জমেনি রাজারহাট, লোকসানে চামড়া ব্যবসায়ীরা
ঈদুল আজহার পরও জমেনি রাজারহাট চামড়া বাজার। সিন্ডিকেটের কারণে ন্যায্যদাম পাচ্ছেন না ক্ষুদ্র ও মৌসুমী ব্যবসায়ীরা। সরকার চামড়ার দাম বেঁধে দিলেও মাঠ পর্যায়ে তা কোনো কাজে আসছে না। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সর্ববৃহৎ চামড়ার মোকাম রাজারহাটে এ চিত্র দেখা যায়। প্রতিবছরই চামড়া বাজারে অশনি সংকেত দেখা দেয়। স্থানীয়দের দাবি, কাঁচা বা ওয়েট ব্লু চামড়া রফতানির অনুমতি দিতে হবে। তাহলে চামড়া বাজার চাঙ্গা হবে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত কয়েক বছর ধরে ট্যানারি মালিক, ঢাকার বড় ব্যবসায়ী এবং সিন্ডিকেটের কারণে কোরবানি ঈদ পরবর্তী সময়ে চামড়ার ব্যাপক দর পতন হয়েছে। এতে মৌসুমী ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। যশোরাঞ্চলের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা জানান, খুলনা বিভাগের সবচেয়ে বড় ও দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম চামড়ার বাজার যশোরের রাজারহাট। ঢাকার পরে দেশের বৃহত্তর চামড়ার মোকাম এটি। এখানে তিন শতাধিক আড়ত রয়েছে। সপ্তাহে দুইদিন শনিবার ও মঙ্গলবার এখানে হাট বসে। খুলনা বিভাগের ১০ জেলা ছাড়াও ফরিদপুর, রাজশাহী, পাবনা, নাটোর এবং ঢাকার বড় বড় ব্যবসায়ীরা চামড়া বেচাকেনা করেন। এ হাট ঘিরে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের প্রায় ১০ হাজার ছোট বড় ব্যবসায়ী ব্যবসা করে
ঈদুল আজহার পরও জমেনি রাজারহাট চামড়া বাজার। সিন্ডিকেটের কারণে ন্যায্যদাম পাচ্ছেন না ক্ষুদ্র ও মৌসুমী ব্যবসায়ীরা। সরকার চামড়ার দাম বেঁধে দিলেও মাঠ পর্যায়ে তা কোনো কাজে আসছে না।
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সর্ববৃহৎ চামড়ার মোকাম রাজারহাটে এ চিত্র দেখা যায়। প্রতিবছরই চামড়া বাজারে অশনি সংকেত দেখা দেয়। স্থানীয়দের দাবি, কাঁচা বা ওয়েট ব্লু চামড়া রফতানির অনুমতি দিতে হবে। তাহলে চামড়া বাজার চাঙ্গা হবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত কয়েক বছর ধরে ট্যানারি মালিক, ঢাকার বড় ব্যবসায়ী এবং সিন্ডিকেটের কারণে কোরবানি ঈদ পরবর্তী সময়ে চামড়ার ব্যাপক দর পতন হয়েছে। এতে মৌসুমী ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
যশোরাঞ্চলের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা জানান, খুলনা বিভাগের সবচেয়ে বড় ও দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম চামড়ার বাজার যশোরের রাজারহাট। ঢাকার পরে দেশের বৃহত্তর চামড়ার মোকাম এটি। এখানে তিন শতাধিক আড়ত রয়েছে। সপ্তাহে দুইদিন শনিবার ও মঙ্গলবার এখানে হাট বসে। খুলনা বিভাগের ১০ জেলা ছাড়াও ফরিদপুর, রাজশাহী, পাবনা, নাটোর এবং ঢাকার বড় বড় ব্যবসায়ীরা চামড়া বেচাকেনা করেন। এ হাট ঘিরে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের প্রায় ১০ হাজার ছোট বড় ব্যবসায়ী ব্যবসা করেন।
ব্যবসায়ীরা আরও জানান, ঈদের একদিন পর শনিবার (৩০ মে) প্রথম হাট বসলেও বাজার জমেনি। পরবর্তী শনিবার (৬ জুন) হাটে প্রায় ২০ হাজার গরুর চামড়া আমদানি হয়। প্রথম হাটের তুলনায় দাম বাড়লেও কাঙ্ক্ষিত দাম পাননি ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা।
রাজারহাটে সবচেয়ে ভালো ও বড় আকারের চামড়া ৯০০-১২০০, মাঝারি চামড়া ৬০০-৮০০ এবং ছোট চামড়া ৪০০-৬০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। তবে লাম্পিস্কিন আক্রান্ত চামড়া ১৫০-২৫০ টাকাতেই বিক্রি হয়েছে। হাটে এ চামড়ার পরিমাণ অনেক কম ছিল বলে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন।
বাজারে দেখা যায়, ক্ষুদ্র ও মৌসুমী ব্যবসায়ীরা চামড়া এনে স্তূপ করে রেখেছেন। আবার স্থানীয় আড়তদাররা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের স্তূপ করা চামড়া উল্টে-পাল্টে দেখছেন। দাম নিয়ে চলছে দর কষাকষি।
আড়তদারদের দামে হতাশা প্রকাশ করে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা জানান, দাম কিছুটা বাড়লেও গড়ে চামড়াপ্রতি ২০০-৩০০ টাকা লোকসান গুণতে হচ্ছে। সরকার নির্ধারিত দামের তুলনায় কম দামে তারা চামড়া বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন। মূলত ট্যানারি মালিক ও আড়তদারদের সিন্ডিকেট চামড়ার দাম নিয়ন্ত্রণ করছে।
সাতক্ষীরার কলারোয়া থেকে ১৭০ পিস গরুর চামড়া নিয়ে হাটে এসেছিলেন কবিরুল ইসলাম কবির। তিনি জানালেন, ৮৫০ টাকা করে ১০০ চামড়া বিক্রি করেছেন। প্রতিটি চামড়ায় ২০০-৩০০ টাকা লোকসান হয়েছে। বাকি ৭০টি চামড়ার যে দাম বলছে তাতে বিক্রি করতে পারছেন না। আগে ঢাকার ট্যানারি বা বাইরের ব্যবসায়ীরা এসে সরাসরি চামড়া কিনতেন। এখন বাইরের ব্যবসায়ী কম আসছেন। ফলে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও আড়তদাররা সিন্ডিকেট করে দাম কমিয়ে রাখছেন।
বাগেরহাট সদরের দিপাড়া গ্রাম থেকে ১০২ পিস চামড়া নিয়ে এসেছিলেন সাধন বিশ্বাস। তিনি বলেন, ৭২ পিস চামড়া বিক্রি করেছি। ৮০০ টাকা করে চামড়া বিক্রি করেও লবণ এবং যাতায়াত খরচ ওঠেনি।
বৃহত্তর যশোর জেলা চামড়া ব্যবসায়ী সমিতির কোষাধ্যক্ষ শেখ আবুল কাশেম জানান, শনিবারের ওই হাটে ৪০০-১২০০ টাকাও চামড়া বিক্রি হয়েছে। তবে লাম্পিস্কিন বা নষ্ট চামড়ার দাম কম। তিনি প্রায় ৪০০-৬০০ টাকায় চামড়া কিনেছেন।
যশোর জেলা চামড়া ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক আলাউদ্দিন মুকুল জানান, ঈদ পরবর্তী দুই হাটের তুলনায় শনিবারের (৬ জুন) হাট কিছুটা ঘুরে দাঁড়িয়েছে। তবে কাঁচা চামড়া বা ওয়েট ব্লু চামড়া রফতানির অনুমতি দিলে বর্তমান পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে বলে তিনি মনে করেন।
রাজারহাটের ইজারাদার রাজু আহমেদ জানান, শনিবারের (৬ জুন) হাটে প্রায় ১৫-১৬ হাজার গরুর চামড়া ও কয়েক হাজার ছাগলের চামড়ার আমদানি হয়েছে। নতুন আমদানিকৃত বা আড়তদারদের সংরক্ষিত চামড়া মিলে প্রায় দুই কোটি টাকার চামড়া বেচাকেনা হয়েছে। ঈদ পরবর্তী এ সময়ের মধ্যে লক্ষাধিক চামড়া ক্রয়-বিক্রয় হওয়ার কথা থাকলেও এ পর্যন্ত ৩৫ হাজারের মতো চামড়া হাটে এসেছে।
এফএ/এএসএম
What's Your Reaction?