ঢাবি শিক্ষক গোলাম রাব্বানির চেয়ারম্যান পদ থেকে অব্যাহতির দাবিতে স্মারকলিপি 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) আওয়ামীপন্থি শিক্ষক ও সাবেক প্রক্টর গোলাম রাব্বানীকে বিভাগীয় চেয়ারম্যান পদ থেকে অব্যাহতি এবং তার বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে উপাচার্য বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেছে একদল শিক্ষার্থী। রোববার (১১ জানুয়ারি) বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে শিক্ষার্থীরা উপাচার্যের কার্যালয়ে এ স্মারকলিপি জমা দেন। উপাচার্যের পক্ষ থেকে স্মারকলিপিটি গ্রহণ করেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক মামুন আহমেদ। গত ৬ জানুয়ারি ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের তৎকালীন চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. আতাউর রহমান বিশ্বাস ইন্তেকাল করেন। এরপর ৮ জানুয়ারি প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে চেয়ারম্যান হিসেবে গোলাম রাব্বানীর নাম দেখা যায়।  তবে স্মারকলিপি প্রদানকারী শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, গোলাম রাব্বানী ‘আওয়ামী ফ্যাসিবাদের দোসর’ ও ‘জুলাই অভ্যুত্থানের বিরোধিতাকারী’, যা একইসঙ্গে তাদের বিস্মিত এবং ক্ষুব্ধ করেছে বলে স্মারকলিপিতে উল্লেখ করেছেন।  স্মারকলিপি প্রদান শেষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক মুসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদ বলেন, ‘প্রশাসনের এ ধরনের আচরণ জুলাইয়ের রক্তের সঙ্গে সুস্পষ্ট প্রতারণা

ঢাবি শিক্ষক গোলাম রাব্বানির চেয়ারম্যান পদ থেকে অব্যাহতির দাবিতে স্মারকলিপি 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) আওয়ামীপন্থি শিক্ষক ও সাবেক প্রক্টর গোলাম রাব্বানীকে বিভাগীয় চেয়ারম্যান পদ থেকে অব্যাহতি এবং তার বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে উপাচার্য বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেছে একদল শিক্ষার্থী।

রোববার (১১ জানুয়ারি) বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে শিক্ষার্থীরা উপাচার্যের কার্যালয়ে এ স্মারকলিপি জমা দেন। উপাচার্যের পক্ষ থেকে স্মারকলিপিটি গ্রহণ করেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক মামুন আহমেদ।

গত ৬ জানুয়ারি ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের তৎকালীন চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. আতাউর রহমান বিশ্বাস ইন্তেকাল করেন। এরপর ৮ জানুয়ারি প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে চেয়ারম্যান হিসেবে গোলাম রাব্বানীর নাম দেখা যায়। 

তবে স্মারকলিপি প্রদানকারী শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, গোলাম রাব্বানী ‘আওয়ামী ফ্যাসিবাদের দোসর’ ও ‘জুলাই অভ্যুত্থানের বিরোধিতাকারী’, যা একইসঙ্গে তাদের বিস্মিত এবং ক্ষুব্ধ করেছে বলে স্মারকলিপিতে উল্লেখ করেছেন। 

স্মারকলিপি প্রদান শেষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক মুসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদ বলেন, ‘প্রশাসনের এ ধরনের আচরণ জুলাইয়ের রক্তের সঙ্গে সুস্পষ্ট প্রতারণা ছাড়া কিছু নয়।’

তিনি বলেন, ‘গোলামী রাব্বানী ছিলেন শিক্ষার্থীদের কাছে একটি আতঙ্কের নাম। আজ আমরা জুলাই গণহত্যার মামলার আসামি ডাকাত খ্যাত প্রক্টর গোলাম রাব্বানীকে চেয়ারম্যান পদ থেকে অপসারণসহ সব ফ্যাসিস্টদের বিরুদ্ধে কালবিলম্ব না করে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে উপাচার্য বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেছি। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে জানিয়েছি আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে যদি ফ্যাসিবাদের দোসর গোলাম রাব্বানীকে বিভাগীয় চেয়ারম্যান পদ থেকে অপসারণ করা না হয়, তাহলে উদ্ভূত যেকোনো পরিস্থিতির দায় সম্পূর্ণভাবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকেই নিতে হবে।’  

স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, দীর্ঘ আওয়ামী ফ্যাসিবাদের সময় তিনি ২০১৭ সালের ২২ অক্টোবর থেকে ২০২৩ সালের ৫ এপ্রিল পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তার দীর্ঘ এই ছয় বছরের দায়িত্ব পালনকালে তিনি একাধিকবার শিক্ষার্থীদের ওপর হওয়া হামলার পৃষ্ঠপোষকতা করেছেন। সরাসরি তিনি জুলাই অভ্যুত্থানের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন, জুলাই গণহত্যার সমর্থনে মিছিল করেছেন। যার ফলশ্রুতিতে খুনি হাসিনার পাশাপাশি তার নামেও একাধিক মামলা দায়ের রয়েছে।

এতে উল্লেখ করা হয়, এমতাবস্থায় বিভাগের চেয়ারম্যান হিসেবে তার দায়িত্বগ্রহণ শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা হুমকিতে ফেলার পাশাপাশি জুলাই অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষাকেও প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। তাই আমরা ডাকসু থেকে শিক্ষক এবং চেয়ারম্যান হিসেবে তার অপসারণ ও তার বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাচ্ছি। এ ছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যত ফ্যাসিস্ট শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী রয়েছে তাদের প্রত্যেককে চাকরি থেকে অব্যাহতি দিয়ে বিচারে মুখোমুখি করার দাবি জানাচ্ছি।

আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে যদি ফ্যাসিবাদের দোসর গোলাম রাব্বানীকে বিভাগীয় চেয়ারম্যান পদ থেকে অপসারণ করা না হয় তাহলে উদ্ভূত যে কোনো প্রীতিকর বা অপ্রীতিকর পরিস্থিতির দায় সম্পূর্ণভাবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকেই বহন করতে হবে বলেও স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow