‘জাতীয় স্বার্থ’ রক্ষায় ইরানি সেনাবাহিনীর কঠোর হুঁশিয়ারি
সরকারবিরোধী বিক্ষোভ তীব্র হওয়ায় ইরানে সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে বিব্রতকর অবস্থায় মাসুদ পেজেশকিয়ানের সরকার। তবে আন্দোলন দমনে সরকারের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে দেশটির সেনাবাহিনী। ইরানের ‘জাতীয় স্বার্থ’ রক্ষায় কঠোর অবস্থানের হুঁশিয়ারি দিয়েছে সশস্ত্র বাহিনী। শনিবার (১০ জানুয়ারি) সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে এমন হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। ওই বিবৃতিতে সেনাবাহিনী অভিযোগ করেছে, ইসরায়েল ও ‘শত্রু সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলো’ ইরানের জননিরাপত্তা দুর্বল করার চেষ্টা করছে। সেনাবাহিনী সর্বাধিনায়কের নেতৃত্বে দেশটির সশস্ত্র বাহিনী জাতীয় স্বার্থ, কৌশলগত অবকাঠামো ও জনসম্পত্তি রক্ষায় দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং ডলারের বিপরীতে তীব্র মুদ্রাস্ফীতির প্রতিবাদে গ্রান্ড বাজারের ব্যবসায়ীরা প্রথম বিক্ষোভ শুরু করে। ধীরে ধীরে এ আন্দোলন সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে। চলমান আন্দোলন দমন করতে ইরান সরকার গ্রেফতার অভিযান ও ইন্টারনেট বন্ধ করে দিয়েছে। রাজধানী তেহরানসহ রাশত, তাবরিজ, শিরাজ ও কেরমান শহরে বিক্ষোভকারীদের সমাবেশের খবর পাওয়া গেছে। তেহরানের উত্তরে শনিবার (১০ জানুয়ারি) জনতা আতশবাজি ও হাঁড়ি-পাতিল বাজিয়ে স্লোগান দিয়েছে বলে
সরকারবিরোধী বিক্ষোভ তীব্র হওয়ায় ইরানে সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে বিব্রতকর অবস্থায় মাসুদ পেজেশকিয়ানের সরকার। তবে আন্দোলন দমনে সরকারের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে দেশটির সেনাবাহিনী। ইরানের ‘জাতীয় স্বার্থ’ রক্ষায় কঠোর অবস্থানের হুঁশিয়ারি দিয়েছে সশস্ত্র বাহিনী।
শনিবার (১০ জানুয়ারি) সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে এমন হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
ওই বিবৃতিতে সেনাবাহিনী অভিযোগ করেছে, ইসরায়েল ও ‘শত্রু সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলো’ ইরানের জননিরাপত্তা দুর্বল করার চেষ্টা করছে। সেনাবাহিনী সর্বাধিনায়কের নেতৃত্বে দেশটির সশস্ত্র বাহিনী জাতীয় স্বার্থ, কৌশলগত অবকাঠামো ও জনসম্পত্তি রক্ষায় দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।
জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং ডলারের বিপরীতে তীব্র মুদ্রাস্ফীতির প্রতিবাদে গ্রান্ড বাজারের ব্যবসায়ীরা প্রথম বিক্ষোভ শুরু করে। ধীরে ধীরে এ আন্দোলন সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে। চলমান আন্দোলন দমন করতে ইরান সরকার গ্রেফতার অভিযান ও ইন্টারনেট বন্ধ করে দিয়েছে।
রাজধানী তেহরানসহ রাশত, তাবরিজ, শিরাজ ও কেরমান শহরে বিক্ষোভকারীদের সমাবেশের খবর পাওয়া গেছে। তেহরানের উত্তরে শনিবার (১০ জানুয়ারি) জনতা আতশবাজি ও হাঁড়ি-পাতিল বাজিয়ে স্লোগান দিয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে।
মানবাধিকার সংস্থাগুলো বিক্ষোভ দমনে সরকারকে সংযমের আহ্বান জানিয়েছে। নরওয়েভিত্তিক সংগঠন ইরান হিউম্যান রাইটসের দাবি, নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে অন্তত ৫১ জন বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছে যাদের মধ্যে নয়জন শিশু রয়েছে। শত শত মানুষ আহত হয়েছে এবং ব্যাপক গ্রেফতার চলছে। ইরানের তাসনিম বার্তা সংস্থার খবরে বলা হয়েছে, দাঙ্গার নেতৃত্বদানকারী অন্তত ২০০ জনকে আটক করা হয়েছে।
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল অভিযোগ করেছে, দেশব্যাপী ইন্টারনেট বন্ধ করে মানবাধিকার লঙ্ঘনের তথ্য গোপন করার চেষ্টা করছে সরকার।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিক্ষোভকারীদের প্রতি সমর্থন জানিয়ে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র সহায়তা দিতে প্রস্তুত। তিনি সতর্ক করেন, যদি সরকার ব্যাপক হত্যাকাণ্ড শুরু করে তবে যুক্তরাষ্ট্র কঠোরভাবে জবাব দেবে।তবে স্থলযুদ্ধে জড়ানোর কথা অস্বীকার করেছেন ট্রাম্প।
বিশ্লেষকদের মতে, সরকার বর্তমান বিক্ষোভ দমন করলেও মূল্যস্ফীতি, বেকারত্ব ও অর্থনৈতিক সংকটসহ অভ্যন্তরীণ সমস্যাগুলোর সমাধান না হলে অস্থিরতা অব্যাহত থাকতে পারে। সরকারের ঘোষিত মাসিক ভর্তুকি সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে কমাতে পারবে না বলেও মত দিয়েছেন তারা।
সূত্র: আল-জাজিরা
কেএম
What's Your Reaction?