জিয়া পরিবারের বিশ্বস্ত মুশফিকুর রহমান- মন্ত্রিত্বের দৌড়ে কতটা এগিয়ে?

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিপুল ভোটে জয়লাভের পর ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ (কসবা–আখাউড়া) আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য মুশফিকুর রহমানকে ঘিরে নতুন প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে এলাকাজুড়ে। বিএনপির বর্ষীয়ান এই রাজনীতিককে মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন দলীয় নেতাকর্মী ও স্থানীয় বাসিন্দারা। গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ‘ধানের শীষ’ প্রতীকে মুশফিকুর রহমান পেয়েছেন ১ লাখ ৩৯ হাজার ৮৪২ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আতাউর রহমান সরকার ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকে পান ৯১ হাজার ৭৯৬ ভোট। এ আসনে মোট সাতজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সাবেক প্রভাবশালী আমলা মুশফিকুর রহমান কর্মজীবনে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি বিশ্বব্যাংকের সাবেক বিকল্প নির্বাহী পরিচালক হিসেবেও দায়িত্বে ছিলেন। অর্থনীতিবিদ হিসেবে তার সুনাম রয়েছে। দীর্ঘ তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় মুশফিকুর রহমান বর্তমানে দলের চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য। দল যখনই সংকটে পড়েছে, তিনি সক্রিয় ভূমিকা রেখেছেন। বিশেষ করে ১/১১–এর রাজনৈতিক সংকটকালে জিয়া পরিবার ও দ

জিয়া পরিবারের বিশ্বস্ত মুশফিকুর রহমান- মন্ত্রিত্বের দৌড়ে কতটা এগিয়ে?

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিপুল ভোটে জয়লাভের পর ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ (কসবা–আখাউড়া) আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য মুশফিকুর রহমানকে ঘিরে নতুন প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে এলাকাজুড়ে। বিএনপির বর্ষীয়ান এই রাজনীতিককে মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন দলীয় নেতাকর্মী ও স্থানীয় বাসিন্দারা।

গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ‘ধানের শীষ’ প্রতীকে মুশফিকুর রহমান পেয়েছেন ১ লাখ ৩৯ হাজার ৮৪২ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আতাউর রহমান সরকার ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকে পান ৯১ হাজার ৭৯৬ ভোট। এ আসনে মোট সাতজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সাবেক প্রভাবশালী আমলা মুশফিকুর রহমান কর্মজীবনে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি বিশ্বব্যাংকের সাবেক বিকল্প নির্বাহী পরিচালক হিসেবেও দায়িত্বে ছিলেন। অর্থনীতিবিদ হিসেবে তার সুনাম রয়েছে।

দীর্ঘ তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় মুশফিকুর রহমান বর্তমানে দলের চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য। দল যখনই সংকটে পড়েছে, তিনি সক্রিয় ভূমিকা রেখেছেন। বিশেষ করে ১/১১–এর রাজনৈতিক সংকটকালে জিয়া পরিবার ও দলের পাশে দৃঢ় অবস্থান নেওয়ায় তাকে জিয়া পরিবারের ঘনিষ্ঠ ও বিশ্বস্ত হিসেবে দেখা হয়।

দলীয় নেতাকর্মীদের আশা, বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে গঠিত হতে যাওয়া মন্ত্রিসভায় মুশফিকুর রহমান স্থান পাবেন। তাদের মতে, দলের আন্দোলন-সংগ্রামে তার দীর্ঘদিনের অবদান এবং প্রশাসনিক অভিজ্ঞতার যথাযথ মূল্যায়ন হওয়া উচিত।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আবুল মনসুর মিশন বলেন, নির্বাচনের আগে বিভিন্ন জনসভা ও উঠান বৈঠকে ভোটারদের আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল—মুশফিকুর রহমান জয়ী হলে তাকে মন্ত্রী করা হবে। কসবা–আখাউড়ার মানুষ মনে করেন, তিনি এলাকার কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন বাস্তবায়নে সক্ষম।

সীমান্ত এলাকায় মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধ, বেকারত্ব নিরসন, নারী শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতকরণে তার সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা রয়েছে বলেও দাবি করেন নেতাকর্মীরা। তাদের মতে, সৎ ও অভিজ্ঞ এই রাজনীতিক মন্ত্রিত্ব পেলে তা শুধু নির্বাচনী এলাকা নয়, দেশের জন্যও ইতিবাচক হবে।

উল্লেখ্য, ২০০১ সালের নির্বাচনে জয়ী হওয়ার পরও তাকে মন্ত্রিত্ব দেওয়ার আলোচনা ছিল। তবে শেষ পর্যন্ত তিনি মন্ত্রিসভায় স্থান না পাওয়ায় এলাকায় কিছুটা ক্ষোভ তৈরি হয়েছিল। এবার সেই প্রত্যাশা পূরণ হবে কি না—সেটিই এখন দেখার বিষয়।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow