ডে কেয়ারে ভয়ংকর কাণ্ড: কাঁদলেই শিশুদের আটকে রাখা হতো ওয়াশিং মেশিনে!

অফিসের কাজে মন দিতে পারছিলেন না মা-বাবা। তাই দুই-তিন বছরের ছোট্ট সন্তানকে রেখে গিয়েছিলেন অফিসেরই ডে কেয়ার সেন্টারে। ভেবেছিলেন, ঘরের মতোই নিরাপদ থাকবে আদরের সন্তান। কিন্তু সেই বিশ্বাসের সুযোগ নিয়ে সেখানে চলত গা শিউরে ওঠা নৃশংসতা। কাঁদলে দুই থেকে তিন বছর বয়সী শিশুদের ওয়াশিং মেশিনের ভেতর বসিয়ে রাখা হতো। মুখ বন্ধ করতে টয়লেট জেট স্প্রে দিয়ে মুখে ছিটানো হতো পানি। এমনকি বাথরুমে আটকে রাখার মতো নৃশংস শাস্তিও দেওয়া হতো। আরও পড়ুন শিশুর কোলে গন্ধগোকুল নাকি বিড়াল, ভাইরাল ভিডিওর আসল রহস্য সম্প্রতি ভারতের তথ্যপ্রযুক্তি নগরী বেঙ্গালুরুর ক্যাপজেমিনি কোম্পানির হ্যাল ক্যাম্পাসের ভেতরের একটি ডে কেয়ার সেন্টারে ঘটেছে বর্বরোচিত এই ঘটনা। এসব ঘটনার বেশ কিছু ভিডিও ভাইরাল হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। কান্না থামাতে ‘অমানুষিক’ শাস্তি ছোট্ট শিশুরা তো একটু কাঁদবেই, মা-বাবার জন্য মন খারাপ করবেই। কিন্তু সেই কান্না থামানোর জন্য অমানুষিক নির্যাতন কোনো সুস্থ মানুষের কাজ হতে পারে না। জানা গেছে, ডে কেয়ার সেন্টারটিতে কান্না থামানোর জন্য একটা ফ্রন্ট-লোডিং ওয়াশিং মেশিনের ড্রামের ভেতর পুরে দেওয়া হতো দুই-তিন বছরের অব

ডে কেয়ারে ভয়ংকর কাণ্ড: কাঁদলেই শিশুদের আটকে রাখা হতো ওয়াশিং মেশিনে!

অফিসের কাজে মন দিতে পারছিলেন না মা-বাবা। তাই দুই-তিন বছরের ছোট্ট সন্তানকে রেখে গিয়েছিলেন অফিসেরই ডে কেয়ার সেন্টারে। ভেবেছিলেন, ঘরের মতোই নিরাপদ থাকবে আদরের সন্তান। কিন্তু সেই বিশ্বাসের সুযোগ নিয়ে সেখানে চলত গা শিউরে ওঠা নৃশংসতা।

কাঁদলে দুই থেকে তিন বছর বয়সী শিশুদের ওয়াশিং মেশিনের ভেতর বসিয়ে রাখা হতো। মুখ বন্ধ করতে টয়লেট জেট স্প্রে দিয়ে মুখে ছিটানো হতো পানি। এমনকি বাথরুমে আটকে রাখার মতো নৃশংস শাস্তিও দেওয়া হতো।

সম্প্রতি ভারতের তথ্যপ্রযুক্তি নগরী বেঙ্গালুরুর ক্যাপজেমিনি কোম্পানির হ্যাল ক্যাম্পাসের ভেতরের একটি ডে কেয়ার সেন্টারে ঘটেছে বর্বরোচিত এই ঘটনা। এসব ঘটনার বেশ কিছু ভিডিও ভাইরাল হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়।

কান্না থামাতে ‘অমানুষিক’ শাস্তি

ছোট্ট শিশুরা তো একটু কাঁদবেই, মা-বাবার জন্য মন খারাপ করবেই। কিন্তু সেই কান্না থামানোর জন্য অমানুষিক নির্যাতন কোনো সুস্থ মানুষের কাজ হতে পারে না।

জানা গেছে, ডে কেয়ার সেন্টারটিতে কান্না থামানোর জন্য একটা ফ্রন্ট-লোডিং ওয়াশিং মেশিনের ড্রামের ভেতর পুরে দেওয়া হতো দুই-তিন বছরের অবুঝ শিশুদের। সেখানেই শেষ নয়, বাথরুমের টয়লেট জেট স্প্রে দিয়ে সরাসরি তাদের মুখে পানি ছিটানো হতো, যাতে তারা চিৎকার করতে না পারে। দম বন্ধ করা বাথরুমে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে রাখা হতো তাদের।

এই ভয়ংকর অপরাধের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে ওই ডে কেয়ারের পাঁচ নারী কেয়ারগিভার বা শিশু পরিচর্যাকারীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

ভাইরাল সেই ভিডিও

পুরো ঘটনাটি আড়ালেই থেকে যেত, যদি না নির্যাতনের সেই গোপন ভিডিওগুলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফাঁস হতো। ভিডিওগুলো ভাইরাল হতেই ইন্টারনেট জুড়ে নিন্দার ঝড় উঠেছে।

নিজের সন্তানের ওপর এমন অমানুষিক অত্যাচারের দৃশ্য দেখে স্তম্ভিত ও বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন আইটি কোম্পানির চাকরিজীবী মা-বাবারা।

ভিডিওগুলো সামনে আসার পর শুধু পুলিশেই নয়, কর্ণাটক রাজ্য শিশু অধিকার সুরক্ষা কমিশনেও একটি পৃথক অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। করপোরেট অফিসগুলোর ভেতরে থাকা এ ধরনের চাইল্ড কেয়ার বা শিশু যত্ন কেন্দ্রগুলোর নিরাপত্তা আর নজরদারি নিয়ে এখন বড় ধরনের প্রশ্ন উঠে গেছে। পুলিশ এরই মধ্যে ঘটনার তদন্তে নেমেছে। অভিযুক্তদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

সূত্র: এনডিটিভি
কেএএ/

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow