ডিমলায় বাড়ছে অনলাইন জুয়ার বিস্তার, উদ্বেগে অভিভাবক ও সচেতন মহল

নীলফামারীর ডিমলা উপজেলায় উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে অনলাইন জুয়ার বিস্তার। স্মার্টফোন এবং বিভিন্ন ডিজিটাল বেটিং অ্যাপ ও ওয়েবসাইটের মাধ্যমে পরিচালিত এ অবৈধ কর্মকাণ্ডে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, বেকার যুবক, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ জড়িয়ে পড়ছেন বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। এতে আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি পারিবারিক অস্থিরতা, সামাজিক সমস্যা এবং তরুণদের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, বাজার, চায়ের দোকান, আড্ডাস্থল থেকে শুরু করে ঘরে বসেই মোবাইল ফোনের মাধ্যমে বিভিন্ন অনলাইন জুয়ার প্ল্যাটফর্মে অর্থের লেনদেন চলছে। শুরুতে অল্প লাভের প্রলোভনে আকৃষ্ট হলেও পরে অনেকেই বড় অঙ্কের অর্থ হারিয়ে ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়ছেন। কেউ ধারদেনায় জড়িয়ে পড়ছেন, আবার কেউ পরিবারের অজান্তে অর্থ ব্যয় করে সংসারে অশান্তির সৃষ্টি করছেন। ফলে অনেক পরিবার আর্থিক ও মানসিক চাপে পড়ছে। স্থানীয় কাপড় ব্যবসায়ী ও সাবেক সেনাসদস্য আব্দুল বাতেন, স্থানীয় বাসিন্দা মোতালেব হোসেন সরকার, আব্দুল জলিল এবং স্থানীয় যুবক আয়নাল হকসহ একাধিক বাসিন্দা বলেন, সহজে অর্থ উপার্জনের প্রলোভনে অনেক তরুণ অনলাইন জুয়ার দিকে ঝুঁকে পড়ছে। এতে পরিবারে অশান্

ডিমলায় বাড়ছে অনলাইন জুয়ার বিস্তার, উদ্বেগে অভিভাবক ও সচেতন মহল

নীলফামারীর ডিমলা উপজেলায় উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে অনলাইন জুয়ার বিস্তার। স্মার্টফোন এবং বিভিন্ন ডিজিটাল বেটিং অ্যাপ ও ওয়েবসাইটের মাধ্যমে পরিচালিত এ অবৈধ কর্মকাণ্ডে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, বেকার যুবক, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ জড়িয়ে পড়ছেন বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। এতে আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি পারিবারিক অস্থিরতা, সামাজিক সমস্যা এবং তরুণদের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, বাজার, চায়ের দোকান, আড্ডাস্থল থেকে শুরু করে ঘরে বসেই মোবাইল ফোনের মাধ্যমে বিভিন্ন অনলাইন জুয়ার প্ল্যাটফর্মে অর্থের লেনদেন চলছে। শুরুতে অল্প লাভের প্রলোভনে আকৃষ্ট হলেও পরে অনেকেই বড় অঙ্কের অর্থ হারিয়ে ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়ছেন। কেউ ধারদেনায় জড়িয়ে পড়ছেন, আবার কেউ পরিবারের অজান্তে অর্থ ব্যয় করে সংসারে অশান্তির সৃষ্টি করছেন। ফলে অনেক পরিবার আর্থিক ও মানসিক চাপে পড়ছে।

স্থানীয় কাপড় ব্যবসায়ী ও সাবেক সেনাসদস্য আব্দুল বাতেন, স্থানীয় বাসিন্দা মোতালেব হোসেন সরকার, আব্দুল জলিল এবং স্থানীয় যুবক আয়নাল হকসহ একাধিক বাসিন্দা বলেন, সহজে অর্থ উপার্জনের প্রলোভনে অনেক তরুণ অনলাইন জুয়ার দিকে ঝুঁকে পড়ছে। এতে পরিবারে অশান্তি, আর্থিক সংকট ও সামাজিক সমস্যা বাড়ছে। সময়মতো কার্যকর উদ্যোগ না নিলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

অভিভাবকদের অভিযোগ, অনেক শিক্ষার্থী নিয়মিত পাঠদানে অনিয়মিত হয়ে পড়ছে এবং দীর্ঘ সময় মোবাইল ফোনে অনলাইন জুয়ার বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে সময় কাটাচ্ছে। এতে লেখাপড়ার প্রতি অনীহা, পরীক্ষার ফলাফলের অবনতি এবং মানসিক অস্থিরতা তৈরি হচ্ছে। শুধু শিক্ষার্থীরাই নয়, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষও এ কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছেন বলে দাবি স্থানীয়দের।

সচেতন মহলের অভিযোগ, সম্প্রতি উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় মোটরসাইকেল, ভ্যানগাড়ি ও বসতবাড়িতে চুরি এবং ছিনতাইয়ের ঘটনা বেড়েছে। তাদের আশঙ্কা, অনলাইন জুয়ায় বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ে কিছু ব্যক্তি অপরাধে জড়িয়ে পড়তে পারেন। তবে এসব ঘটনার সঙ্গে অনলাইন জুয়ার প্রত্যক্ষ সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তসাপেক্ষ বিষয়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, অনলাইন জুয়ার অর্থের লেনদেনে মোবাইল আর্থিক সেবাসহ বিভিন্ন আর্থিক লেনদেন ব্যবস্থার অপব্যবহার করা হচ্ছে। সচেতন মহলের মতে, এসব অবৈধ লেনদেন প্রতিরোধে সংশ্লিষ্ট সংস্থা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বিত নজরদারি আরও জোরদার করা প্রয়োজন।

সচেতন মহলের মতে, অনলাইন জুয়ার নেতিবাচক প্রভাব শুধু আর্থিক ক্ষতির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; এটি ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজের ওপরও দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলছে। সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে অনলাইন জুয়ার আসক্তি ও বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির পর আত্মহত্যার ঘটনার খবর জাতীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। এসব ঘটনা অনলাইন জুয়ার সামাজিক ও মানসিক প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে বলে মনে করছেন তারা।

স্থানীয় এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক খলিলুর রহমান প্রামাণিক বলেন, "অনলাইন জুয়ার কারণে আমাদের সন্তানরা ধীরে ধীরে বিপথে যাচ্ছে। আগে অবসরে খেলাধুলা ও পড়াশোনায় সময় দিলেও এখন অনেকেই ঘণ্টার পর ঘণ্টা মোবাইল ফোনে ব্যস্ত থাকে। এতে লেখাপড়ার পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে এবং পরিবারে উদ্বেগ বাড়ছে।"

সাবেক প্রধান শিক্ষক হেলাল উদ্দিন সরকার বলেন, "সহজে অর্থ উপার্জনের প্রলোভন অনেক তরুণকে অনলাইন জুয়ার দিকে আকৃষ্ট করছে। এটি তাদের শিক্ষা, নৈতিকতা ও ভবিষ্যতের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সমাজ ও প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।"

ডিমলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইমরানুজ্জামান বলেন, "অনলাইন জুয়া একটি গুরুতর সামাজিক সমস্যা। উপজেলা প্রশাসন বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, জনপ্রতিনিধি এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বয় করে জনসচেতনতা বৃদ্ধি ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে কাজ করা হচ্ছে।"

ডিমলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শওকত আলী সরকার বলেন, "অনলাইন জুয়ার বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। অভিযোগ পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি বিট পুলিশিং ও জনসচেতনতামূলক কার্যক্রমও চলমান রয়েছে।"

স্থানীয় সচেতন নাগরিকদের দাবি, অনলাইন জুয়ার বিস্তার রোধে নিয়মিত অভিযান জোরদার, অবৈধ জুয়ার অ্যাপ ও ওয়েবসাইটের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা, সন্দেহজনক আর্থিক লেনদেনের ওপর নজরদারি বৃদ্ধি এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানভিত্তিক সচেতনতামূলক কর্মসূচি আরও বিস্তৃত করা প্রয়োজন। তাদের মতে, পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, জনপ্রতিনিধি, সামাজিক ও ধর্মীয় সংগঠন এবং প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমেই এ সামাজিক সমস্যা কার্যকরভাবে মোকাবিলা করা সম্ভব।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow