ট্রিপল মার্ডার: বাবা-মাকে শেষবার দেখতে প্রবাস থেকে ছুটে এলেন সন্তান

সিলেটে নিজ বাসায় হত্যাকাণ্ডের শিকার কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতা ও ব্যবসায়ী আব্দুস সাত্তার এবং তার স্ত্রী সুরাইয়া বেগমের জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হয়েছে। শুক্রবার (১৪ আগস্ট) বাদ আসর নগরের ঐতিহ্যবাহী শাহী ঈদগাহ ময়দানে তাদের জানাজা সম্পন্ন হয়।  জানাজা শেষে আব্দুস সাত্তার ও সুরাইয়া বেগমের মরদেহ মানিকপীর (রহ.) কবরস্থানে দাফন করা হয়। জানাজায় বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা, ব্যবসায়ী, স্বজনসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের ঢল নামে। এদিকে, শুক্রবার রাতে কোতোয়ালি মডেল থানায় অভিযোগ করবেন নিহত দম্পতির যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী ছেলে আরিফ ইফতেখার। জানাজায় সিলেট মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক বদরুজ্জামান সেলিমের পরিচালনায় উপস্থিত ছিলেন- সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, সিনিয়র সচিব মুশফিকুল ফজল আনসারী, সিলেট নগর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, সিলেট মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসাইন, সিলেট মহানগর জামায়াতের আমির মুহাম্মদ ফখরুল ইসলাম, সিলেট জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা হাবিবুর রহমান, মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ হোসেন চৌধুরী, যমুনা অয়েল পিএলসির পরিচালক সালেহ আহমে

ট্রিপল মার্ডার: বাবা-মাকে শেষবার দেখতে প্রবাস থেকে ছুটে এলেন সন্তান

সিলেটে নিজ বাসায় হত্যাকাণ্ডের শিকার কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতা ও ব্যবসায়ী আব্দুস সাত্তার এবং তার স্ত্রী সুরাইয়া বেগমের জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হয়েছে। শুক্রবার (১৪ আগস্ট) বাদ আসর নগরের ঐতিহ্যবাহী শাহী ঈদগাহ ময়দানে তাদের জানাজা সম্পন্ন হয়। 

জানাজা শেষে আব্দুস সাত্তার ও সুরাইয়া বেগমের মরদেহ মানিকপীর (রহ.) কবরস্থানে দাফন করা হয়। জানাজায় বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা, ব্যবসায়ী, স্বজনসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের ঢল নামে। এদিকে, শুক্রবার রাতে কোতোয়ালি মডেল থানায় অভিযোগ করবেন নিহত দম্পতির যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী ছেলে আরিফ ইফতেখার।

জানাজায় সিলেট মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক বদরুজ্জামান সেলিমের পরিচালনায় উপস্থিত ছিলেন- সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, সিনিয়র সচিব মুশফিকুল ফজল আনসারী, সিলেট নগর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, সিলেট মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসাইন, সিলেট মহানগর জামায়াতের আমির মুহাম্মদ ফখরুল ইসলাম, সিলেট জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা হাবিবুর রহমান, মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ হোসেন চৌধুরী, যমুনা অয়েল পিএলসির পরিচালক সালেহ আহমেদ খসরুসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা ও সামাজিক এবং পেশাজীবী সংগঠনের নেতারা।

জানাজার আগে নিহত দম্পতির ছেলে যুক্তরাজ্য প্রবাসী আরিফ ইফতেখার ও সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী মুসল্লিদের উদ্দেশে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন।

বক্তব্যে আরিফ ইফতেখার তার বাবা-মায়ের কারও সঙ্গে কোনো ভুল হয়ে থাকলে তা ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখার অনুরোধ করেন। কোনো পাওনা থাকলে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করারও অনুরোধ জানান তিনি।

সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গভীর নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, শান্তির নগরী হিসেবে পরিচিত সিলেটে অতীতে এ ধরনের নৃশংস ঘটনা খুব কমই ঘটেছে। ঘটনার খবর পাওয়ার পর আমি সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলে গিয়েছি। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারে পুলিশকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছি। অল্প সময়ের মধ্যে আসামিদের গ্রেপ্তার করায় সিলেট মহানগর পুলিশকে ধন্যবাদ জানাই।

তিনি আরও বলেন, এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত আছে কি না তা গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করতে হবে। ঘটনার নেপথ্যে কেউ থাকলে তাকেও আইনের আওতায় আনতে হবে। আমরা চাই, দ্রুতবিচার আদালতের মাধ্যমে মামলাটির দ্রুত নিষ্পত্তি করে নিহতদের পরিবারের সদস্যদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হোক।

বাবা-মাকে শেষবার দেখলেন ছেলে

এর আগে বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) যুক্তরাজ্য প্রবাসী নিহত দম্পতির দুই মেয়ে দেশে পৌঁছান। তাদের ফ্লাইট সকাল সাড়ে ৯টায় সিলেট বিমানবন্দরে অবতরণের কথা থাকলেও বিলম্বের কারণে দুপুর দেড়টার দিকে পৌঁছান। বিমানবন্দর থেকে সরাসরি সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে ময়নাতদন্ত শেষে বাবা-মায়ের মরদেহ নিয়ে রায়নগরের নিজ বাসভবনে যান তারা।

শুক্রবার দুপুরে ঢাকা থেকে একটি ফ্লাইটে সিলেটে পৌঁছান নিহত দম্পতির যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী ছেলে আরিফ ইফতেখার। বিমানবন্দর থেকে সরাসরি বাসায় গিয়ে তিনি বাবা-মাকে শেষবারের মতো দেখেন। শুক্রবার রাতে তিনি কোতোয়ালি মডেল থানায় অভিযোগ দিয়ে মামলা করবেন বলে জানা গেছে।

যেভাবে ঘটে ট্রিপল হত্যাকাণ্ড

গত বুধবার (১২ আগস্ট) সকালে নগরের রায়নগর মিতালী আবাসিক এলাকার ১১১ নম্বর বাসা ‘নিকুঞ্জ ভিলা’ থেকে আব্দুস সাত্তার, তার স্ত্রী সুরাইয়া বেগম ও তাদের গৃহপরিচারিকা তাহমিনার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে মরদেহগুলো ময়নাতদন্তের জন্য সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। পরে গত বৃহস্পতিবার বিকেলে ময়নাতদন্ত শেষে তাদের স্বজনদের কাছে লাশ হস্তান্তর করা হয়।

নিহত আব্দুস সাত্তার সিলেট চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির পরিচালক এবং সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের ১৯ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা ছিলেন। তিনি স্ত্রীকে নিয়ে রায়নগরের নিজ বাসায় বসবাস করতেন।

ঘটনার পর বুধবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে অভিযান চালিয়ে রায়নগর রাজবাড়ী এলাকার একটি কলোনি থেকে বাবুল মিয়া (৪০) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পুলিশের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছোরাটি উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ জানায়, গৃহপরিচারিকা তাহমিনার সঙ্গে বাবুল মিয়ার প্রেমের সম্পর্ক ছিল। পূর্বপরিচিত হওয়ায় বুধবার বাবুল ওই বাড়িতে যান। দরজায় নক করলে তাহমিনা তাকে ভেতরে প্রবেশ করতে দেন। পরে একটি কক্ষে গিয়ে বাবুল তাহমিনার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক করতে চাইলে তাহমিনা এতে অমত প্রকাশ করেন। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে কথাকাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে বাবুল ছুরি দিয়ে তাহমিনাকে আঘাত করেন। এ সময় সুরাইয়া বেগম এগিয়ে এলে তাকেও ছুরিকাঘাত করা হয়। পরে আব্দুস সাত্তার এগিয়ে এলে তার সঙ্গে বাবুলের ধস্তাধস্তি হয়। একপর্যায়ে তাকেও ছুরিকাঘাত করে হত্যা করা হয় বলে পুলিশের ভাষ্য। তিনজনকে হত্যার পর বাবুল মিয়া বারান্দা দিয়ে পালিয়ে নিজের বাড়িতে ফিরে যান। পরে পুলিশের বিশেষ টিম সেখানে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে।

কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি খান মোহাম্মদ মঈনুল জাকির কালবেলাকে বলেন, ব্যবসায়ী আব্দুস সাত্তার এবং তার স্ত্রী সুরাইয়া বেগমের জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হয়েছে। নিহতদের পরিবারের পক্ষ থেকে শুক্রবার রাতে থানায় মামলা করা হবে।

এদিকে, গৃহপরিচারিকা তাহমিনা আক্তারকে সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজারের উপজেলার তার বাড়িতে দাফন করা হয়েছে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow