টয়লেটে ফোন স্ক্রল? এই অভ্যাসেই হতে পারে পাইলস
টয়লেটে বসে ফোন স্ক্রল করার অভ্যাস আমাদের অনেকেরই অজান্তে দৈনন্দিন রুটিনে ঢুকে গেছে। বসলেন, ফোনটা হাতে নিলেন, এরপর নিউজ, ভিডিও বা সোশ্যাল মিডিয়া দেখতে দেখতে সময় যেন হঠাৎ করেই বেড়ে যায়। বাইরে থেকে বিষয়টি একেবারেই নিরীহ মনে হলেও চিকিৎসকদের মতে, এই অভ্যাসটি দীর্ঘমেয়াদে শরীরের জন্য বেশ ক্ষতিকর প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে মলদ্বার ও শ্রোণীচক্রের স্বাস্থ্যের ওপর। টয়লেট মূলত খুব অল্প সময়ের একটি প্রয়োজনীয় কাজের জন্য। কিন্তু সেখানে অতিরিক্ত সময় বসে থাকলে শরীরের নিচের অংশে অপ্রয়োজনীয় চাপ তৈরি হয়। সাধারণ চেয়ারের মতো এখানে ভালোভাবে সাপোর্ট পাওয়া যায় না। ফলে দীর্ঘক্ষণ বসে থাকলে মাধ্যাকর্ষণের কারণে মলদ্বারের আশপাশের শিরাগুলোতে রক্ত জমতে শুরু করে, যা ধীরে ধীরে চাপ বাড়ায়। এই অতিরিক্ত চাপ থেকেই তৈরি হতে পারে পাইলস বা হেমোরয়েডস। এটি মূলত মলদ্বারের শিরাগুলো ফুলে যাওয়ার একটি অবস্থা, যেখানে ব্যথা, অস্বস্তি এবং কখনো কখনো রক্তপাতও হতে পারে। আরেকটি বড় সমস্যা হলো দীর্ঘক্ষণ ফোনে ডুবে থাকলে শরীরের স্বাভাবিক সংকেত আমরা অনেক সময় বুঝতেই পারি না। মস্তিষ্ক ও অন্ত্রের মধ্যে যে স্বাভাবিক যোগাযোগ
টয়লেটে বসে ফোন স্ক্রল করার অভ্যাস আমাদের অনেকেরই অজান্তে দৈনন্দিন রুটিনে ঢুকে গেছে। বসলেন, ফোনটা হাতে নিলেন, এরপর নিউজ, ভিডিও বা সোশ্যাল মিডিয়া দেখতে দেখতে সময় যেন হঠাৎ করেই বেড়ে যায়। বাইরে থেকে বিষয়টি একেবারেই নিরীহ মনে হলেও চিকিৎসকদের মতে, এই অভ্যাসটি দীর্ঘমেয়াদে শরীরের জন্য বেশ ক্ষতিকর প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে মলদ্বার ও শ্রোণীচক্রের স্বাস্থ্যের ওপর।
টয়লেট মূলত খুব অল্প সময়ের একটি প্রয়োজনীয় কাজের জন্য। কিন্তু সেখানে অতিরিক্ত সময় বসে থাকলে শরীরের নিচের অংশে অপ্রয়োজনীয় চাপ তৈরি হয়। সাধারণ চেয়ারের মতো এখানে ভালোভাবে সাপোর্ট পাওয়া যায় না। ফলে দীর্ঘক্ষণ বসে থাকলে মাধ্যাকর্ষণের কারণে মলদ্বারের আশপাশের শিরাগুলোতে রক্ত জমতে শুরু করে, যা ধীরে ধীরে চাপ বাড়ায়।
এই অতিরিক্ত চাপ থেকেই তৈরি হতে পারে পাইলস বা হেমোরয়েডস। এটি মূলত মলদ্বারের শিরাগুলো ফুলে যাওয়ার একটি অবস্থা, যেখানে ব্যথা, অস্বস্তি এবং কখনো কখনো রক্তপাতও হতে পারে।
আরেকটি বড় সমস্যা হলো দীর্ঘক্ষণ ফোনে ডুবে থাকলে শরীরের স্বাভাবিক সংকেত আমরা অনেক সময় বুঝতেই পারি না। মস্তিষ্ক ও অন্ত্রের মধ্যে যে স্বাভাবিক যোগাযোগ ব্যবস্থা আছে, সেটি ব্যাহত হয়। শরীর যখন জানায় যে এখনই মলত্যাগের সময়, কিন্তু আমরা ফোনে ব্যস্ত থাকি, তখন সেই সংকেত উপেক্ষিত হয়। এর ফলে মল আরও বেশি সময় ধরে অন্ত্রে থেকে যায় এবং ধীরে ধীরে শুকিয়ে কঠিন হয়ে পড়ে যা পরবর্তীতে কোষ্ঠকাঠিন্য বাড়ায়।
শুধু তাই নয়, দীর্ঘ সময় একই ভঙ্গিতে বসে থাকা পেলভিক ফ্লোরের ওপরও চাপ তৈরি করে। এমনকি সচেতনভাবে জোর না দিলেও শরীরের ভেতরে একটি অজান্তে চাপ তৈরি হতে থাকে, যা মলদ্বারের সূক্ষ্ম টিস্যুর ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। এতে অ্যানাল ফিশার বা মলদ্বারে ক্ষুদ্র ফাটলের ঝুঁকিও বাড়ে, যা অত্যন্ত যন্ত্রণাদায়ক এবং সারতেও সময় লাগে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সমস্যাগুলো এড়ানোর সবচেয়ে সহজ উপায় হলো সময়সীমা নিয়ন্ত্রণ করা। টয়লেটে বসার সময় পাঁচ মিনিটের বেশি না থাকা ভালো। যদি এই সময়ের মধ্যে কাজ সম্পন্ন না হয়, তবে উঠে কিছুক্ষণ হাঁটাচলা করে পরে আবার চেষ্টা করা উচিত।
আরও পড়ুন:
- নিরাপদ ভাবছেন? ই-সিগারেটেও লুকিয়ে ক্যানসার ঝুঁকি
- মাসিকের এই হিসাবেই লুকিয়ে গর্ভধারণের রহস্য
- এই গরমে শিশুর জন্য যা না জানলেই নয়
এর পাশাপাশি একটি গুরুত্বপূর্ণ অভ্যাস হলো টয়লেটে ফোন না নেওয়া। কারণ ফোন থাকলেই মনোযোগ বিভক্ত হয়ে যায় এবং অজান্তেই সময় বেড়ে যায়।
শরীরের স্বাভাবিক প্রক্রিয়াকে সঠিকভাবে কাজ করতে দিতে হলে কিছু মৌলিক অভ্যাস মানা জরুরি। যেমন- পর্যাপ্ত পানি পান করা, আঁশযুক্ত খাবার খাওয়া এবং মল চেপে না রাখা। এগুলো খুব সাধারণ শোনালেও হজম ও অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে অত্যন্ত কার্যকর।
টয়লেটে বসে ফোন স্ক্রল করা হয়তো মুহূর্তের জন্য আরামদায়ক মনে হয়, কিন্তু এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব একেবারেই উপেক্ষা করার মতো নয়। শরীরের স্বাভাবিক সংকেতকে সম্মান করা এবং অপ্রয়োজনীয় সময় নষ্ট না করাই হতে পারে সবচেয়ে স্বাস্থ্যকর সিদ্ধান্ত।
তথ্যসূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া
জেএস/
What's Your Reaction?