ঢাকার অট্টালিকা এখন ‘গোয়ালঘর’

দরজায় কড়া নাড়ছে পবিত্র ঈদুল আজহা। কোরবানির পশু কেনা শেষ করে রাজধানীর অনেক পরিবার এখন প্রস্তুতি নিচ্ছে ঈদের মূল আয়োজনের। তবে সেই আয়োজনের বড় অংশজুড়ে রয়েছে পশু রাখার ব্যবস্থা। ফলে রাজধানীর বহু বহুতল ভবনের গ্যারেজ, খোলা জায়গা, এমনকি বাসার সামনের সরু গলিও এখন অস্থায়ী গোয়ালঘরে পরিণত হয়েছে। কোথাও গাড়ির জায়গায় বাঁধা হয়েছে গরু, কোথাও আবার বাসার সামনে বাঁশ-ত্রিপল টাঙিয়ে তৈরি করা হয়েছে অস্থায়ী শেড।   আধুনিক অট্টালিকার কংক্রিটের নিচতলায় গরুর উপস্থিতি যেন শহরের যান্ত্রিক জীবনে গ্রামীণ আবহ ফিরিয়ে এনেছে। গ্যারেজে বাঁধা গরুর সামনে দাঁড়িয়ে শিশুদের হাসি, পরিবারের ব্যস্ততা আর ঈদের প্রস্তুতি— সব মিলিয়ে নগরজীবনে এখন কোরবানির উৎসবের প্রাণচাঞ্চল্য স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। বুধবার (২৭ মে) রাজধানীর রামপুরা, বনশ্রী ও খিলগাঁও এলাকা ঘুরে দেখা যায়, ভবনের নিচতলায় গাড়ির সংখ্যা কমে গেছে, সেখানে জায়গা করে নিয়েছে গরু। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত বাসিন্দারা কেউ গরুকে খড় খাওয়াচ্ছেন, কেউ গোসল করাচ্ছেন, আবার কেউ ছবি তুলে আত্মীয়-স্বজনকে পাঠাচ্ছেন। শিশুদের আনন্দও চোখে পড়ার মতো।   তবে সব আনন্দের মাঝেও কিছু ভোগান্তির কথাও বলছেন বাসিন্দারা।

ঢাকার অট্টালিকা এখন ‘গোয়ালঘর’

দরজায় কড়া নাড়ছে পবিত্র ঈদুল আজহা। কোরবানির পশু কেনা শেষ করে রাজধানীর অনেক পরিবার এখন প্রস্তুতি নিচ্ছে ঈদের মূল আয়োজনের। তবে সেই আয়োজনের বড় অংশজুড়ে রয়েছে পশু রাখার ব্যবস্থা। ফলে রাজধানীর বহু বহুতল ভবনের গ্যারেজ, খোলা জায়গা, এমনকি বাসার সামনের সরু গলিও এখন অস্থায়ী গোয়ালঘরে পরিণত হয়েছে। কোথাও গাড়ির জায়গায় বাঁধা হয়েছে গরু, কোথাও আবার বাসার সামনে বাঁশ-ত্রিপল টাঙিয়ে তৈরি করা হয়েছে অস্থায়ী শেড।  

আধুনিক অট্টালিকার কংক্রিটের নিচতলায় গরুর উপস্থিতি যেন শহরের যান্ত্রিক জীবনে গ্রামীণ আবহ ফিরিয়ে এনেছে। গ্যারেজে বাঁধা গরুর সামনে দাঁড়িয়ে শিশুদের হাসি, পরিবারের ব্যস্ততা আর ঈদের প্রস্তুতি— সব মিলিয়ে নগরজীবনে এখন কোরবানির উৎসবের প্রাণচাঞ্চল্য স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

বুধবার (২৭ মে) রাজধানীর রামপুরা, বনশ্রী ও খিলগাঁও এলাকা ঘুরে দেখা যায়, ভবনের নিচতলায় গাড়ির সংখ্যা কমে গেছে, সেখানে জায়গা করে নিয়েছে গরু। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত বাসিন্দারা কেউ গরুকে খড় খাওয়াচ্ছেন, কেউ গোসল করাচ্ছেন, আবার কেউ ছবি তুলে আত্মীয়-স্বজনকে পাঠাচ্ছেন। শিশুদের আনন্দও চোখে পড়ার মতো।  

jagonews24.com

তবে সব আনন্দের মাঝেও কিছু ভোগান্তির কথাও বলছেন বাসিন্দারা। অনেক জায়গায় গরুর বর্জ্য ও দুর্গন্ধ নিয়ে অভিযোগ রয়েছে। কোথাও কোথাও গাড়ি পার্কিং সংকটও তৈরি হয়েছে। তবু অধিকাংশ বাসিন্দাই বলছেন, বছরে একবারের এই উৎসবকে ঘিরে সাময়িক এসব অসুবিধা মেনে নেওয়া যায়। 

বনশ্রী এ ব্লকের এক ভবনের গ্যারেজে দুটি গরু রেখেছেন ব্যবসায়ী মো. আরাফাত দেওয়ান। জাগো নিউজকে তিনি বলেন, হাট থেকে গরু আনার পর থেকেই ছেলেমেয়েরা খুব খুশি। গাড়ি বাইরে রাখতে হচ্ছে, কিন্তু ঈদের সময় এটা নিয়ে কেউ বিরক্ত না। বরং সবাই মিলে গরুর দেখাশোনা করছি।  

তিনি জানান, ভবনের বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলেই গরু রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রতিদিন সকালে গরুর খাবার ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজও ভাগাভাগি করে করছেন কয়েকজন। 

বনশ্রীর এ ব্লকের আরেক ভবনের গ্যারেজে বেশ কয়েকটি গরু দেখা যায়। সেখানে কথা হয় চাকরিজীবী নাসির উদ্দিনের সঙ্গে। জাগো নিউজকে তিনি বলেন, গ্যারেজের গাড়ি সরিয়ে গরু রাখা হয়েছে। ভবনের সবাই মিলে সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কারণ অধিকাংশ পরিবারই কোরবানি দিচ্ছে। ঈদের সময় এই কয়েকদিন একটু ভোগান্তি হলেও উৎসবের জন্য সবাই মানিয়ে নিচ্ছে।  

আরও পড়ুন
হাটে ক্রেতা কম, শেষ দিনে ‘পড়ে গেছে’ গরুর দাম 
হাটের হাসিল কম দিলে কি কোরবানি হবে? 

নাসির উদ্দিন বলেন, রাতে গরুর ডাক, আবার সকালে বাচ্চাদের হৈ চৈ— সব মিলিয়ে পরিবেশটাই বদলে গেছে। মনে হচ্ছে শহরের মাঝেও এক ধরনের গ্রামীণ আবহ তৈরি হয়েছে। তবে গরুর গোবরের গন্ধে মাঝেমধ্যে একটু খারাপ লাগছে। কিন্তু কিছু তো করার নেই, সাময়িক এই দুর্ভোগ সবাই মেনে নিচ্ছি।  

খিলগাঁওয়ের তালতলা এলাকার বাসিন্দা পিয়াস তালুকদার বলেন, আমরা একটি গরু ও একটি ছাগল কোরবানি দিচ্ছি। ভবনের অনেকেই কোরবানির জন্য গরু কিনেছেন। বাসার সামনে বাঁশ ও ত্রিপল দিয়ে ছোট একটি অস্থায়ী ঘর তৈরি করা হয়েছে। দিনের বেলা গরু সেখানে রাখা হয় এবং রাতে গ্যারেজে থাকে।   

তিনি বলেন, আগে গ্রামের বাড়িতে কোরবানি দিতাম। এখন ঢাকাতেই করতে হয়। তাই কয়েকদিনের জন্য কষ্ট হলেও গরু রাখার ব্যবস্থা করতে হয়। বাচ্চারাও গরুর সঙ্গে সময় কাটাতে পারছে।  

একই এলাকার গৃহিণী সেফালী আক্তার বলেন, সকাল থেকে গরুর জন্য খড়, ভুসি, পানি সবকিছু সামলাতে হচ্ছে। বাসার নিচে গরু থাকায় একটু গন্ধ হচ্ছে ঠিকই, কিন্তু ঈদের আমেজও তৈরি হয়েছে। ছোটবেলায় গ্রামের বাড়িতে এমন পরিবেশ দেখতাম, এখন ঢাকায়ও কিছুটা সেই অনুভূতি পাচ্ছি। 

jagonews24.com

খিলগাঁওয়ের আরেক বাসিন্দা রুবেল হোসেন বলেন, এখন পুরো এলাকাজুড়েই গরুর উপস্থিতি। রাস্তায় হাঁটলেই গরুর ডাক শোনা যাচ্ছে। বাচ্চারা ছবি তুলছে, কেউ খাবার খাওয়াচ্ছে। এই দৃশ্যগুলো ঈদের আলাদা আনন্দ তৈরি করে। 

তিনি বলেন, বেশিরভাগ মানুষ বাসার গ্যারেজে কোরবানির গরু বেঁধে রেখেছেন। কেউ কেউ বাসার সামনে বাঁশ ও ত্রিপল দিয়ে গরু রাখার ব্যবস্থা করেছেন। ছোট-বড় সবাই গরু নিয়ে এখন আনন্দ করছেন এবং ঈদের দিনের অপেক্ষায় রয়েছেন। 

রামপুরার জামতলা এলাকার বাসিন্দা মো. নূরউদ্দিন বলেন, এই এলাকায় এখন সব থেকে বড় ভবন শাপলা টাওয়ার। ভবনটির কাজ এখনো শেষ হয়নি। তাই এলাকার অনেকে কোরবানির গরু কিনে এই ভবনের গ্যারেজে রেখেছেন।  

একই এলাকার বাসিন্দা মহিউদ্দিন বলেন, আমাদের বাসার গ্যারেজে গাড়ি রয়েছে। অন্যান্য বছর গাড়ি সরিয়ে গ্যারেজে গরু রাখি। এবার শাপলা টাওয়ারের গ্যারেজে রেখেছি। আমার মতো অনেকেই ওখানে গরু রেখেছেন। এতে এবার আমাদের ভোগান্তি কিছুটা হলেও কম হচ্ছে। 

তিনি জানান, ঈদের আগে চুরি বা গরু ছিনতাইয়ের আশঙ্কা থাকায় সবাই সতর্ক রয়েছেন। এলাকার কয়েকজন যুবক রাতে পাহারার ব্যবস্থাও করেছেন। 

এমএএস/কেএসআর

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow