জিম্মায় নেওয়া চুরির মালামাল থানায় ফেরত দিলেন কর্মকর্তা
কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের গুদাম থেকে চুরি হওয়া এবং পরে উদ্ধারকৃত সরকারি মালামাল অবশেষে থানায় ফেরত দেওয়া হয়েছে। জিম্মায় নেওয়ার কয়েকদিন পর উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. তরিকুল ইসলাম উদ্ধারকৃত মালামালগুলো পুনরায় পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন। শনিবার (৬ জুন) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রৌমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাওসার আলী। এর আগে গত বৃহস্পতিবার (৪ জুন) কালবেলা অনলাইনে ‘‘সরকারি মালামাল বিক্রি করে ‘চুরির নাটক’ কর্মকর্তার’’ শিরোনামে একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর ও স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের মধ্যে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, সংবাদ প্রকাশের পর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের চাপের মুখেই উদ্ধারকৃত মালামালগুলো আবার থানায় ফিরিয়ে দেওয়া হয়। অনুসন্ধানে জানা যায়, গত ১৬ এপ্রিল রৌমারী উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের একটি সরকারি গুদাম থেকে ইউনিসেফের লোগো সম্বলিত বিপুল পরিমাণ সরকারি মালামাল উধাও হয়ে যায়। এসব মালামালের মধ্যে ছিল বালতি ও ঢাকনা, জেরিকেন, সিলিং ফ্যান, হ্যান্ড স্যানিটাইজার ও ন্যাপকিন। ঘটনার প্রায় ১৪ দিন পর গ
কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের গুদাম থেকে চুরি হওয়া এবং পরে উদ্ধারকৃত সরকারি মালামাল অবশেষে থানায় ফেরত দেওয়া হয়েছে। জিম্মায় নেওয়ার কয়েকদিন পর উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. তরিকুল ইসলাম উদ্ধারকৃত মালামালগুলো পুনরায় পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন।
শনিবার (৬ জুন) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রৌমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাওসার আলী।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার (৪ জুন) কালবেলা অনলাইনে ‘‘সরকারি মালামাল বিক্রি করে ‘চুরির নাটক’ কর্মকর্তার’’ শিরোনামে একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর ও স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের মধ্যে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, সংবাদ প্রকাশের পর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের চাপের মুখেই উদ্ধারকৃত মালামালগুলো আবার থানায় ফিরিয়ে দেওয়া হয়।
অনুসন্ধানে জানা যায়, গত ১৬ এপ্রিল রৌমারী উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের একটি সরকারি গুদাম থেকে ইউনিসেফের লোগো সম্বলিত বিপুল পরিমাণ সরকারি মালামাল উধাও হয়ে যায়। এসব মালামালের মধ্যে ছিল বালতি ও ঢাকনা, জেরিকেন, সিলিং ফ্যান, হ্যান্ড স্যানিটাইজার ও ন্যাপকিন।
ঘটনার প্রায় ১৪ দিন পর গত ১ মে উপজেলা উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. তরিকুল ইসলাম রহস্যজনকভাবে রৌমারী থানায় মালামাল ‘হারিয়েছে’ উল্লেখ করে একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
পরে ওই জিডির সূত্র ধরে তদন্তে নেমে পুলিশ রৌমারী বাজারের কয়েকজন হার্ডওয়্যার ব্যবসায়ীর দোকানে অভিযান চালায়। অভিযানে ব্যবসায়ী আব্দুস সালাম, আব্দুল মালেক, শহিদুর রহমান, মনজুর আলম ও প্রদীপ চন্দ্রের দোকান থেকে বিপুল পরিমাণ বালতি, জেরিকেন ও কিছু টুলস উদ্ধার করা হয়।
অভিযোগ রয়েছে, সরকারি মালামাল উদ্ধার হওয়ার পরও প্রকৌশলী তরিকুল ইসলাম থানায় কোনো নিয়মিত মামলা দায়ের করেননি। উল্টো গত বৃহস্পতিবার (৪ জুন) শুধুমাত্র একটি মুচলেকার ভিত্তিতে জব্দকৃত মালামালগুলো থানার হেফাজত থেকে দ্রুত নিজের গোডাউনে নিয়ে যান উপ-সহকারী প্রকৌশলী তরিকুল ইসলাম।
এ ঘটনায় কালবেলায় সংবাদ প্রকাশের পর নড়েচড়ে বসে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। পরে উদ্ধারকৃত মালামালগুলো প্রকৌশলীর জিম্মা থেকে পুনরায় থানায় ফিরিয়ে নেওয়া হয়।
জিম্মায় নেওয়া মালামাল আবার থানায় ফেরত দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. তরিকুল ইসলাম কালবেলাকে বলেন, ‘গতকাল শুক্রবার মালামাল থানার জিম্মায় দেওয়া হয়েছে। মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।’
রৌমারী থানার ওসি কাওসার আলী বলেন, ‘জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের গুদাম থেকে উদ্ধারকৃত মালামালগুলো পুনরায় থানায় এনে হেফাজতে রাখা হয়েছে। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্ত শেষে নিয়মিত মামলা রুজু করা হবে।’
সহকারী পুলিশ সুপার (রৌমারী সার্কেল) মো. রাসেল কবীর বলেন, ‘কালবেলায় সংবাদ প্রকাশের পর উদ্ধারকৃত মালামালগুলো জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগের গোডাউন থেকে থানায় ফিরিয়ে আনা হয়েছে। এ ঘটনায় আগে একটি হারানো জিডি করা হয়েছিল। যেহেতু পত্রিকায় চুরির সুনির্দিষ্ট তথ্য উঠে এসেছে, তাই আমরা প্রাথমিক তদন্ত সম্পন্ন করেছি। এখন নিয়মিত মামলা করা হবে। মামলা রুজুর পর অধিকতর তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হবে।’
What's Your Reaction?