জামালপুর জিলা স্কুলে একটি টয়লেট ব্যবহার করে ১০১ জন ছাত্র
প্রায় দেড় শতাব্দীর গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস, অসংখ্য কৃতী শিক্ষার্থী, বোর্ডসেরা ফলাফল এবং দেশের প্রশাসন, বিচার বিভাগ, রাজনীতি, অর্থনীতি ও সংস্কৃতিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত গুণীজনের পদচারণায় সমৃদ্ধ জামালপুর জিলা স্কুল। ১৮৮১ সালে প্রতিষ্ঠিত এই বিদ্যালয়টি আজও জেলার অন্যতম সেরা ও ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত। তবে ঐতিহ্য আর সাফল্যের আড়ালে আজ স্পষ্ট হয়ে উঠেছে অবকাঠামোগত সংকট, প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা, শ্রেণিকক্ষের চাপ ও আধুনিক শিক্ষার প্রয়োজনীয় উপকরণের ঘাটতি। শ্রেণিকক্ষের সংকট, অচল কম্পিউটার, বিজ্ঞান ল্যাবে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতির ঘাটতি, প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার সীমাবদ্ধতা, অপর্যাপ্ত ওয়াশরুম ও দীর্ঘদিনের অবকাঠামোগত সমস্যায় ভুগছে দেশের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জামালপুর জিলা স্কুল। আধুনিক শিক্ষার চাহিদা বাড়লেও প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধার অভাবে নানা চ্যালেঞ্জের মুখে প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। একসময় এ বিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা নিয়ে শিক্ষার্থী নির্বাচন করা হতো। সেসময় মেধার ভিত্তিতেই ভর্তির সুযোগ মিলত বলে অভিভাবক ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের অনেকেরই ধারণা। তবে গত ছয় বছর ধরে সরকারি নী
প্রায় দেড় শতাব্দীর গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস, অসংখ্য কৃতী শিক্ষার্থী, বোর্ডসেরা ফলাফল এবং দেশের প্রশাসন, বিচার বিভাগ, রাজনীতি, অর্থনীতি ও সংস্কৃতিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত গুণীজনের পদচারণায় সমৃদ্ধ জামালপুর জিলা স্কুল। ১৮৮১ সালে প্রতিষ্ঠিত এই বিদ্যালয়টি আজও জেলার অন্যতম সেরা ও ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত। তবে ঐতিহ্য আর সাফল্যের আড়ালে আজ স্পষ্ট হয়ে উঠেছে অবকাঠামোগত সংকট, প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা, শ্রেণিকক্ষের চাপ ও আধুনিক শিক্ষার প্রয়োজনীয় উপকরণের ঘাটতি।
শ্রেণিকক্ষের সংকট, অচল কম্পিউটার, বিজ্ঞান ল্যাবে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতির ঘাটতি, প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার সীমাবদ্ধতা, অপর্যাপ্ত ওয়াশরুম ও দীর্ঘদিনের অবকাঠামোগত সমস্যায় ভুগছে দেশের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জামালপুর জিলা স্কুল। আধুনিক শিক্ষার চাহিদা বাড়লেও প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধার অভাবে নানা চ্যালেঞ্জের মুখে প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।
একসময় এ বিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা নিয়ে শিক্ষার্থী নির্বাচন করা হতো। সেসময় মেধার ভিত্তিতেই ভর্তির সুযোগ মিলত বলে অভিভাবক ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের অনেকেরই ধারণা। তবে গত ছয় বছর ধরে সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী লটারির মাধ্যমে ভর্তি কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। ফলে মেধাভিত্তিক প্রতিযোগিতার সেই সুযোগ আর নেই। এ কারণে অনেকের মতে, আগের মতো শুধুমাত্র মেধার ভিত্তিতে সেরা শিক্ষার্থীদের বাছাই করা সম্ভব হচ্ছে না এবং জেলার অনেক মেধাবী শিক্ষার্থীও এখন এই বিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে নেতৃত্ব দেওয়া অসংখ্য ব্যক্তি এই বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী। বিদ্যালয়টিতে বর্তমানে পাঁচটি ল্যাবরেটরি, একটি কম্পিউটার ল্যাব, একটি বিজ্ঞান ল্যাব, একটি পাঠাগার এবং স্কাউট, বিএনসিসি ও রেড ক্রিসেন্টসহ বিভিন্ন সহশিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে জেলার শিক্ষার মান ধরে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে প্রতিষ্ঠানটি।
বিখ্যাতদের স্মৃতিবিজড়িত জিলা স্কুল
এই বিদ্যালয়ের ছাত্র মনোরঞ্জন সরকার ১৯২৩ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে নবম স্থান অর্জন করেন। ১৯৪৪ সাল থেকে ১৯৯৪ সাল পর্যন্ত এ এম এম গোলাম কিবরিয়া, এ.কে.এম গোলাম রববানী, মো. আবুল কাশেম, হাবিবুর রহমান, মো. জাহেদুল ইসলাম, জ্ঞানেন্দ্র চন্দ্র আচার্য্য, শামীম ইকবাল, সোহেল রানা, রবিউল আওয়াল ও মাহমুদুল হাসান বোর্ডের মেধা তালিকায় স্থান লাভ করেন। সাবেক পূর্ব পাকিস্তান আইন পরিষদের প্রথম স্পিকার আব্দুল করিম, সাবেক প্রাদেশিক খাদ্য ও মৎস্য মন্ত্রী গিয়াস উদ্দিন আহম্মদ, সাবেক পূর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদের চিফ হুইপ খান বাহাদুর ফজলুর রহমান, পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন পিডব্লিউডি প্রধান মনিষ চন্দ্র দত্ত, সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা শফি সামী, প্রাক্তন সচিব মতিউল ইসলাম ও ড. এ কে এম গোলাম রববানী, বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রাক্তন গভর্নর নুরুল ইসলাম, প্রাক্তন বিভাগীয় কমিশনার আবু তাহা মিয়া, এফবিসিসিআইয়ের প্রাক্তন সভাপতি আনিসুল হক, প্রাক্তন এমপিএ অ্যাডভোকেট হায়দার আলী মল্লিক, প্রাক্তন এমএনএ আব্দুল হামিদ, প্রাক্তন এমপি অ্যাডভোকেট আব্দুল হাকিম, সংগীতজ্ঞ মরহুম ওস্তাদ ফজলুল হক, অভিনেতা আব্দুল্লাহ আল মামুন, রাজনীতিবিদ মীর্জা সুলতান রাজা প্রমুখ জামালপুর জিলা স্কুলের ছাত্র ছিলেন।
সুনামের বিপরীতে রয়েছে সংকট
তবে ঐতিহ্য ও গৌরবের এই প্রতিষ্ঠানের ভেতরের বাস্তবতা বলছে ভিন্ন কথা। শিক্ষার্থী সংখ্যা বাড়লেও সেই অনুপাতে অবকাঠামো, প্রযুক্তিগত সুবিধা ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম বৃদ্ধি না পাওয়ায় আধুনিক শিক্ষার সঙ্গে তাল মেলাতে নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হচ্ছে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের।
বর্তমানে প্রভাতি ও দিবা দুই শিফটে বিদ্যালয়টিতে মোট ১ হাজার ৫১৩ জন শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে। তাদের পাঠদান করছেন ৫১ জন শিক্ষক। অর্থাৎ প্রতি শিক্ষকের বিপরীতে গড়ে প্রায় ৩০ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। যদিও বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের মতে, আরও দুইজন শিক্ষক প্রয়োজন।
বিদ্যালয়ে বর্তমানে ১৩টি শ্রেণিকক্ষে দুই শিফটে পাঠদান পরিচালিত হচ্ছে। প্রতিটি শ্রেণিকক্ষে গড়ে ৫৫ জন শিক্ষার্থী পাঠ গ্রহণ করে এবং একটি বেঞ্চে চারজন করে বসতে হয়। সীমিত অবকাঠামোর কারণে ১৯৯০ সাল থেকে দুই শিফটে পাঠদান চালু রয়েছে। আগে প্রতিটি ক্লাস ৪৫ মিনিট করে অনুষ্ঠিত হলেও বর্তমানে প্রথম ক্লাসের সময় ৫০ মিনিট এবং পরবর্তী প্রতিটি ক্লাস ৪০ মিনিট করা হয়েছে। সীমিত শ্রেণিকক্ষ ও দুই শিফটে পাঠদান পরিচালনার কারণে সময়সূচিতে এ পরিবর্তন আনা হয়েছে।
ল্যাব থাকলেও সক্ষমতা সীমিত
বিদ্যালয়ে বিজ্ঞান ও কম্পিউটার উভয় ল্যাবই রয়েছে। তবে বিজ্ঞান ল্যাবে প্রয়োজনীয় কিছু আধুনিক যন্ত্রপাতি ও উপকরণের ঘাটতি থাকায় শিক্ষার্থীরা সব ধরনের ব্যবহারিক কার্যক্রম নিয়মিতভাবে সম্পন্ন করার সুযোগ পায় না। অন্যদিকে কম্পিউটার ল্যাবের অবস্থাও সন্তোষজনক নয়। বিদ্যালয়ের মোট ৩১টি কম্পিউটারের মধ্যে ১১টি অচল হয়ে পড়ায় বাতিল করে স্টোররুমে রাখা হয়েছে। অবশিষ্ট ২০টির মধ্যে বর্তমানে মাত্র ৭টি সচল রয়েছে। ইন্টারনেট সংযোগ থাকলেও পর্যাপ্ত ব্যবহারযোগ্য কম্পিউটার না থাকায় অনেক সময় একাধিক শিক্ষার্থীকে একটি কম্পিউটার ভাগাভাগি করে ব্যবহার করতে হয়।
বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানায়, প্রয়োজন অনুযায়ী বিজ্ঞান ও কম্পিউটার ল্যাব ব্যবহার করা হলেও শিক্ষার মানোন্নয়নে নতুন কম্পিউটার, ল্যাপটপ, বিজ্ঞান ল্যাবের প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি সংযোজন এবং উভয় ল্যাবের আধুনিকায়ন এখন সময়ের দাবি।
দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী আল নাহিয়ান জয় জাগো নিউজকে বলেন, আমাদের স্কুলে বিজ্ঞান ও কম্পিউটার দুই ধরনের ল্যাবই রয়েছে। শিক্ষকরা নিয়মিত ব্যবহারিক ক্লাস নেন। তবে কম্পিউটার ল্যাবের সব কম্পিউটার সচল না থাকায় অনেক সময় কয়েকজন মিলে একটি কম্পিউটারে কাজ করতে হয়। বিজ্ঞান ল্যাবের যন্ত্রপাতি আরও আধুনিক করা হলে এবং নতুন ল্যাপটপ ও কম্পিউটার যুক্ত হলে আমরা ব্যবহারিক শিক্ষায় আরও দক্ষ হতে পারব। নতুন ভবনের কাজ শেষ হলে পড়াশোনার পরিবেশও আরও উন্নত হবে বলে আশা করছি।
প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষায় এখনও সীমাবদ্ধতা
বিদ্যালয়ে স্মার্ট বোর্ড, প্রজেক্টর, মাল্টিমিডিয়া ক্লাস ও দুটি কম্পিউটার ল্যাব থাকলেও প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার ক্ষেত্রে এখনো কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। বর্তমানে কোডিং ক্লাব, রোবোটিক্স ক্লাব কিংবা STEM (Science, Technology, Engineering and Mathematics) শিক্ষা কার্যক্রম চালু হয়নি। ফলে আধুনিক প্রযুক্তিভিত্তিক শিক্ষার নতুন ধারার সঙ্গে শিক্ষার্থীদের পরিচিত হওয়ার সুযোগ তুলনামূলকভাবে কম।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রয়োজনীয় বরাদ্দ, আধুনিক যন্ত্রপাতি ও প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করা গেলে ভবিষ্যতে এসব কার্যক্রম চালু করা সম্ভব হবে।
বিদ্যালয়ে স্মার্ট বোর্ড, প্রজেক্টর ও মাল্টিমিডিয়া ক্লাস চালু রয়েছে। তবে একসময় প্রতিটি শ্রেণিকক্ষে থাকা টেলিভিশন বর্তমানে নষ্ট হয়ে গেছে। সিসি ক্যামেরা সচল থাকলেও সাউন্ড সিস্টেমের অধিকাংশই অকার্যকর হয়ে পড়েছে।
প্রয়োজন আধুনিক ল্যাব
বিদ্যালয়ের পাঠাগারে প্রতিবছর নতুন বই যুক্ত হয় এবং শিক্ষার্থীরা নিয়মিত বই ব্যবহার করে। তবে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা নিশ্চিত করতে নতুন ল্যাপটপ, কম্পিউটার এবং ল্যাব উন্নয়ন জরুরি বলে মনে করছেন শিক্ষকরা।
ওয়াশরুম সংকটে ভোগান্তি
১ হাজার ৫১৩ শিক্ষার্থীর জন্য বিদ্যালয়ে রয়েছে মাত্র ১৫টি ওয়াশরুম। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের মতে, প্রয়োজন অন্তত ৩০টি। অর্থাৎ বর্তমানে গড়ে প্রায় ১০১ জন শিক্ষার্থীকে একটি ওয়াশরুম ব্যবহার করতে হচ্ছে। শিক্ষার্থী সংখ্যার তুলনায় এ সুবিধা অপ্রতুল হওয়ায় বিরতির সময় ভোগান্তিতে পড়তে হয়।
এছাড়া বিদ্যালয়ে বর্তমানে চতুর্থ শ্রেণির কোনো কর্মচারী নেই। ফলে প্রশাসনিক ও দৈনন্দিন বিভিন্ন কাজে শিক্ষকদেরই অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে।
নতুন ভবন ঘিরে আশাবাদ
দীর্ঘদিনের পুরোনো অবকাঠামোর কারণে বিদ্যালয়ে একটি নতুন ছয়তলা একাডেমিক ভবনের নির্মাণকাজ চলছে। ভবনটির কাজ শেষ হলে নতুন শ্রেণিকক্ষ যুক্ত হবে। এতে শিক্ষার্থীদের বসার সংকট কমবে, পাঠদানের পরিবেশ উন্নত হবে এবং শিক্ষার মান আরও বাড়বে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী আসিফ জাগো নিউজকে জানায়, জিলা স্কুলে পড়তে পেরে আমি গর্বিত। শিক্ষকরা খুব ভালো পড়ান। তবে ক্লাসে অনেক শিক্ষার্থী থাকায় অনেক সময় পেছনে বসলে শিক্ষকের কথা স্পষ্ট শুনতে সমস্যা হয়।
বিজ্ঞান ও আইসিটি ক্লাবের দায়িত্বে থাকা জীববিজ্ঞান শিক্ষক মোর্শেদুল আলম জাগো নিউজকে বলেন, বিদ্যালয়ে বিজ্ঞান ও আইসিটি ক্লাবের কার্যক্রম রয়েছে। তবে বর্তমানে কোডিং ক্লাব, রোবোটিক্স ক্লাব বা STEM শিক্ষা কার্যক্রম চালু নেই। ডিজিটাল যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এসব কার্যক্রম চালু করা প্রয়োজন। পাশাপাশি কম্পিউটার ল্যাবের সব কম্পিউটার সচল করা, নতুন ল্যাপটপ সংযোজন এবং বিজ্ঞান ল্যাবকে আরও আধুনিক করা দরকার। নতুন ছয়তলা ভবনের নির্মাণকাজ শেষ হলে শ্রেণিকক্ষের সংকট কমবে এবং শিক্ষার্থীরা আরও ভালো পরিবেশে পাঠ গ্রহণের সুযোগ পাবে।
ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক এফ এম ইমামুর রশীদ আজাদ জাগো নিউজকে বলেন, জামালপুর জিলা স্কুল শুধু এই জেলার নয়, আশপাশের জেলার শিক্ষার্থীদের কাছেও একটি আস্থার নাম। প্রতিবছর ভর্তি পরীক্ষার মাধ্যমে অনেক মেধাবী শিক্ষার্থী এখানে পড়ার সুযোগ পায়। এই বিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা করে অসংখ্য শিক্ষার্থী বর্তমানে দেশের প্রশাসন, বিচার বিভাগ, শিক্ষা, ব্যবসা, চিকিৎসাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন। বর্তমানে দুই শিফটে ১ হাজার ৫১৩ জন শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। বিদ্যালয়ে স্মার্ট বোর্ড, মাল্টিমিডিয়া ক্লাস ও কম্পিউটার ল্যাব থাকলেও সময়ের চাহিদা অনুযায়ী আরও কম্পিউটার, ল্যাপটপ এবং ল্যাব আধুনিকায়নের প্রয়োজন রয়েছে। দীর্ঘদিনের পুরোনো অবকাঠামোর কারণে নতুন ছয়তলা একাডেমিক ভবনের নির্মাণকাজ চলছে। ভবনটি চালু হলে শ্রেণিকক্ষের সংকট কমবে, শিক্ষার পরিবেশ আরও উন্নত হবে এবং শিক্ষার্থীরা আরও ভালোভাবে পাঠ গ্রহণের সুযোগ পাবে।
জামালপুর জেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা এস. এম. মোজাম্মেল হাসান জাগো নিউজকে বলেন, জামালপুর জিলা স্কুল জেলার অন্যতম ঐতিহ্যবাহী ও স্বনামধন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। এখান থেকে পড়াশোনা করে অসংখ্য শিক্ষার্থী দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন। বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থার সঙ্গে তাল মিলিয়ে বিদ্যালয়ের অবকাঠামো ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা আরও উন্নত করা প্রয়োজন। নির্মাণাধীন নতুন একাডেমিক ভবনের কাজ শেষ হলে শ্রেণিকক্ষের সংকট অনেকটাই দূর হবে। একই সঙ্গে ল্যাব আধুনিকায়ন, প্রয়োজনীয় আইসিটি সরঞ্জাম সংযোজন এবং শিক্ষার পরিবেশ উন্নয়নে শিক্ষা বিভাগ প্রয়োজনীয় উদ্যোগ বাস্তবায়নে কাজ করছে। ঐতিহ্য ধরে রেখে আধুনিক শিক্ষার সব সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করাই আমাদের লক্ষ্য।
শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর, জামালপুরের নির্বাহী প্রকৌশলী জয়িতা অধিকারী বলেন, ২০২৪ সালে ৯ কোটি ৬৩ লাখ ৬২ হাজার টাকা ব্যয়ে ভবনটির নির্মাণকাজ শুরু হয়েছে। বর্তমানে কাজ চলমান রয়েছে। সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই ভবনটির নির্মাণকাজ সম্পন্ন করার চেষ্টা করবো।
এফএ/এএসএম
What's Your Reaction?



