জাল সিল-স্বাক্ষরে ভবনের নকশা তৈরির অভিযোগ ডিপ্লোমা প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে

চট্টগ্রামের ‎সীতাকুণ্ডে জাল সিল ও স্বাক্ষরে ভবনের নকশা তৈরির অভিযোগ উঠেছে কামরুদ্দোজা নামের এক ডিপ্লোমা প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে। দীর্ঘদিন ধরে পৌর কর্তৃপক্ষের যোগসাজশে চলছে ভবন নকশা তৈরির বাণিজ্য। সীতাকুণ্ড পৌরসভার কার্যালয়ে তার বিরুদ্ধে সিল ও স্বাক্ষর জাল করে ভবনের নকশার অনুমোদনের ১০টি ফাইলের অভিযোগ রয়েছে। তারমধ্যে ৮টি সীতাকুণ্ড পৌর সদরের অন্য দুটি মিরসরাই পৌর সদরের। অভিযোগকারীরা হলেন— প্রকৌশলী মো. জাহিদ ভূঁইয়া ও মো. আকরামুল হক। স্থানীয় প্রকৌশলীদের দাবি, একটি ভবনের নকশার ফাইল ৬০ হাজার টাকা দিয়ে করতে আমাদের হিমশিম খেতে হয়, সেখানে কামরুদ্দোজা ৪০ হাজার টাকা দিয়ে নকশার ফাইল অনুমোদন করে নেন। এতে বুঝা যায়, পৌর কর্তৃপক্ষের যোগসাজশে ভবনের নকশার অনুমোদন হয়। যার কারণে ইমারত নকশা অনুমোদন সভায় ৮০-৮৪ শতাংশ নকশা অনুমোদনের ফাইল জমা পড়ে কামরুদ্দোজার স্বত্বাধিকারী প্রতিষ্ঠান স্থপতি ডিজাইন অ্যান্ড কনসালটিং’র নামে।  পৌরসভা প্রকৌশলী সূত্রে জানা গেছে, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় ১৯৯৬ এর গেজেট অনুযায়ী একজন ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার সর্বোচ্চ চারতলা পর্যন্ত নকশা ও ডিজাইন তৈরি করতে পারেন। কিন্তু তিনি আইনের ত

জাল সিল-স্বাক্ষরে ভবনের নকশা তৈরির অভিযোগ ডিপ্লোমা প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে

চট্টগ্রামের ‎সীতাকুণ্ডে জাল সিল ও স্বাক্ষরে ভবনের নকশা তৈরির অভিযোগ উঠেছে কামরুদ্দোজা নামের এক ডিপ্লোমা প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে। দীর্ঘদিন ধরে পৌর কর্তৃপক্ষের যোগসাজশে চলছে ভবন নকশা তৈরির বাণিজ্য। সীতাকুণ্ড পৌরসভার কার্যালয়ে তার বিরুদ্ধে সিল ও স্বাক্ষর জাল করে ভবনের নকশার অনুমোদনের ১০টি ফাইলের অভিযোগ রয়েছে। তারমধ্যে ৮টি সীতাকুণ্ড পৌর সদরের অন্য দুটি মিরসরাই পৌর সদরের।

অভিযোগকারীরা হলেন— প্রকৌশলী মো. জাহিদ ভূঁইয়া ও মো. আকরামুল হক। স্থানীয় প্রকৌশলীদের দাবি, একটি ভবনের নকশার ফাইল ৬০ হাজার টাকা দিয়ে করতে আমাদের হিমশিম খেতে হয়, সেখানে কামরুদ্দোজা ৪০ হাজার টাকা দিয়ে নকশার ফাইল অনুমোদন করে নেন। এতে বুঝা যায়, পৌর কর্তৃপক্ষের যোগসাজশে ভবনের নকশার অনুমোদন হয়। যার কারণে ইমারত নকশা অনুমোদন সভায় ৮০-৮৪ শতাংশ নকশা অনুমোদনের ফাইল জমা পড়ে কামরুদ্দোজার স্বত্বাধিকারী প্রতিষ্ঠান স্থপতি ডিজাইন অ্যান্ড কনসালটিং’র নামে। 

পৌরসভা প্রকৌশলী সূত্রে জানা গেছে, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় ১৯৯৬ এর গেজেট অনুযায়ী একজন ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার সর্বোচ্চ চারতলা পর্যন্ত নকশা ও ডিজাইন তৈরি করতে পারেন। কিন্তু তিনি আইনের তোয়াক্কা না করে পাঁচ থেকে ছয় তলা দালানের নকশা ও ডিজাইন তৈরি করেন। যা আইনগত দণ্ডনীয় অপরাধ। কিন্তু চার তলার ঊর্ধ্বে গেলে যাবতীয় নকশার একজন বিএসসি ইঞ্জিনিয়ার অথবা বিএসসি স্থপতির মাধ্যমে নকশাগুলো সম্পূর্ণ করতে হবে। তিনি মূলত স্থপতি ও ডিজাইনারদের পারিশ্রমিক না দিয়ে পুরো টাকা আত্মসাৎ করতে তিনি নিজেই সিল বানিয়ে স্বাক্ষর করতেন।

‎স্থানীয়দের দাবি, প্রত্যেক মানুষের স্বপ্ন থাকে একটি বহুতল ভবনের দালান করা। সেই স্বপ্নপূরণে প্রথম ধাপ হচ্ছে দালানের ডিজাইন ও নকশার জন্য একজন প্রকৌশলীর ধারস্থ হওয়া। কিন্তু সেই প্রকৌশলী যদি সিল ও স্বাক্ষর জাল করে নকশার ফাইল অনুমোদনের চেষ্টা করে তাহলে সে দালান যেন অংকুরে বিনষ্ট। ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার কামরুদোজা দীর্ঘ ২৭ বছর ধরে দালানের ডিজাইন ও নকশা তৈরির কাজ করছেন। সীতাকুণ্ড পৌর সদরে স্থপতি ডিজাইন অ্যান্ড কনসালটিং স্বত্বাধিকারী তিনি। 

স্থানীয়রা বলেন, যারা পূর্বে তার থেকে দালানের নকশা ও ডিজাইন যদি জালিয়াতিভাবে করা হয় তাহলে সেই দালানগুলো ঝুঁকিতে রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা, সচেতন মহল ও সংশ্লিষ্টদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। ভবন মালিকদেরকে নকশা অনুমোদন নেওয়ার আগেই দালানের কাজ শুরু করতে বলেন কামরুদ্দোজা। 

আওরঙ্গজেব নামের এক ভবন মালিক বলেন, আমার দালানের ডিজাইন ও নকশার জন্য কামরুদ্দোজার শরণাপন্ন হয়। কিন্তু পৌর কর্তৃপক্ষ ফাইল অনুমোদন করার আগেই সে আমাকে দালানের কাজ শুরু করতে বলেন। পরবর্তীতে পৌর কর্তৃপক্ষ হস্তক্ষেপে আমি কাজ বন্ধ রাখি। 

‎স্থানীয় আর্কিটেক মো. আনোয়ার হোসেন সোহেল বলেন, পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী নুরুন্নবীসহ বেশ কয়েকজনের জন্য যোগসাজশে জাল নকশা অনুমোদন বাণিজ্য চলে।

‎প্রকৌশলী মো. জাহিদ ভূইয়া বলেন, আমি দীর্ঘদিন ধরে কামরুদ্দোজার সঙ্গে দালানের নকশা ও ডিজাইনের কাজ করেছি। কিন্তু বেশ কিছু দিন ধরে ওনার সঙ্গে আমি আর কাজ করছি না। তারপরও সে আমার এইইবি মেম্বারশিপ নম্বর, সিল ও স্বাক্ষর ব্যবহার করে মিরসরাই দুটি ফাইলের নকশা অনুমোদনের জন্য জমা দেন। বিষয়টা আমি জানার পরে সীতাকুণ্ড পৌরসভা কার্যালয়ে একটি অনুলিপি দিয়ে। পরবর্তীতে জানতে পেলাম আমার সিল ও স্বাক্ষর জাল করে ৮/৯ ফাইল জমা দেন।

তিনি আরও বলেন, ‎এই নকশার ফাইল গুলোর সঙ্গে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। তিনি মূলত স্থপতি ও ডিজাইনারদের পারিশ্রমিক না দিয়ে পুরো টাকা আত্মসাৎ করতে তিনি নিজেই সিল বানিয়ে স্বাক্ষর করতেন।

স্থপতি ডিজাইন অ্যান্ড কনসালটিং ফার্মের স্বত্বাধিকারী কামরুদ্দোজা মুঠোফোনে বলেন, আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগগুলো আনা হয়েছে সেগুলো সব মিথ্যা। আমার জনপ্রিয়তার কারণে একটি মহল ঈর্ষান্বিত হয়ে আমাকে ফাঁসানোর জন্য চেষ্টা করছে।

‎সিল ও স্বাক্ষর জাল করার বিষয়ে সীতাকুণ্ড পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী নুরুন্নবী বলেন, স্থপতি ডিজাইন অ্যান্ড কনসালট্যান্টের স্বত্বাধিকারী কামরুদ্দোজার বিরুদ্ধে অভিযোগটি সত্য। পৌরসভার প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফখরুল ইসলামের সঙ্গে কথা বলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

‎পৌরসভার প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফখরুল ইসলাম বলেন, সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ও প্রমাণ পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow