তথ্য গোপন করে প্রধান আসামির জামিন, হাইকোর্টের বেঞ্চ অফিসার সাময়িক বরখাস্ত
তথ্য গোপন ও জালিয়াতির মাধ্যমে কুকি-চিন ন্যাশনাল ফ্রন্ট (কেএনএফ)-এর জন্য তৈরি পোশাক জব্দের মামলার প্রধান আসামিকে জামিন করানোর ঘটনায় হাইকোর্টের এক বেঞ্চ অফিসারকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন জানিয়েছে, অভিযুক্ত বেঞ্চ অফিসার জাকির হোসেনকে বরখাস্তের পাশাপাশি কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দেওয়া হয়েছে এবং ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত চলছে। জানা গেছে, গত ২৯ এপ্রিল অ্যাটর্নি জেনারেল বিষয়টি প্রধান বিচারপতির নজরে আনেন। এরপর প্রধান বিচারপতি ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দেন। প্রাথমিক তদন্তে বেরিয়ে এসেছে, মামলার নথি উপস্থাপনের সময় গুরুতর অনিয়ম ও তথ্য বিকৃতি করা হয়েছিল, যা আদালতকে বিভ্রান্ত করে। তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, প্রায় সাত মাস আগে চট্টগ্রামের ‘রিংভো অ্যাপারেলস’-এর মালিক সাহেদুল ইসলাম হাইকোর্টে জামিন আবেদন করেন। গত বছরের ১৬ সেপ্টেম্বর বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলাম ও বিচারপতি আব্দুল্লাহ ইউসুফ সুমনের বেঞ্চে শুনানির সময় ভিন্ন একটি মামলার এজাহার উপস্থাপন করা হয়, যেখানে কুকি-চিন সংশ্লিষ্ট কোনো অভিযোগ ছিল না। ওই তথ্যের ভিত্তিতে আদালত তাকে জামিন দেন। তবে পরবর্তীতে মূল জাল
তথ্য গোপন ও জালিয়াতির মাধ্যমে কুকি-চিন ন্যাশনাল ফ্রন্ট (কেএনএফ)-এর জন্য তৈরি পোশাক জব্দের মামলার প্রধান আসামিকে জামিন করানোর ঘটনায় হাইকোর্টের এক বেঞ্চ অফিসারকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন জানিয়েছে, অভিযুক্ত বেঞ্চ অফিসার জাকির হোসেনকে বরখাস্তের পাশাপাশি কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দেওয়া হয়েছে এবং ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত চলছে।
জানা গেছে, গত ২৯ এপ্রিল অ্যাটর্নি জেনারেল বিষয়টি প্রধান বিচারপতির নজরে আনেন। এরপর প্রধান বিচারপতি ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দেন। প্রাথমিক তদন্তে বেরিয়ে এসেছে, মামলার নথি উপস্থাপনের সময় গুরুতর অনিয়ম ও তথ্য বিকৃতি করা হয়েছিল, যা আদালতকে বিভ্রান্ত করে।
তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, প্রায় সাত মাস আগে চট্টগ্রামের ‘রিংভো অ্যাপারেলস’-এর মালিক সাহেদুল ইসলাম হাইকোর্টে জামিন আবেদন করেন। গত বছরের ১৬ সেপ্টেম্বর বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলাম ও বিচারপতি আব্দুল্লাহ ইউসুফ সুমনের বেঞ্চে শুনানির সময় ভিন্ন একটি মামলার এজাহার উপস্থাপন করা হয়, যেখানে কুকি-চিন সংশ্লিষ্ট কোনো অভিযোগ ছিল না। ওই তথ্যের ভিত্তিতে আদালত তাকে জামিন দেন।
তবে পরবর্তীতে মূল জালিয়াতি ঘটে জামিন আদেশের নথিতে। আদেশের প্রথম পৃষ্ঠার মামলার নম্বর, থানার নাম ও অভিযোগের ধারা পরিবর্তন করে সেখানে কুকি-চিনের পোশাক জব্দের মামলার তথ্য সংযুক্ত করা হয়। এই জাল নথি ব্যবহার করেই কারা কর্তৃপক্ষ সাহেদুল ইসলামকে মুক্তি দেয়।
ঘটনাটি সামনে আসে চলতি সপ্তাহে, যখন একই মামলার আরেক আসামি জামিন চাইতে গিয়ে পূর্বের ওই আদেশকে নজির হিসেবে আদালতে উপস্থাপন করেন। নথিপত্র যাচাই করতে গিয়ে অসঙ্গতি ধরা পড়লে পুরো বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে।
এদিকে তদন্তে আরও জানা গেছে, ২০২৫ সালের ১৭ মে চট্টগ্রামের বায়েজিদ বোস্তামি এলাকায় ‘রিংভো অ্যাপারেলস’-এর একটি গুদাম থেকে কেএনএফ-এর জন্য তৈরি ২০ হাজার ৩০০টি পোশাক জব্দ করা হয়। গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, প্রায় দুই কোটি টাকার বিনিময়ে এসব পোশাকের ক্রয়াদেশ দেওয়া হয়েছিল। এ ঘটনায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে দায়ের হওয়া মামলায় সাহেদুল ইসলামসহ তিনজনকে আসামি করা হয়।
অন্য দুই আসামি গোলাম আজম ও নিয়াজ হায়দারও মামলায় অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। আদালত প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, হাইকোর্ট বিভাগের কোনো কর্মকর্তা বা ফৌজদারি শাখার কর্মচারীর যোগসাজশ ছাড়া এমন জালিয়াতি সম্ভব নয়। তাই বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, তদন্তের অগ্রগতির ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট আরও ব্যক্তির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে নথি যাচাই প্রক্রিয়া আরও কঠোর করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
What's Your Reaction?