জুলাই গণঅভ্যুত্থানের হত্যার বিচার নিয়ে হতাশা প্রকাশ করলেন স্নিগ্ধ

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের হত্যাকাণ্ডের বিচার নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন শহীদ মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধর ভাই মীর মাহবুবুর রহমান স্নিগ্ধ। তিনি বলেন, যেই পুলিশ সদস্য শহীদ আনাসকে গুলি করেছে, তাকে নামমাত্র তিন বছরের সাজা দেওয়া হয়। তৎকালীন আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন এই পুলিশ বাহিনীকে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন ছাত্র-জনতার ওপর গুলি বর্ষণ করার জন্য, তাকে নামমাত্র পাঁচ বছরের সাজা দেওয়া হয়। সেটি নিয়ে সবাই চুপ থাকে। শনিবার (৮ আগস্ট) দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট হলে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। ‘জুলাই অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে ফ্যাসিস্ট সরকার পতনে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের ভূমিকা’ শীর্ষক এ আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। মীর স্নিগ্ধ বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে ফ্যাসিবাদী রাষ্ট্রকাঠামোর পরিবর্তন, রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিবর্তন এবং গণহত্যার সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করা জরুরি। শহীদদের আকাঙ্ক্ষার কথা যদি বলি, আমার মতে এটি তিনটি লাইনে বিভক্ত করা যায়। প্রথমত, ফ্যাসিবাদী রাষ্ট্রকাঠামোর পরিবর্তন। দ্বিতীয়ত, রাজনৈতিক সংস্কৃতি বা পলিটিক্যাল কালচারের পরিবর্ত

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের হত্যার বিচার নিয়ে হতাশা প্রকাশ করলেন স্নিগ্ধ

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের হত্যাকাণ্ডের বিচার নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন শহীদ মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধর ভাই মীর মাহবুবুর রহমান স্নিগ্ধ।

তিনি বলেন, যেই পুলিশ সদস্য শহীদ আনাসকে গুলি করেছে, তাকে নামমাত্র তিন বছরের সাজা দেওয়া হয়। তৎকালীন আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন এই পুলিশ বাহিনীকে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন ছাত্র-জনতার ওপর গুলি বর্ষণ করার জন্য, তাকে নামমাত্র পাঁচ বছরের সাজা দেওয়া হয়। সেটি নিয়ে সবাই চুপ থাকে।

শনিবার (৮ আগস্ট) দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট হলে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। ‘জুলাই অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে ফ্যাসিস্ট সরকার পতনে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের ভূমিকা’ শীর্ষক এ আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।

মীর স্নিগ্ধ বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে ফ্যাসিবাদী রাষ্ট্রকাঠামোর পরিবর্তন, রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিবর্তন এবং গণহত্যার সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করা জরুরি। শহীদদের আকাঙ্ক্ষার কথা যদি বলি, আমার মতে এটি তিনটি লাইনে বিভক্ত করা যায়। প্রথমত, ফ্যাসিবাদী রাষ্ট্রকাঠামোর পরিবর্তন। দ্বিতীয়ত, রাজনৈতিক সংস্কৃতি বা পলিটিক্যাল কালচারের পরিবর্তন। তৃতীয়ত, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের গণহত্যার সুষ্ঠু বিচার সম্পন্ন করা।

তিনি বলেন, পার্লামেন্টে কোনো এক তরুণ সদস্য দাঁড়িয়ে বলছেন, জেন-জিরা অমুক জিনিস চায় না। আমার প্রশ্ন, কোন জাতীয় সম্মেলনে, কোন গণভোটের মাধ্যমে সেই তরুণ সদস্যকে জেন-জিদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে?

স্নিগ্ধ আরও বলেন, যে কোনো বিষয় আলোচনা, সমালোচনা ও সংশোধনযোগ্য। তবে একটি প্রজন্মের কথা বলে নিজের রাজনৈতিক অবস্থান চাপিয়ে দেওয়া রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

তিনি বলেন, এভাবে জেন-জি দের কথা বলে, একটা জেনারেশনের কথা বলে নিজের রাজনৈতিক অবস্থানকে চাপিয়ে দেওয়া, এটিতো আরেকটি ফ্যাসিবাদের লক্ষণ।

মাহবুবুর রহমান স্নিগ্ধ বলেন, আমাদের যারা সিনিয়র রাজনীতিবিদ রয়েছেন যাদেরকে মানুষ ভালোবাসে, সম্মান করে এবং ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেছে, তাদের নিয়ে বিভিন্ন এলাকায় যে যা ইচ্ছা তাই দিয়ে মন্তব্য করছেন, মুখে যা আসছে তাই বলছেন। এরকম রাজনৈতিক সংস্কৃতি তো আমরা ফ্যাসিস্ট সরকারের, ফ্যাসিস্ট প্রধানমন্ত্রীর মুখে দেখতে পেতাম। আমরা তো এরকম সংস্কৃতি চাইনি।

শহীদদের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের দায়িত্ব শুধু সরকারের নয় উল্লেখ করে স্নিগ্ধ বলেন, এই দায়িত্ব তো দিনশেষে আমার, আপনার, সরকারি দল, বিরোধী দল এ দেশের সব জনগণের সম্মিলিত দায়িত্ব।

তিনি আরও বলেন, শহীদরা কিন্তু আমাদেরকে উপর থেকে দেখছেন। শহীদ আবু সাঈদ, শহীদ মীর মুগ্ধ, শহীদ ওয়াসিম আকরাম- তারা কিন্তু আমাদেরকে উপর থেকে দেখছেন।

আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত রয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, বিশেষ অতিথি প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম।

টিটি/কেএসআর

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow