ঢাকা বাইপাস এক্সপ্রেসওয়েতে ওঠে না গাড়ি, সড়কে দুর্ভোগ
ঢাকা বাইপাস এক্সপ্রেসওয়ের একটি বড় অংশ যানবাহন চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা হলেও প্রত্যাশিত সুফল মিলছে না। অধিক টোল এবং ১৮ কিলোমিটার পথে র্যাম্প ও ইউ-টার্ন না থাকায় অধিকাংশ চালক এক্সপ্রেসওয়ে এড়িয়ে সাধারণ সড়ক ব্যবহার করছেন। ফলে একদিকে এক্সপ্রেসওয়ের বড় অংশ ফাঁকা পড়ে থাকছে, অন্যদিকে গাজীপুর অংশে দীর্ঘ যানজট ও জনভোগান্তি অব্যাহত রয়েছে। ঢাকা বাইপাস এক্সপ্রেসওয়ের নির্মাণকাজ শুরু হয় ২০২২ সালের মার্চ মাসে। ৪৮ কিলোমিটার দীর্ঘ এ এক্সপ্রেসওয়েটির সম্পূর্ণ কাজ চলতি বছরের জুনের মধ্যে শেষ হওয়ার নির্ধারিত সময় ছিল। ইতোমধ্যে গাজীপুর থেকে মদনপুর পর্যন্ত ১৮ কিলোমিটার অংশ যানবাহন চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে। কিন্তু যানবাহনগুলো এক্সপ্রেসওয়ের সুফল ভোগ না করে সেই চিরচেনা যানজটের ভোগান্তিই স্বেচ্ছায় বরণ করছে। এই সড়ক অতিক্রমকারী গাড়িচালকদের ৬০ শতাংশই এক্সপ্রেসওয়ে ব্যবহার করেন না। এর কারণ হিসেবে বলা হচ্ছে অধিক টোল এবং ১৮ কিলোমিটার পথের মধ্যে র্যাম্প ও ইউ-টার্ন না থাকা। ফলে ঢাকা বাইপাস এক্সপ্রেসওয়ের গাজীপুর অংশ ফাঁকা থাকলেও সাধারণ লেনে দীর্ঘ যানজট ও জনভোগান্তি দেখা যাচ্ছে। অথচ সড়কটিকে এক্সপ্রেসওয়েতে উন্নীত করার
ঢাকা বাইপাস এক্সপ্রেসওয়ের একটি বড় অংশ যানবাহন চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা হলেও প্রত্যাশিত সুফল মিলছে না। অধিক টোল এবং ১৮ কিলোমিটার পথে র্যাম্প ও ইউ-টার্ন না থাকায় অধিকাংশ চালক এক্সপ্রেসওয়ে এড়িয়ে সাধারণ সড়ক ব্যবহার করছেন। ফলে একদিকে এক্সপ্রেসওয়ের বড় অংশ ফাঁকা পড়ে থাকছে, অন্যদিকে গাজীপুর অংশে দীর্ঘ যানজট ও জনভোগান্তি অব্যাহত রয়েছে।
ঢাকা বাইপাস এক্সপ্রেসওয়ের নির্মাণকাজ শুরু হয় ২০২২ সালের মার্চ মাসে। ৪৮ কিলোমিটার দীর্ঘ এ এক্সপ্রেসওয়েটির সম্পূর্ণ কাজ চলতি বছরের জুনের মধ্যে শেষ হওয়ার নির্ধারিত সময় ছিল। ইতোমধ্যে গাজীপুর থেকে মদনপুর পর্যন্ত ১৮ কিলোমিটার অংশ যানবাহন চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে। কিন্তু যানবাহনগুলো এক্সপ্রেসওয়ের সুফল ভোগ না করে সেই চিরচেনা যানজটের ভোগান্তিই স্বেচ্ছায় বরণ করছে। এই সড়ক অতিক্রমকারী গাড়িচালকদের ৬০ শতাংশই এক্সপ্রেসওয়ে ব্যবহার করেন না। এর কারণ হিসেবে বলা হচ্ছে অধিক টোল এবং ১৮ কিলোমিটার পথের মধ্যে র্যাম্প ও ইউ-টার্ন না থাকা। ফলে ঢাকা বাইপাস এক্সপ্রেসওয়ের গাজীপুর অংশ ফাঁকা থাকলেও সাধারণ লেনে দীর্ঘ যানজট ও জনভোগান্তি দেখা যাচ্ছে। অথচ সড়কটিকে এক্সপ্রেসওয়েতে উন্নীত করার উদ্দেশ্য ছিল চট্টগ্রাম বন্দর থেকে উত্তরবঙ্গগামী ট্রাক, ট্রেলারসহ পণ্যবাহী যানবাহন যাতে ঢাকায় প্রবেশ না করেই দ্রুত ময়মনসিংহ, রংপুর ও রাজশাহী বিভাগে যাতায়াত করতে পারে।
অন্যদিকে, এক্সপ্রেসওয়েটি স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্য নতুন ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সড়কটির প্রস্থ মাত্র ৬০ থেকে ৭০ ফুট হলেও এটি দুই পাশের মানুষের মধ্যে দূরত্ব বাড়িয়ে দিয়েছে। এছাড়া ১৮ কিলোমিটার অংশে কয়েকটি আন্ডারপাস থাকলেও তা অপ্রতুল। ফলে প্রয়োজন অনুযায়ী আন্ডারপাস না থাকায় এক্সপ্রেসওয়ের নিরাপত্তাব্যবস্থার অংশ হিসেবে স্থাপন করা নেটিং বা ফেন্সিং ভোগড়া, জাঝড়, মৈরান, মেঘডুবিসহ কয়েকটি স্থানে কেটে ঝুঁকি নিয়ে রাস্তা পারাপার করছেন স্থানীয়রা।
সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বে ২৫ বছরের চুক্তিতে ৪৮ কিলোমিটার দীর্ঘ ঢাকা বাইপাস সড়ককে (জয়দেবপুর-দেবগ্রাম-ভুলতা-মদনপুর) চার লেন এক্সপ্রেসওয়েতে উন্নীত করার কাজ ২৫ সালের ২৪ আগস্ট সড়কের গাজীপুর অংশের ১৮ কিলোমিটার অংশ যানবাহন চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হয়। চীনের সিচুয়ান রোড অ্যান্ড ব্রিজ গ্রুপ, শামীম এন্টারপ্রাইজ লিমিটেড ও ইউডিসি কনস্ট্রাকশন লিমিটেড যৌথভাবে প্রকল্পে বিনিয়োগ করে। প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে ঢাকা বাইপাস এক্সপ্রেসওয়ে উন্নয়ন কম্পানি লিমিটেড।
ট্রেইলারচালক সাদেকুল ইসলাম বলেন, এক্সপ্রেসওয়েতে ১৮ কিলোমিটার পথে টোল ৭৪০ টাকা যা মাত্রাতিরিক্ত। এক্সপ্রেসওয়েতে ওঠার আগে কাঞ্চন সেতুর টোল ৩২৫ টাকা। দুই স্থানের টোল এক হাজার ৬৫ টাকা। ট্রেইলারের টোল কাঞ্চন সেতুতে ১৩০ টাকা, এক্সপ্রেসওয়ের টোল ৬১০ টাকা। দুই টোল একত্রে ৭৪০ টাকা। যারা ট্রাক বা ট্রেইলার ভাড়া করেন, তারা অতিরিক্ত ভাড়া দিতে গড়িমসি করেন। মূলত টোল বেশি হওয়ার কারণেই চালকরা এক্সপ্রেসওয়ে ব্যবহার করেন না। ফলে যানজটে কিছুটা ভোগান্তি হলেও সাধারণ লেন দিয়েই বেশির ভাগ চালক গাড়ি চালান।
কাভার্ডভ্যানের চালক জাহিদুল ইসলাম বলেন, ১৮ কিলোমিটার এক্সপ্রেসওয়ের মধ্যে ১৩ কিলোমিটারই গাজীপুর অংশে পড়েছে। ওই পথের দুই পাশেই শিল্প এলাকা। এসব শিল্পপ্রতিষ্ঠানে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে শত শত পণ্যবাহী যানবাহন চলাচল করে। অনেক যানবাহন সিলেট, নরসিংদী ও গাজীপুরের কালীগঞ্জ শিল্প এলাকা থেকে মীরেরবাজার হয়ে উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় যাতায়াত করে। কিন্তু মীরেরবাজারে র্যাম্প না থাকায় সিলেট, নরসিংদী ও কালীগঞ্জ শিল্প এলাকার যানগুলো এক্সপ্রেসওয়েতে প্রবেশ করতে পারে না। এক্সপ্রেসওয়েতে প্রবেশ করতে হলে এই যানগুলোকে ১৮ কিলোমিটার পথ ঘুরে আসতে হয়। দীর্ঘ পথ ঘুরে আসায় টোল ফি, জ্বালানি ও সময় বেশি লাগে। এ কারণে অনেক চালক এক্সপ্রেসওয়ে ব্যবহার করেন না। তারা সাধারণ লেন দিয়ে চলাচল করেন।
গাজীপুরের স্থানীয় বাসিন্দরা বলেন, কিন্তু মীরেরবাজারে র্যাম্প না থাকায় সুন্দর সড়কটি এলাকার মানুষের কোনো কাজে আসছে না। সড়কটি ব্যবহার করতে হলে তাদের ১০ কিলোমিটার দূরত্বের ভোগড়া চৌরাস্তা বা কাঞ্চন সেতু এলাকায় যেতে হচ্ছে।
মরান এলাকার স্থানীয় মোহর আলী বলেন, এক্সপ্রেসওয়ের উত্তর পাশের্ মানুষের সঙ্গে দক্ষিণ পাশের মানুষের যোগাযোগ অনেক কমে গেছে। ৬০ফিট প্রস্থ রাস্তাটি স্থানীয়দের যোগাযোগে বা আত্মীয়র বাড়িতে যাতায়াতে যেখানে লাগতো ৫ মিনিট সেখানে এখন লাগছে প্রায় পৌনে ১ ঘণ্টা। কারন প্রায় ২ কিলোমিটার ঘুরে আন্ডারপাস দিয়ে রাস্তা পার হতে হয়। একপাশ থেকে অন্য পাশে কৃষি কাজ, স্কুল শিক্ষার্থীদের যাতায়ত, দোকান পাটের ব্যবসাসহ নানা কাজে যাতায়াত করতে হয়। সে ক্ষেত্রে নেট কেটে ডিভাইডার টপকিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সড়ক পারাপার করতে হচ্ছে স্থানীয়দের।
ঢাকা বাইপাস এক্সপ্রেসওয়ে উন্নয়ন কম্পানি লিমিটেডের টোল প্লাজার সহকারী ব্যবস্থাপক মো. সাঈদ আহমেদ বলেন, এই সড়কে প্রাইভেট ট্রেইলার, হেভি-মাঝারি ও বড় ট্রাক, কাভার্ডভ্যান ও মিনিট্রাক চলাচল করে বেশি। এসব পরিবহনের টোল সরকারই নির্ধারণ করেছে। সরকার নির্ধারিত হারেই টোল আদায় করা হচ্ছে। তবে এর মধ্যেও প্রায় ৫০ শতাংশ যানবাহন এক্সপ্রেসওয়ে বাহির দিয়ে চলাচল করে। এর কিছু কারন রয়েছে যে এক্সিট পয়েন্টগুলোর কাজ এখনো শেষ হয়নি।
তিনি আরও বলেন, সড়কটির কাজ সম্পূর্ণ হলে যানবাহন চলাচল অনেক বেড়ে যাবে। এছাড়া ওয়েট স্কেলেনিং শুরু হয়ে গেলে অতিরিক্ত লোডে গাড়িগুলো বাহির দিয়ে যেতে পারবে না। এক্সপ্রেসওয়েতে সেফটির ব্যাপারে আমরা নেটিং করে দিয়েছি। কিছু কিছু জায়গায় স্থানীয়রা এগুলো কেটে রাস্তা পার হচ্ছে।
মো. সাঈদ আহমেদ বলেন, এসব নিয়ে আমাদের পেট্টোল টিম দিয়ে টহল দিয়ে সেফটির নিশ্চিত করছি। অনেক জায়গায় ওভারপাস বা আন্ডারপাসগুলো প্লান করে তৈরি করা হয়েছে। যেহেতু এটি এক্সপ্রেসওয়ে তাই দ্রুতগতিতে যানবাহনগুলো চলাচল করবে। ফলে যত্রতত্র রাস্তা পারাপার করা যাবে না। এক্ষেত্রে স্থানীয় প্রশাসন এবং আমাদের সচেতনতা আছে সেটা বাড়াতে হবে। এক্সপ্রেসওয়ে পুরোপুরি চালু হলে সব ঝুঁকি কমে যাবে।
এনএইচআর/এমএস
What's Your Reaction?