জালিমের অনিবার্য ও ভয়াবহ পরিণতি

জালিম যখন সীমালঙ্ঘন করে, ক্ষমতার দম্ভে অতিরিক্ত বাড়াবাড়ি করে, তখন আল্লাহ তাআলা দুনিয়াতেই তার শাস্তির ফয়সালা করেন। ওই জালিমদের ক্ষমতা ও সম্মানের চূড়া থেকে ছুড়ে ফেলেন এবং অধঃপতিত ও লাঞ্চনার জীবন দান করেন, নিকৃষ্ট মৃত্যু দান করেন। আখেরাতেও তাদের জন্য শাস্তির ফয়সালা করেন। রাসুল (সা.) বলেছেন, মহান আল্লাহ জালিম ও আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্নকারীদের দুনিয়াতেই শাস্তি দেন, আখেরাতের শাস্তি তো রয়েছেই। (সুনানে আবু দাউদ, সুনানে তিরমিজি) আরেকটি হাদিসে রাসুল (সা.) বলেছেন, জুলুম ও বাবা-মাকে কষ্ট দেওয়ার শাস্তি আল্লাহ দুনিয়াতেই দিয়ে দেন। (মুসতাদরাকে হাকেম, তাবরানি) অনেক ক্ষেত্রে জালিমরা দুনিয়াতে বাহ্যত শাস্তি নাও পেতে পারে। ক্ষমতায় চূড়ায় থেকেই তার স্বাভাবিক মৃত্যু হতে পারে। কিন্তু হেদায়াত লাভ ও তওবা করার আগে যদি তার মৃত্যু হয়, তাহলে এটাও মূলত তার শাস্তিই। জুলুমের ওপর মৃত্যু হওয়ার মাধ্যমে তার জন্য আখেরাতের কঠিন শাস্তি নিশ্চিত হয়ে যায়। আল্লাহ যে জালিমদের কর্মকাণ্ড সম্বন্ধে গাফেল নন, প্রতিটি জুলুমের শাস্তি আখেরাতে ভোগ করতে হবে- তা ঘোষণা করে আল্লাহ তাআলা বলেন, আর জালিমরা যা করছে, আল্লাহকে তুমি সে বিষয়ে মোটেই গাফ

জালিমের অনিবার্য ও ভয়াবহ পরিণতি

জালিম যখন সীমালঙ্ঘন করে, ক্ষমতার দম্ভে অতিরিক্ত বাড়াবাড়ি করে, তখন আল্লাহ তাআলা দুনিয়াতেই তার শাস্তির ফয়সালা করেন। ওই জালিমদের ক্ষমতা ও সম্মানের চূড়া থেকে ছুড়ে ফেলেন এবং অধঃপতিত ও লাঞ্চনার জীবন দান করেন, নিকৃষ্ট মৃত্যু দান করেন। আখেরাতেও তাদের জন্য শাস্তির ফয়সালা করেন।

রাসুল (সা.) বলেছেন, মহান আল্লাহ জালিম ও আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্নকারীদের দুনিয়াতেই শাস্তি দেন, আখেরাতের শাস্তি তো রয়েছেই। (সুনানে আবু দাউদ, সুনানে তিরমিজি)

আরেকটি হাদিসে রাসুল (সা.) বলেছেন, জুলুম ও বাবা-মাকে কষ্ট দেওয়ার শাস্তি আল্লাহ দুনিয়াতেই দিয়ে দেন। (মুসতাদরাকে হাকেম, তাবরানি)

অনেক ক্ষেত্রে জালিমরা দুনিয়াতে বাহ্যত শাস্তি নাও পেতে পারে। ক্ষমতায় চূড়ায় থেকেই তার স্বাভাবিক মৃত্যু হতে পারে। কিন্তু হেদায়াত লাভ ও তওবা করার আগে যদি তার মৃত্যু হয়, তাহলে এটাও মূলত তার শাস্তিই। জুলুমের ওপর মৃত্যু হওয়ার মাধ্যমে তার জন্য আখেরাতের কঠিন শাস্তি নিশ্চিত হয়ে যায়।

আল্লাহ যে জালিমদের কর্মকাণ্ড সম্বন্ধে গাফেল নন, প্রতিটি জুলুমের শাস্তি আখেরাতে ভোগ করতে হবে- তা ঘোষণা করে আল্লাহ তাআলা বলেন, আর জালিমরা যা করছে, আল্লাহকে তুমি সে বিষয়ে মোটেই গাফেল মনে করো না, আল্লাহ তো তাদের অবকাশ দিচ্ছেন ওই দিন পর্যন্ত যে দিন চোখ পলকহীন তাকিয়ে থাকবে। তারা মাথা তুলে দৌড়াতে থাকবে, তাদের দৃষ্টি নিজদের দিকে ফিরবে না এবং তাদের অন্তর হবে শূন্য। (সুরা ইবরাহিম: ৪২, ৪৩)

দুনিয়ার সম্পদ, ক্ষমতা, প্রভাব-প্রতিপত্তি আখেরাতে জালিমদের কোনো উপকারে আসবে না। তাদের জন্য সুপারিশ করার কেউ থাকবে না। আল্লাহ তাআলা বলেন, তাদেরকে সতর্ক করে দাও আসন্ন দিন সম্পর্কে, যখন দুঃখ কষ্টে তাদের প্রাণ কন্ঠাগত হবে। জালিমদের কোন বন্ধু নেই, সুপারিশ গ্রাহ্য হবে এমন কোন সুপারিশকারীও নেই। (সুরা গাফির: ১৮)

পরকালে জালিমদের শাস্তি সহজ বা ক্ষণস্থায়ী হবে না, বরং তা হবে চিরস্থায়ী ও অত্যন্ত কঠিন। আল্লাহ তাআলা বলেন, অবশেষে জালিমদের বলা হবে- ‘স্থায়ী শাস্তির স্বাদ গ্রহণ কর, তোমরা যা কিছু উপার্জন করেছিলে তার প্রতিফল ছাড়া তোমাদের আর কী দেয়া যেতে পারে! (সুরা ইউনুস: ৫২)

আরেক আয়াতে আল্লাহ তাআলা বলেন, জালিমরা যখন আজাব দেখবে, তখন তাদের ওপর থেকে তা শিথিল করা হবে না এবং তাদেরকে কোনো ছাড়ও দেওয়া হবে না। (সুরা নাহল: ৮৫)

রাসুল (সা.) জুলুম থেকে সাবধান করে বলেছেন, জুলুম থেকে বেঁচে থাক; জুলুম কেয়ামতের দিন অন্ধকারের মতো গ্রাস করবে। (সহিহ মুসলিম) আরেকটি হাদিসে রাসুল (সা.) বলেছেন, মজলুমের বদদোয়া থেকে নিজেকে রক্ষা করো, যদি সে কাফেরও হয়। মজলুমের দোয়ায় কোনো পর্দা থাকে না। (অর্থাৎ সরাসরি আল্লাহর কাছে পৌঁছে যায়) (মুসনাদে আহমদ)

আল্লাহর রাসুল (সা.) হাদিসে কুদসিতে আল্লাহর কথা বর্ণনা করে বলেন, ‘হে আমার বান্দা, আমি নিজের ওপর জুলুম হারাম করেছি এবং তোমাদের জন্যও তা হারাম করেছি। অতএব তোমরা একে অপরের ওপর জুলুম কোরো না।’ (সহিহ মুসলিম)

তাই জালিমদের সাময়িক শান-শওকত দেখে, প্রভাব-প্রতিপত্তি দেখে আমরা যেন বিভ্রান্ত না হই। জালিমের পতন অনিবার্য, তার শাস্তি সুনিশ্চিত।

ওএফএফ

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow