‘জিন্দা লাশ হয়ে গেছি’, ৬ বছরেও মেলেনি ক্ষতিপূরণ
ছয় বছর ধরে জমি আছে, কিন্তু সেই জমিতে কিছু করার অধিকার নেই। ঘর ভেঙে গেছে, নতুন ঘর তোলা যায় না। জমি বিক্রি করা যায় না, আবার ক্ষতিপূরণের টাকাও মেলে না। দীর্ঘ এই অনিশ্চয়তা ও অপেক্ষার প্রহর গুনতে গুনতে নিজেদের ‘জিন্দা লাশ’ বলে মন্তব্য করেছেন সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সম্প্রসারণ প্রকল্পে জমি হারানো ভুক্তভোগীরা। রোববার (২৮ জুন) দুপুরে ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সিলেট কর্তৃক অধিগ্রহণকৃত ভূমির ন্যায্য ক্ষতিপূরণ বর্তমান বাজারমূল্যে দ্রুত প্রদানের দাবিতে আয়োজিত মানববন্ধনে কান্নাজড়িত কণ্ঠে নিজেদের দুর্ভোগের কথা তুলে ধরেন তারা। বক্তারা বলেন, ২০২০ সালের ডিসেম্বরে ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিরাপত্তাবেষ্টনী ও নিরাপত্তা টহল সড়ক নির্মাণ প্রকল্পের জন্য প্রায় ১৫১ একর জমি অধিগ্রহণের নোটিশ জারি করা হয়। এরপর পাঁচ বছরের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও অধিকাংশ ভূমির মালিক এখনো ক্ষতিপূরণের অর্থ পাননি। তারা বলেন, আজ অত্যন্ত ক্ষোভ ও গভীর দুঃখের সঙ্গে আমরা রাস্তায় দাঁড়িয়েছি। আশা দিতে দিতে কর্তৃপক্ষ আমাদের জিন্দা লাশ বানিয়ে ফেলেছে। জমি অধিগ্রহণের নামে দীর্ঘ ছয় বছর ধরে আমাদের সঙ্গে যে প্রহসন চলছে, তা আ
ছয় বছর ধরে জমি আছে, কিন্তু সেই জমিতে কিছু করার অধিকার নেই। ঘর ভেঙে গেছে, নতুন ঘর তোলা যায় না। জমি বিক্রি করা যায় না, আবার ক্ষতিপূরণের টাকাও মেলে না। দীর্ঘ এই অনিশ্চয়তা ও অপেক্ষার প্রহর গুনতে গুনতে নিজেদের ‘জিন্দা লাশ’ বলে মন্তব্য করেছেন সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সম্প্রসারণ প্রকল্পে জমি হারানো ভুক্তভোগীরা।
রোববার (২৮ জুন) দুপুরে ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সিলেট কর্তৃক অধিগ্রহণকৃত ভূমির ন্যায্য ক্ষতিপূরণ বর্তমান বাজারমূল্যে দ্রুত প্রদানের দাবিতে আয়োজিত মানববন্ধনে কান্নাজড়িত কণ্ঠে নিজেদের দুর্ভোগের কথা তুলে ধরেন তারা।
বক্তারা বলেন, ২০২০ সালের ডিসেম্বরে ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিরাপত্তাবেষ্টনী ও নিরাপত্তা টহল সড়ক নির্মাণ প্রকল্পের জন্য প্রায় ১৫১ একর জমি অধিগ্রহণের নোটিশ জারি করা হয়। এরপর পাঁচ বছরের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও অধিকাংশ ভূমির মালিক এখনো ক্ষতিপূরণের অর্থ পাননি।
তারা বলেন, আজ অত্যন্ত ক্ষোভ ও গভীর দুঃখের সঙ্গে আমরা রাস্তায় দাঁড়িয়েছি। আশা দিতে দিতে কর্তৃপক্ষ আমাদের জিন্দা লাশ বানিয়ে ফেলেছে। জমি অধিগ্রহণের নামে দীর্ঘ ছয় বছর ধরে আমাদের সঙ্গে যে প্রহসন চলছে, তা আর সহ্য করার মতো নয়।
ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেন, ২০২০ সালে ৪ ধারা নোটিশ জারির পর থেকে তারা এক ধরনের অনিশ্চয়তার মধ্যে জীবনযাপন করছি। নিজেদের জমিতে কোনো উন্নয়ন করতে পারছি না, বিক্রিও করতে পারছি না, আবার ন্যায্য ক্ষতিপূরণও পাচ্ছি না।
বক্তারা জানান, ২০২৩ সালের শিলাবৃষ্টিতে অনেকের ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অনেক পরিবার এখনো ত্রিপাল টানিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে। কিন্তু প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। কর্তৃপক্ষের অফিসে যেতে যেতে আমরা আজ ক্লান্ত ও নিঃস্ব হয়ে গেছি। সিলেটের বিগত দুই জেলা প্রশাসকের কাছ থেকে আমরা শুধু আশ্বাসই পেয়েছি। সিভিল অ্যাভিয়েশন কর্তৃপক্ষ এক জায়গার ১১ বার সংশোধনী দিয়েছে, কিন্তু আমাদের ভাগ্যের কোনো পরিবর্তন হয়নি।
বক্তারা আরও বলেন, যে ক্ষতিপূরণের কথা বলা হচ্ছে তা বর্তমান বাজারমূল্যের তুলনায় অনেক কম। এতে নতুন করে জমি কেনা বা বসবাসের ব্যবস্থা করা সম্ভব নয়। তাই বর্তমান বাজারদর অনুযায়ী জমির মূল্য নির্ধারণের দাবি জানান তারা। গত ২১ মে তৎকালীন জেলা প্রশাসক সারওয়ার আলমের কাছে স্মারকলিপি দেওয়া হয় এবং ৪৫ দিনের আলটিমেটাম ঘোষণা করা হয়। সেই সময়সীমা আগামী ৪ জুলাই শেষ হবে।
মানববন্ধন থেকে বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, আগামী ৮ দিনের মধ্যে সমস্যার সুষ্ঠু ও চূড়ান্ত সমাধান না হলে তারা নিজেদের অধিকার আদায়ের স্বার্থে বিমানবন্দর সড়কে অবস্থান কর্মসূচি পালন করবেন। অনতিবিলম্বে বর্তমান বাজারমূল্য অনুযায়ী জমির ক্ষতিপূরণ পরিশোধ করতে হবে। অন্যথায় অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া বাতিল করে জমির মালিকদের স্বাভাবিক জীবনযাপনের সুযোগ করে দিতে হবে।
মানববন্ধনে মো. আব্দুল হালিমের সভাপতিত্বে ও বুলবুল মিয়ার পরিচালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন, সিলেট সদর উপজেলার ৩ নম্বর খাদিমনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান দিলওয়ার হোসেন।
এসময় উপস্থিত ছিলেন ও বক্তব্য রাখেন, কমিটির উপদেষ্টা মন্তাজ আলী, ফিরোজ আলী, নাজিম উদ্দিন ইমরান, রাজিব হোসেন লিটু, আব্দুল হাকিম, শাহনুর আহমদ, শায়েস্তা মিয়া, রাজন আহমদ রাজু, লোকমান আহমদ, জামাল আহমদ, সোহেল মিয়া, হাজী সুনু মিয়া, সাজু মিয়া ও আব্দুল হক।
এ বিষয়ে সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পরিচালক হাফিজ আহমদ কালবেলাকে বলেন, জমি অধিগ্রহণের বিষয়টি সঠিক এবং এ প্রক্রিয়াটি চূড়ান্ত করতে কিছুটা সময় লেগেছে। কোভিড-পরবর্তী সময়ে সরকারের বিভিন্ন বিধিনিষেধ, অধিগ্রহণ কার্যক্রম স্থগিত থাকা এবং প্রশাসনিক জটিলতার কারণে কাজে বিলম্ব হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, জমি-সংক্রান্ত কাগজপত্র, খতিয়ান ও বিভিন্ন তথ্যের ব্যাপক যাচাই-বাছাই এবং একাধিক সংশোধনী সম্পন্ন করতে হয়েছে। এসব প্রক্রিয়ার কারণেই সময় বেশি লেগেছে। বর্তমানে প্রয়োজনীয় সব সংশোধনী শেষ করে চূড়ান্ত ফাইল জেলা প্রশাসনের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া জমি অধিগ্রহণের বিষয়টি মূলত সিভিল এভিয়েশন সদর দপ্তর ও জেলা প্রশাসন দেখভাল করছে। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ সরাসরি এ প্রক্রিয়ার সঙ্গে সম্পৃক্ত নয়; তারা কেবল তথ্য প্রদানের দায়িত্ব পালন করছে।
হাফিজ আহমদ বলেন, জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা শিগ্গিরই সরেজমিন পরিদর্শনে যাবেন। সম্প্রতি জেলা প্রশাসক বদলির কারণে কিছুটা বিলম্ব হলেও নতুন জেলা প্রশাসক দায়িত্ব নেওয়ার পর বিষয়টির ইতিবাচক সমাধান হবে।
What's Your Reaction?