ঢাবির মোকাররম ভবনে গলা কাটা বিড়ালের মরদেহ, প্রাণী নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) মোকাররম ভবনের দ্বিতীয় তলার একটি সিঁড়ি থেকে গলা কাটা অবস্থায় একটি বিড়ালের মরদেহ উদ্ধার হওয়ার ঘটনায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়েছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ক্যাম্পাসে প্রাণীদের নিরাপত্তা এবং সিসিটিভি নজরদারি ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন শিক্ষার্থীরা। জানা যায়, গত ২ আগস্ট (রোববার) সকালে মোকাররম ভবনের ফার্মেসি ও পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের মধ্যবর্তী সিঁড়িতে প্রথম বিড়ালটির মরদেহ দেখতে পান ভবনের এক কর্মচারী। ভবন খোলার পর সকাল ৮টার আগেই তিনি ঘটনাটি লক্ষ্য করেন বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান। তাদের ভাষ্য, ভবনের পেছনের ল্যাবসংলগ্ন সিঁড়িতে বিড়ালটির মরদেহ পড়ে ছিল। পরে পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা সেটি পলিথিনে মুড়ে সেখান থেকে সরিয়ে নেন। ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনার চেষ্টা করা হলেও উল্লেখযোগ্য কোনো তথ্য মেলেনি। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, সিঁড়ির মাঝামাঝি স্থাপিত ক্যামেরাটি দীর্ঘদিন ধরেই অচল। পাশাপাশি ভবনের বেশ কয়েকটি অংশ এখনো সিসিটিভি নজরদারির বাইরে রয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, ঘটনাস্থলে উল্লেখযোগ্য রক্তের চিহ্ন না থাকায় তাঁদের ধ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) মোকাররম ভবনের দ্বিতীয় তলার একটি সিঁড়ি থেকে গলা কাটা অবস্থায় একটি বিড়ালের মরদেহ উদ্ধার হওয়ার ঘটনায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়েছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ক্যাম্পাসে প্রাণীদের নিরাপত্তা এবং সিসিটিভি নজরদারি ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন শিক্ষার্থীরা।
জানা যায়, গত ২ আগস্ট (রোববার) সকালে মোকাররম ভবনের ফার্মেসি ও পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের মধ্যবর্তী সিঁড়িতে প্রথম বিড়ালটির মরদেহ দেখতে পান ভবনের এক কর্মচারী। ভবন খোলার পর সকাল ৮টার আগেই তিনি ঘটনাটি লক্ষ্য করেন বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান।
তাদের ভাষ্য, ভবনের পেছনের ল্যাবসংলগ্ন সিঁড়িতে বিড়ালটির মরদেহ পড়ে ছিল। পরে পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা সেটি পলিথিনে মুড়ে সেখান থেকে সরিয়ে নেন।
ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনার চেষ্টা করা হলেও উল্লেখযোগ্য কোনো তথ্য মেলেনি। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, সিঁড়ির মাঝামাঝি স্থাপিত ক্যামেরাটি দীর্ঘদিন ধরেই অচল। পাশাপাশি ভবনের বেশ কয়েকটি অংশ এখনো সিসিটিভি নজরদারির বাইরে রয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, ঘটনাস্থলে উল্লেখযোগ্য রক্তের চিহ্ন না থাকায় তাঁদের ধারণা, বিড়ালটিকে অন্য কোথাও হত্যা করে পরে সেখানে ফেলে রাখা হয়েছে। ঘটনার পর নিচতলা ও আশপাশের এলাকায় রক্তের দাগ কিংবা অন্য কোনো আলামত খোঁজা হলেও কিছু পাওয়া যায়নি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মাহবুব আসিক বলেন, ‘একটি নিরীহ প্রাণীর সঙ্গে এমন নিষ্ঠুর আচরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এটি বিকৃত মানসিকতার বহিঃপ্রকাশ। কার্যকর সিসিটিভি না থাকায় এখনো দায়ীদের শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকার সময় এমন ঘটনা আরও উদ্বেগজনক।’
প্রাণী কল্যাণে কাজ করা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক সংগঠন ‘কেয়ার ডিইউ’-এর প্রধান নির্বাহী মো. সাদিক মুনওয়ার মুনেম বলেন, ‘ক্যাম্পাসে প্রাণীদের প্রতি নিষ্ঠুরতার ঘটনা নতুন নয়। এ নিয়ে আমরা দীর্ঘদিন ধরে উদ্বেগ জানিয়ে আসছি। কিন্তু প্রশাসনের কার্যকর উদ্যোগের অভাব হতাশাজনক। আমরা চাই, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মানুষ, প্রাণী ও প্রকৃতির সহাবস্থানের একটি নিরাপদ ও মানবিক ক্যাম্পাস হিসেবে গড়ে উঠুক।’
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর সহযোগী অধ্যাপক মো. ইসরাফিল রতন বলেন, ‘ঘটনাটি তাঁর জানা ছিল না। তবে প্রাণীদের প্রতি যেকোনো সহিংসতাকে নিন্দনীয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, “ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের সম্পর্কে তথ্য পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কেন এ ধরনের ঘটনা ঘটছে, সেটিও খতিয়ে দেখা হবে। বিষয়টি সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে প্রশাসন প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।’
What's Your Reaction?