জাদু-টোনার কাজ ছেড়ে যে কারণে বিনামূল্যে কবর খোঁড়া শুরু করেন বিল্লাল
কৈশোরে শুরু করেন কবর খোঁড়ার কাজ। ৬৬ বছর বয়সেও থেমে যাননি তিনি। বার্ধক্যকে উপেক্ষা করে এখনো ছুটে যান বিনামূল্যে খবর খোঁড়ার কাজে। এ পর্যন্ত ৩০৮ জনকে কবরস্থ করেন তিনি। বৃদ্ধ বয়সে কর্মহীন হয়ে অভাব-অনটনে দিন কাটলেও বিনা পারিশ্রমিকে কবর খুঁড়ে নিজ মনে আত্মতৃপ্তি উপলব্ধি করেন তিনি। তবে এ কাজ শুরুর পেছনে রয়েছে রহস্যময় এক ঘটনা। শুক্রবার (১৩ মার্চ) এক সাক্ষাৎকারে নিজের জীবন কাহিনি শোনান বিল্লাল হোসেন খান। জানা যায়, চাঁদপুর পৌরসভার ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাহের খলিশাডুলী এলাকার ইদ্রিস খানের ছেলে বিল্লাল হোসেন। তিনি ১৯৬০ সালের ৯ নভেম্বর জন্মগ্রহণ করেন। বর্তমানে তার ২ ছেলে ও ১ মেয়ে নিয়ে দাম্পত্য জীবন কাটাচ্ছেন। নিজের জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার গল্প শোনাতে গিয়ে তিনি বলেন, টিপরাদের সঙ্গে আমি জাদু-টোনার কাজ করতাম। একদিন হাজীগঞ্জের বড় মসজিদে জুমার নামাজ পড়তে যাই। কিন্তু নামাজ পড়তে গিয়ে হঠাৎ আমি সেজদা দিতে পারছিলাম না। তখন মসজিদের তৎকালীন ইমাম আমাকে বিনা পয়সায় কবর খোঁড়ার পরামর্শ দেন। আর সেই থেকে শুরু করি বিনামূল্যে কবর খোঁড়ার কাজ। তিনি আরও বলেন, ১৬ বছর বয়সে এ কাজ শুরু করি। ডায়রিতে লিখে হিসাব রাখতাম কতটি কবর
কৈশোরে শুরু করেন কবর খোঁড়ার কাজ। ৬৬ বছর বয়সেও থেমে যাননি তিনি। বার্ধক্যকে উপেক্ষা করে এখনো ছুটে যান বিনামূল্যে খবর খোঁড়ার কাজে। এ পর্যন্ত ৩০৮ জনকে কবরস্থ করেন তিনি। বৃদ্ধ বয়সে কর্মহীন হয়ে অভাব-অনটনে দিন কাটলেও বিনা পারিশ্রমিকে কবর খুঁড়ে নিজ মনে আত্মতৃপ্তি উপলব্ধি করেন তিনি। তবে এ কাজ শুরুর পেছনে রয়েছে রহস্যময় এক ঘটনা।
শুক্রবার (১৩ মার্চ) এক সাক্ষাৎকারে নিজের জীবন কাহিনি শোনান বিল্লাল হোসেন খান।
জানা যায়, চাঁদপুর পৌরসভার ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাহের খলিশাডুলী এলাকার ইদ্রিস খানের ছেলে বিল্লাল হোসেন। তিনি ১৯৬০ সালের ৯ নভেম্বর জন্মগ্রহণ করেন। বর্তমানে তার ২ ছেলে ও ১ মেয়ে নিয়ে দাম্পত্য জীবন কাটাচ্ছেন।
নিজের জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার গল্প শোনাতে গিয়ে তিনি বলেন, টিপরাদের সঙ্গে আমি জাদু-টোনার কাজ করতাম। একদিন হাজীগঞ্জের বড় মসজিদে জুমার নামাজ পড়তে যাই। কিন্তু নামাজ পড়তে গিয়ে হঠাৎ আমি সেজদা দিতে পারছিলাম না। তখন মসজিদের তৎকালীন ইমাম আমাকে বিনা পয়সায় কবর খোঁড়ার পরামর্শ দেন। আর সেই থেকে শুরু করি বিনামূল্যে কবর খোঁড়ার কাজ।
তিনি আরও বলেন, ১৬ বছর বয়সে এ কাজ শুরু করি। ডায়রিতে লিখে হিসাব রাখতাম কতটি কবর খুঁড়লাম। যদিও ডায়রিটা আগুনে পুড়ে গেছে। এখন পর্যন্ত ৩০৮টি খবর খোঁড়ার কাজ করেছি। কবর খুঁড়তে গিয়ে অনেক অলৌকিক ঘটনার সাক্ষী হয়েছি। আমার জীবনে কবর খুঁড়তে গিয়ে কোনো মাপ লাগে না। চোখের দৃষ্টিতেই বুঝি কবরটা আমাকে কীভাবে খুঁড়তে হবে।
বিল্লাল হোসেন বলেন, খবর পেলেই ছুটে যেতাম গ্রামের এ প্রান্ত থেকে ওপ্রান্তে। তবে আমার স্ত্রী মারা যাওয়ার পর থেকে আর তেমন কবর খোঁড়ার কাজ করি না। বয়সের ভারে এখন কষ্ট হলেও মানুষ ডাকলে বসে থাকি না। মানুষ আমাকে এ কাজে দোয়া করে— এটাই আমার জীবনে চলার পথের শক্তি।
শেষ বয়সে নিজের মনের আকাঙ্ক্ষার কথা প্রকাশ করে তিনি বলেন, আমি পানি উন্নয়ন বোর্ডের নিরাপত্তা প্রহরীর কাজ করতাম। সেখান থেকেও অবসর নিয়েছি। আমার কবর খোঁড়ার কাজের কোনো স্বীকৃতি পেলে মনে আনন্দ পেতাম।
স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে অভাব-অনটনে খুব কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন জানিয়ে বিল্লাল হোসেন বলেন, কেউ যদি সাহায্য-সহায়তা নিয়ে এগিয়ে আসে তাহলে আমি তা গ্রহণ করব।
What's Your Reaction?