ভারত-কানাডা ইউরেনিয়াম চুক্তি নিয়ে পাকিস্তানের উদ্বেগ

ভারত ও কানাডার মধ্যে ইউরেনিয়াম সরবরাহ চুক্তি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে পাকিস্তান। ইসলামাবাদের আশঙ্কা, এ ধরনের চুক্তি দক্ষিণ এশিয়ার কৌশলগত ভারসাম্য এবং বৈশ্বিক পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তাররোধ ব্যবস্থায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) এক বিবৃতিতে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ উদ্বেগের কথা জানায়। এর আগে কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি ভারত সফরে গিয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে দুই দেশ অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সহযোগিতা আরও জোরদারের বিষয়ে একমত হয়, যার মধ্যে বেসামরিক পারমাণবিক খাতে সহযোগিতাও অন্তর্ভুক্ত। সফরকালে দুই দেশ চলতি বছরের মধ্যেই একটি মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি সম্পন্ন করার পরিকল্পনার কথা জানায়। পাশাপাশি ২০৩০ সালের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ৫০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়। বর্তমানে দুই দেশের বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ৯ বিলিয়ন ডলার। এ সময় ভারত ও কানাডা প্রায় ২ দশমিক ৬ বিলিয়ন কানাডীয় ডলারের ইউরেনিয়াম সরবরাহ চুক্তিতে সই করে। একই সঙ্গে ছোট আকারের মডুলার রিয়্যাক্টর এবং উন্নত পারমাণবিক রিয়্যাক্টর প্রযুক্তি উন্নয়নে যৌথভাবে কাজ করার কথাও

ভারত-কানাডা ইউরেনিয়াম চুক্তি নিয়ে পাকিস্তানের উদ্বেগ

ভারত ও কানাডার মধ্যে ইউরেনিয়াম সরবরাহ চুক্তি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে পাকিস্তান। ইসলামাবাদের আশঙ্কা, এ ধরনের চুক্তি দক্ষিণ এশিয়ার কৌশলগত ভারসাম্য এবং বৈশ্বিক পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তাররোধ ব্যবস্থায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) এক বিবৃতিতে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ উদ্বেগের কথা জানায়। এর আগে কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি ভারত সফরে গিয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে দুই দেশ অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সহযোগিতা আরও জোরদারের বিষয়ে একমত হয়, যার মধ্যে বেসামরিক পারমাণবিক খাতে সহযোগিতাও অন্তর্ভুক্ত।

সফরকালে দুই দেশ চলতি বছরের মধ্যেই একটি মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি সম্পন্ন করার পরিকল্পনার কথা জানায়। পাশাপাশি ২০৩০ সালের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ৫০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়। বর্তমানে দুই দেশের বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ৯ বিলিয়ন ডলার।

এ সময় ভারত ও কানাডা প্রায় ২ দশমিক ৬ বিলিয়ন কানাডীয় ডলারের ইউরেনিয়াম সরবরাহ চুক্তিতে সই করে। একই সঙ্গে ছোট আকারের মডুলার রিয়্যাক্টর এবং উন্নত পারমাণবিক রিয়্যাক্টর প্রযুক্তি উন্নয়নে যৌথভাবে কাজ করার কথাও জানানো হয়।

মোদি এই চুক্তিকে ভারতের বেসামরিক পারমাণবিক জ্বালানি কর্মসূচির জন্য দীর্ঘমেয়াদি ইউরেনিয়াম সরবরাহ নিশ্চিত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেন। অন্যদিকে কার্নি বলেন, এ সহযোগিতা ভারতের পরিষ্কার ও নির্ভরযোগ্য বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যকে সহায়তা করবে।

তবে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র তাহির আন্দ্রাবি এক বিবৃতিতে বলেন, এই দীর্ঘমেয়াদি ইউরেনিয়াম সরবরাহ চুক্তি এবং পারমাণবিক প্রযুক্তি সহযোগিতা নিয়ে পাকিস্তান গভীর উদ্বেগের সঙ্গে বিষয়টি লক্ষ্য করছে।

তিনি বলেন, এটি বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতায় একটি দেশভিত্তিক ব্যতিক্রমের উদাহরণ। ১৯৭৪ সালে ভারতের প্রথম পারমাণবিক পরীক্ষা কানাডা থেকে শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে সরবরাহ করা একটি রিয়্যাক্টরে উৎপাদিত প্লুটোনিয়াম ব্যবহার করেই হয়েছিল। সেই ঘটনার পরই গঠিত হয়েছিল নিউক্লিয়ার সাপ্লাইয়ার গ্রুপ। 

পাকিস্তানের দাবি, যে দেশের কার্যকলাপের কারণে বৈশ্বিক পারমাণবিক রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা তৈরি হয়েছিল, এখন সেই দেশকেই আবার বিশেষ সুবিধা দেওয়া হচ্ছে।

পাকিস্তানের পররাষ্ট্র দপ্তর আরও জানায়, ভারত তার সব বেসামরিক পারমাণবিক স্থাপনাকে এখনও আইএইএ-এর তত্ত্বাবধানে আনেনি এবং নতুন চুক্তিতেও সে বিষয়ে কোনো বাধ্যবাধকতার প্রতিশ্রুতি নেই। ফলে কিছু স্থাপনা আন্তর্জাতিক পরিদর্শনের বাইরে থেকে যাচ্ছে।

মুখপাত্র আরও প্রশ্ন তোলেন, চুক্তিটিতে পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তাররোধে স্পষ্ট ও কার্যকর নিশ্চয়তা রয়েছে কিনা—এ বিষয়টি এখনও পরিষ্কার নয়।

পাকিস্তান সতর্ক করে বলেছে, বিদেশ থেকে নিশ্চিত ইউরেনিয়াম সরবরাহ পেলে ভারত তার নিজস্ব ইউরেনিয়াম মজুত সামরিক কাজে ব্যবহার করতে পারে। এতে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির উপাদান উৎপাদন বাড়তে পারে এবং ভারতের পারমাণবিক অস্ত্র ভান্ডার দ্রুত সম্প্রসারিত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

পাকিস্তানের মতে, এ ধরনের পরিস্থিতি দক্ষিণ এশিয়ায় বিদ্যমান কৌশলগত ভারসাম্যকে আরও দুর্বল করতে পারে এবং বৈশ্বিক পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তাররোধ ব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতাও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

এ প্রসঙ্গে পাকিস্তান পুনরায় বলেছে, বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতা অবশ্যই বৈষম্যহীন ও নির্দিষ্ট মানদণ্ডভিত্তিক হওয়া উচিত—বিশেষ করে যেসব দেশ পারমাণবিক অস্ত্রের বিস্তার রোধ চুক্তিতে স্বাক্ষর করেনি তাদের ক্ষেত্রে।

ইসলামাবাদের মতে, এ ধরনের বাছাই করা ব্যতিক্রম বৈশ্বিক অস্ত্র বিস্তাররোধ কাঠামোর বিশ্বাসযোগ্যতা দুর্বল করে এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক শান্তি-নিরাপত্তাকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে।

সূত্র: জিও টিভি। 

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow