তদন্ত কমিটি গঠনের পর কী হবে, বোর্ড কি ভেঙে দিতে পারে এনএসসি?
কয়েকদিন আগেই জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের কাছে ঢাকার ক্লাব, জেলা ও বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থা থেকে লিখিত অভিযোগও আনা হয়েছে। দেশের ক্রিকেট ইতিহাসের সর্বকালের অন্যতম বড় তারকা তামিম ইকবাল নিজে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ ভবনে গিয়ে তিনদিন আগে লিখিত অভিযোগপত্র পেশ করেন। এরপর সিরাজউদ্দীন মোহাম্মদ আলমগীর আর রেদোয়ান বিন ফুয়াদও জেলা, বিভাগীয় এবং সার্ভিসেস, বিশ্ববিদ্যালয় তথা ক্যাটাগরি ‘৩’ থেকে আরও লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন এনএসসির কাছে। অভিযোগে তারা বিসিবি নির্বাচনের নানা অনিয়মের চিত্র তুলে ধরেন। বিসিবি প্রধান ও সরকারি হস্তক্ষেপের কথাও বিশেষভাবে উল্লেখ ছিল অভিযোগপত্রে। পাশাপাশি দেশের ক্রিকেটের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আসর ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ না হওয়া এবং জেলা, উপজেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে লিগ বন্ধ থাকা নিয়েও হতাশা প্রকাশ করে প্রতিকার চাওয়া হয়েছে। সেই অভিযোগগুলোর প্রেক্ষিতে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ একজন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিকে প্রধান করে ৫ সদস্যের এক তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। ৫ সদস্যের ওই তদন্ত কমিটির প্রধান হলেন সুপ্রিম কোর্টের সাবেক বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান। বাকি ৪ সদস্য হলেন-যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব সেলিম ফকির, ঢাকা
কয়েকদিন আগেই জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের কাছে ঢাকার ক্লাব, জেলা ও বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থা থেকে লিখিত অভিযোগও আনা হয়েছে। দেশের ক্রিকেট ইতিহাসের সর্বকালের অন্যতম বড় তারকা তামিম ইকবাল নিজে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ ভবনে গিয়ে তিনদিন আগে লিখিত অভিযোগপত্র পেশ করেন।
এরপর সিরাজউদ্দীন মোহাম্মদ আলমগীর আর রেদোয়ান বিন ফুয়াদও জেলা, বিভাগীয় এবং সার্ভিসেস, বিশ্ববিদ্যালয় তথা ক্যাটাগরি ‘৩’ থেকে আরও লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন এনএসসির কাছে।
অভিযোগে তারা বিসিবি নির্বাচনের নানা অনিয়মের চিত্র তুলে ধরেন। বিসিবি প্রধান ও সরকারি হস্তক্ষেপের কথাও বিশেষভাবে উল্লেখ ছিল অভিযোগপত্রে। পাশাপাশি দেশের ক্রিকেটের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আসর ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ না হওয়া এবং জেলা, উপজেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে লিগ বন্ধ থাকা নিয়েও হতাশা প্রকাশ করে প্রতিকার চাওয়া হয়েছে।
সেই অভিযোগগুলোর প্রেক্ষিতে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ একজন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিকে প্রধান করে ৫ সদস্যের এক তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।
৫ সদস্যের ওই তদন্ত কমিটির প্রধান হলেন সুপ্রিম কোর্টের সাবেক বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান। বাকি ৪ সদস্য হলেন-যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব সেলিম ফকির, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (দক্ষিণ) যুগ্ম পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ নাসিরুল ইসলাম, সিনিয়র ক্রীড়া সাংবাদিক এটিএম সাইদুজ্জামান এবং বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট সালেহ আকরাম।
আগামী ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত কমিটিকে তাদের প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে। এই তদন্ত কমিটি গঠনের মধ্য দিয়ে একটি বার্তা স্পষ্ট হয়েছে যে, বিসিবির নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় সত্যিই কোনো গলদ ছিল কিনা, নির্বাচন অনিয়মে ভরা, অস্বচ্ছ ও সরকারি হস্তক্ষেপে পরিপূর্ণ ছিল কিনা—তা খুঁটিয়ে বের করতে উদ্যোগী ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক তথা জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ।
এই তদন্ত কমিটি গঠনের খবর চাউর হওয়ার পর থেকে এখন ক্রিকেটপাড়ায় ঘুরে ফিরে সবার মনেই একটি ধারণা স্থির হয়ে গেছে। তা হলো—এই তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ওপরই আসলে নির্ভর করছে বিসিবির বর্তমান পরিচালক পর্ষদের ভাগ্য।
পাশাপাশি দুটি প্রশ্নও অনেকের মনেই উঁকি দিচ্ছে। প্রথম প্রশ্ন, তদন্ত কমিটি যদি সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে কথা বলে, তদন্ত করে নিশ্চিত হন যে নির্বাচনী প্রক্রিয়া সত্যিই স্বচ্ছ ছিল না—অনিয়মে ভরা এবং সরকারি অযাচিত হস্তক্ষেপ ছিল; মানে ক্লাব ও জেলা-বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থা আর অপর ক্যাটাগরির কাউন্সিলরদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে যদি সত্যিই বেরিয়ে আসে বিসিবির নির্বাচনে অস্বচ্ছতা, অনিয়ম আর সরকারি অযাচিত হস্তক্ষেপ ছিল—তখন কী হবে?
শুধু নির্বাচনে অস্বচ্ছতার অভিযোগ প্রমাণিত হলেই কি বিসিবির বর্তমান কমিটি ভেঙে যাবে? সে প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে বেরিয়ে এসেছে আরেক নতুন তথ্য।
জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের কাছে ক্লাব ও জেলা-বিভাগের ক্রিকেট সংগঠকরা যে চিঠি দিয়েছেন, সেখানে শুধু প্রশ্নবিদ্ধ ও অনিয়মে ভরা নির্বাচনের কথাই ছিল না। পাশাপাশি এই বোর্ডের নানা ব্যর্থতার বিষয়গুলোও যুক্ত আছে।
যেমন—বাংলাদেশের ওয়ানডে ক্রিকেটের সূঁতিকাগার বলে পরিচিত ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ আয়োজন করতে না পারা। এতদিনে লিগ মাঠে গড়ানোর কথা। অথচ দলবদলই হয়নি। দায়সারা গোছের প্রথম ও দ্বিতীয় বিভাগ লিগ আয়োজন করলেও এই পরিচালক পর্ষদ তৃতীয় বিভাগ এবং প্রিমিয়ার লিগ আয়োজন করতে পারেনি।
বিসিবির এই কমিটির অধীনে ক্লাবগুলো খেলতে অনীহা প্রকাশ করেছে। খোঁজ নিয়ে নিশ্চিত হওয়া গেছে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের গঠিত অ্যাডহক কমিটির বদলে আগামী ৯০ দিনের মধ্যে জেলা ও বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থাগুলোয় যে নির্বাচন হবে, সেই নির্বাচিত কমিটিও এ বোর্ডের অধীনে লিগ আয়োজনে অস্বীকৃতি জানাবে। তখন তো ঘরোয়া ক্রিকেটে এক বিরাট সংকট দেখা দেবে।
হোক তা ক্রিকেট—কোনো নির্দিষ্ট ফেডারেশন যখন সেই খেলাটাকে মাঠে রাখতে পারবে না, তখন তো অস্তিত্ব বিপন্ন হওয়ার যোগাড়।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের ২০১৮ সালের গঠনতন্ত্রের ‘২১’ ধারায় পরিষ্কার বলা আছে—যদি কোনো ফেডারেশন যথাযথভাবে কাজ না করে এবং নিজ সংস্থার স্বার্থবিরোধী কার্যক্রম পরিচালনা করে, তাহলে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ ওই কমিটির কার্যক্রম বন্ধ তথা কমিটি বাতিল করে দিতে পারবে। এবং প্রয়োজনে একটি অ্যাডহক কমিটি গঠন করতে পারবে।
যেহেতু ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে ৯ থেকে ১০টি সহ সব বিভাগের প্রায় ৫০টি ক্লাব বর্তমান বিসিবি পরিচালক পর্ষদকে অবৈধ মানছে, তাই তাদের অধীনে কোনো লিগ খেলতে নারাজ তারা।
পাশাপাশি আগামীতে যে নির্বাচিত জেলা ও বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থা হবে, সেগুলো থেকেও এ বোর্ডের অধীনে উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় লিগ বর্জনের ডাক আসবে।
তখন অবস্থাটা কিরকম দাঁড়াবে? ঘরোয়া ক্রিকেট স্থবির হয়ে পড়বে। এবং অনিবার্যভাবেই সেই লিগগুলো আয়োজন করতে না পারার দায় বর্তমান বিসিবি প্রধান আমিনুল ইসলাম বুলবুল ও তার বোর্ডকেই নিতে হবে।
তার মানে হলো—বর্তমান পরিচালক পর্ষদের ভাগ্য এখন পুরোই অনিশ্চিত। ক্লাব ও জেলা-বিভাগের সকল অভিযোগ প্রমাণিত হলে এনএসসি এ কমিটি ভেঙে দিতে পারে।
এআরবি/এমএমআর
What's Your Reaction?