টেবিল টেনিসে আনন্দঘন সন্ধ্যা, কিংবদন্তি লিনুকে সংবর্ধনা

দেশের টেবিল টেনিসের কিংবদন্তি জোবেরা রহমান লিনু এ বছর পেয়েছেন স্বাধীনতা পুরস্কার। এই অর্জন তো দেশের টেবিল টেনিসের গোটা অঙ্গনেরই। তাইতো দেশের টেবিল টেনিসের অভিভাবক সংস্থা বাংলাদেশ টেবিল টেনিস ফেডারেশন বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় লিনুকে দিয়েছে সংবর্ধনা। বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের ডাচবাংলা ব্যাংক অডিটোরিয়ামে একই অনুষ্ঠানে সংবর্ধনা ও আর্থিক পুরস্কার দেওয়া হয়েছে সম্প্রতি সাউথ এশিয়ান ইয়ুথ টেবিল টেনিসে পদকজয়ী খেলোয়াড়দের। কিংবদন্তি আর তরুণ খেলোয়াড়দের সংবর্ধনা অনুষ্ঠান মিলে তৈরি হয় এক আনন্দঘন পরিবেশ। সেখানে ১৬ বার জাতীয় চ্যাম্পিয়ন হয়ে ওয়ার্ল্ড গিনেসরেকর্ড বুকে নাম লেখানো লিনু তার জীবনের গল্প ভাগাভাগি করেছেন তরুণ খেলোয়াড়দের সাথে। বৃহস্পতিবার ছিল বিশ্ব টেবিল টেনিসের শতবর্ষ পূর্তি। এমন দিনেই এই আয়োজন ছিলো ফেডারেশনের। অনুষ্ঠানের শুরুতে ভারতের শিমলায় পদকজেতা খেলোয়াড়েরা একে একে আর্থিক পুরস্কারের চেক গ্রহণ করেন লিনুর কাছ থেকে। পুরস্কার প্রদান শেষে বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারের কিছু গল্প লিনু তুলে ধরেন সবার সামনে। জোবেরা রহমান লিনু বলেন, \'আজ অনেকগুলো কারণে আমি খুশি। ১০০ বছর টেবিল টেনিসের পূ

টেবিল টেনিসে আনন্দঘন সন্ধ্যা, কিংবদন্তি লিনুকে সংবর্ধনা

দেশের টেবিল টেনিসের কিংবদন্তি জোবেরা রহমান লিনু এ বছর পেয়েছেন স্বাধীনতা পুরস্কার। এই অর্জন তো দেশের টেবিল টেনিসের গোটা অঙ্গনেরই। তাইতো দেশের টেবিল টেনিসের অভিভাবক সংস্থা বাংলাদেশ টেবিল টেনিস ফেডারেশন বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় লিনুকে দিয়েছে সংবর্ধনা।

বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের ডাচবাংলা ব্যাংক অডিটোরিয়ামে একই অনুষ্ঠানে সংবর্ধনা ও আর্থিক পুরস্কার দেওয়া হয়েছে সম্প্রতি সাউথ এশিয়ান ইয়ুথ টেবিল টেনিসে পদকজয়ী খেলোয়াড়দের।

কিংবদন্তি আর তরুণ খেলোয়াড়দের সংবর্ধনা অনুষ্ঠান মিলে তৈরি হয় এক আনন্দঘন পরিবেশ। সেখানে ১৬ বার জাতীয় চ্যাম্পিয়ন হয়ে ওয়ার্ল্ড গিনেসরেকর্ড বুকে নাম লেখানো লিনু তার জীবনের গল্প ভাগাভাগি করেছেন তরুণ খেলোয়াড়দের সাথে।

বৃহস্পতিবার ছিল বিশ্ব টেবিল টেনিসের শতবর্ষ পূর্তি। এমন দিনেই এই আয়োজন ছিলো ফেডারেশনের। অনুষ্ঠানের শুরুতে ভারতের শিমলায় পদকজেতা খেলোয়াড়েরা একে একে আর্থিক পুরস্কারের চেক গ্রহণ করেন লিনুর কাছ থেকে। পুরস্কার প্রদান শেষে বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারের কিছু গল্প লিনু তুলে ধরেন সবার সামনে।

জোবেরা রহমান লিনু বলেন, 'আজ অনেকগুলো কারণে আমি খুশি। ১০০ বছর টেবিল টেনিসের পূর্তি, সে উপলক্ষে এমন আয়োজন এবং সেই দিনে এখানে থাকতে পেরে ভালো লাগছে, আমি ভাগ্যবান যে এমন দিনটি দেখেছি। কিছুদিন আগে আমি স্বাধীনতা পদক পেয়েছি। এটা আমার জন্য, আমার খেলাটার জন্য এবং টিটি ফেডারেশনের জন্য বড় পাওয়া।'

জোবেরা রহমান লিনু ১৯৬৫ সালের ৯ জুন চট্টগ্রামের কাপ্তাইয়ে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা শেখ আবদুর রহমান ছিলেন সরকারি প্রকৌশলী। তার মায়ের নাম আঁখি রহমান। তবে বাবার হাত ধরেই টিটিতে আসা তার।

লিনু কীভাবে টিটি খেলায় আসেন সেই গল্পও শুনিয়েছেন এভাবে,' কোনো কিছু পেতে শর্ট-কার্ট বলে কিছু নেই। ৯ বছর বয়সে খেলা শুরু করি। দেশ তখন মাত্র স্বাধীন হয়, সেই সময়ে খেলাটা শুরু করা সহজ কিছু ছিল না। বাবা অনেক বেশি সাপোর্ট দিতেন। আমাকে এবং আমার বড় বোন মনিরা মোর্শেদ হেলেনকে খেলতে দিয়েছেন। তখন হাফ প্যান্ট পরে খেলাটা মেনে নেওয়ার মতো সমাজ ব্যবস্থা ছিল না। কিন্তু আমার বাবা আমাদের আধুনিক জীবন-যাপন করার অনুমতি দেন। সেই সঙ্গে এটাও বলেন যে আমাদের কার্যক্রম, আমাদের চলা, কথা বলায় যে কেউ কখনও কষ্ট না পায়। এতটুকু বেসিক শিখেই আমরা বড় হয়েছি।'

লিনু যখন নিজের জীবনের গল্প সবার সঙ্গে ভাগাভাগি করছিলেন, তখন করতালি দিয়ে একাধিকবার তাকে অভিবাদন জানান উপস্থিত প্রত্যেকে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যুব ও ক্রীড়া সচিব মো. মাহবুব-উল-আলম। উপস্থিত ছিলেন ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ক্যাপ্টেন এএম মাকসুদ আহমেদ সনেটসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা।

আরআই/জেএইচ

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow