ঠিকানা পেলেন সেই কোরআন শিক্ষিকা সালেহা

বাড়ি বাড়ি গিয়ে কুরআন পড়িয়ে সংসার চালানো ৮০ বছরের সেই বৃদ্ধা সালেহা বেওয়ার অবশেষে ঠিকানা হয়েছে। মানবতার ডাক্তার হিসেবে পরিচিত পল্লি চিকিৎসক মো. সেবিন তার দায়িত্ব নিয়েছেন। এর আগে বৃদ্ধা সালেহা বেওয়া ও প্যারালাইজড ছেলেকে নিয়ে ‘খাবার-ওষুধের জন্য কাঁদছেন জীবনভর মানুষকে কোরআন শেখানো বৃদ্ধা সালেহা’ শিরোনামে একটি সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশ করে জাগো নিউজ। জানা গেছে, সালেহা বেওয়া ও তার ছেলেকে বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলার রামচন্দ্রপুর বাজার এলাকায় অবস্থিত ‘ওল্ড অ্যান্ড চাইল্ড কেয়ার হোম’ নামের একটি আশ্রমে নিয়ে আসা হয়। এখন থেকে সেখানেই মিলবে তাদের স্থায়ী ঠিকানা, খাবার ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা। স্থানীয় বাসিন্দা ঈশিতা খাতুন জানান, বগুড়া শহরের কর্ণপুর এলাকায় খোলা জায়গায় প্রচণ্ড গরমে ধুঁকছিলেন এই মা ও ছেলে। এলাকাবাসী সামান্য খাবার দিলেও তাদের থাকার মতো কোনো ব্যবস্থা ছিল না। আশ্রমে ঠাঁই পাওয়ার পর সালেহা বেওয়া আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বলেন, ‘কোরআন পড়ায়ে সারাজীবন মানুষের খেদমত করছি। আজ মাথা গোঁজার ঠাঁই পাইলাম। আল্লাহ যেন ওনাদের ভালো করেন।’ সালেহার ছোট ছেলে রহিম শেখ জানায়, সংবাদমাধ্যমে খবর আসার পর থেকেই অনেকেই খোঁজ নিত

ঠিকানা পেলেন সেই কোরআন শিক্ষিকা সালেহা

বাড়ি বাড়ি গিয়ে কুরআন পড়িয়ে সংসার চালানো ৮০ বছরের সেই বৃদ্ধা সালেহা বেওয়ার অবশেষে ঠিকানা হয়েছে। মানবতার ডাক্তার হিসেবে পরিচিত পল্লি চিকিৎসক মো. সেবিন তার দায়িত্ব নিয়েছেন।

এর আগে বৃদ্ধা সালেহা বেওয়া ও প্যারালাইজড ছেলেকে নিয়ে ‘খাবার-ওষুধের জন্য কাঁদছেন জীবনভর মানুষকে কোরআন শেখানো বৃদ্ধা সালেহা’ শিরোনামে একটি সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশ করে জাগো নিউজ।

জানা গেছে, সালেহা বেওয়া ও তার ছেলেকে বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলার রামচন্দ্রপুর বাজার এলাকায় অবস্থিত ‘ওল্ড অ্যান্ড চাইল্ড কেয়ার হোম’ নামের একটি আশ্রমে নিয়ে আসা হয়। এখন থেকে সেখানেই মিলবে তাদের স্থায়ী ঠিকানা, খাবার ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা।

স্থানীয় বাসিন্দা ঈশিতা খাতুন জানান, বগুড়া শহরের কর্ণপুর এলাকায় খোলা জায়গায় প্রচণ্ড গরমে ধুঁকছিলেন এই মা ও ছেলে। এলাকাবাসী সামান্য খাবার দিলেও তাদের থাকার মতো কোনো ব্যবস্থা ছিল না।

আশ্রমে ঠাঁই পাওয়ার পর সালেহা বেওয়া আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বলেন, ‘কোরআন পড়ায়ে সারাজীবন মানুষের খেদমত করছি। আজ মাথা গোঁজার ঠাঁই পাইলাম। আল্লাহ যেন ওনাদের ভালো করেন।’

সালেহার ছোট ছেলে রহিম শেখ জানায়, সংবাদমাধ্যমে খবর আসার পর থেকেই অনেকেই খোঁজ নিতে শুরু করেন। শেষ পর্যন্ত এই আশ্রমে জায়গা হওয়ায় তার দুশ্চিন্তা দূর হয়েছে।

আশ্রমটির প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক পল্লি চিকিৎসক মো. সেবিন বলেন, সংবাদমাধ্যমে তাদের দুর্গতি দেখে আমি স্থির থাকতে পারিনি। আমার সাধ্যমতো চেষ্টা করেছি তাদের সুন্দর একটি পরিবেশে ফিরিয়ে নিতে। বর্তমানে আশ্রমটি প্রায় কানায় কানায় পূর্ণ। সরকারি বা ব্যক্তিগত পর্যায়ে বড় কোনো সহযোগিতা পেলে আরও অনেক অসহায় মানুষকে আমরা আশ্রয় দিতে পারব।

জানা যায়, মো. সেবিনের নিজস্ব উদ্যোগ ও অর্থায়নে পরিচালিত এই আশ্রমে বর্তমানে অনেক অসহায় ও বৃদ্ধ মানুষ চিকিৎসাসহ নিরাপদ জীবনের নিশ্চয়তা পাচ্ছেন। এলাকাবাসী ও সচেতন মহল মনে করছেন, গণমাধ্যমের ইতিবাচক ভূমিকার কারণেই এই বৃদ্ধা ও তার প্যারালাইজড ছেলের শেষ বয়সে একটি নিরাপদ ঠিকানা নিশ্চিত হলো।

এল.বি/কেএইচকে/জেআইএম

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow