। এর পর প্রতারক চক্র ২ হাজার টাকা বিনিয়োগ করলে বিনিময়ে ২ হাজার ৮০০ টাকা পাবে এই মর্মে একটি টাস্ক দেয়। সেই টাস্কটি সম্পন্ন করলে বাদীর ওয়ালেটে অর্থ জমা হয়েছে দেখালেও বাদী উত্তোলনে ব্যর্থ হন। বিষয়টি প্রতারক চক্রটিকে জানালে চক্রটি একটি বিকাশ অ্যাকাউন্ট দিয়ে সেখানে টাকা পাঠাতে বলে, না হলে জমাকৃত অর্থ উত্তোলন করতে পারবেন না মর্মে জানানো হয়।

এভাবে ধাপে ধাপে প্রলোভন দেখিয়ে মোট চারটি পৃথক বিকাশ অ্যাকাউন্ট ও নয়টি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে বাদীর কাছ থেকে চক্রটি প্রতারণাপূর্বক ১ কোটি ১০ লাখ ৫৮ হাজার ৩০৫ টাকা হাতিয়ে নেয়। পরে বাদী তার দেওয়া অর্থ ফেরত চাইলে তাকে প্রাণনাশের হুমকিসহ নানা ভয়ভীতি দেখায় প্রতারক চক্রটি।

ভুক্তভোগী বাদী প্রতারিত হওয়ার বিষয়টি বুঝতে পেরে লালবাগ থানায় মামলা করেন। পরে সিআইডি প্রতারক চক্রের মূলহোতা নাদিমকে (৩২) গ্রেফতার করে আদালতে হাজির করলে তিনি প্রতারণার বিষয় স্বীকার করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। এ ছাড়া চক্রের অন্য সদস্যদের নাম প্রকাশ করেন তিনি।

সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসীম উদ্দিন খান আরও জানান, গ্রেফতার মো. সোহেল মিয়া প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে প্রতারণার কথা স্বীকার করেছেন। তাকে আদালতে পাঠানো ও রিমান্ডের আবেদনসহ পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

কেআর/এমএমকে

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow