তলানিতে রাজস্ব আয়, বন্ধ অনেক ব্যবসা
বছরের ব্যবধানে প্রায় সাড়ে ৩ কোটি টাকা রাজস্ব কমেছে হিমায়িত মাছ রপ্তানি কমেছে চারগুণ ভারত ভ্রমণ ভিসা চালু করলেও বন্দরে প্রভাব নেই ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া স্থলবন্দরে দীর্ঘদিন ধরে কর্মচাঞ্চল্য না থাকায় সংকটে পড়েছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। ব্যবসায়িক নিষেধাজ্ঞা ও ভিসা জটিলতার কারণে বন্দর দিয়ে আমদানিতে সরকারের রাজস্ব আয় ব্যাপকভাবে কমে গেছে। তবে রপ্তানি কিছুটা বেড়েছে। আর এর অর্ধেকই এসেছে হিমায়িত মাছ রপ্তানিতে। অন্য সব পণ্য রপ্তানি না হওয়ায় অনেকের ব্যবসা বন্ধ হয়ে গেছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর বাংলাদেশি কিছু পণ্য রপ্তানিতে ভারত সরকারের দেওয়া নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার হলে গতি ফিরবে স্থলবন্দরে। আরও পড়ুন বেনাপোল স্থলবন্দরে মাছ আমদানি বন্ধ হওয়ার পথে আখাউড়া স্থল শুল্ক স্টেশনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এই বন্দর দিয়ে প্রায় ৫২৪ কোটি টাকার পণ্য রপ্তানি হয়েছে, যা আগের অর্থবছরের চেয়ে প্রায় ১০ কোটি টাকা বেশি। রপ্তানি হওয়া পণ্যের মধ্যে রয়েছে হিমায়িত মাছ, সিমেন্ট, শুঁটকি, আটা-ময়দা ও ভোজ্যতেল। একই অর্থবছরে ভারত থেকে এক কোটি ৯৬ লাখ ৩৩ হাজার ৭৪০ টাকার পণ্য আমদানি করা হয়েছ
- বছরের ব্যবধানে প্রায় সাড়ে ৩ কোটি টাকা রাজস্ব কমেছে
- হিমায়িত মাছ রপ্তানি কমেছে চারগুণ
- ভারত ভ্রমণ ভিসা চালু করলেও বন্দরে প্রভাব নেই
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া স্থলবন্দরে দীর্ঘদিন ধরে কর্মচাঞ্চল্য না থাকায় সংকটে পড়েছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। ব্যবসায়িক নিষেধাজ্ঞা ও ভিসা জটিলতার কারণে বন্দর দিয়ে আমদানিতে সরকারের রাজস্ব আয় ব্যাপকভাবে কমে গেছে। তবে রপ্তানি কিছুটা বেড়েছে। আর এর অর্ধেকই এসেছে হিমায়িত মাছ রপ্তানিতে। অন্য সব পণ্য রপ্তানি না হওয়ায় অনেকের ব্যবসা বন্ধ হয়ে গেছে।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর বাংলাদেশি কিছু পণ্য রপ্তানিতে ভারত সরকারের দেওয়া নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার হলে গতি ফিরবে স্থলবন্দরে।
আখাউড়া স্থল শুল্ক স্টেশনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এই বন্দর দিয়ে প্রায় ৫২৪ কোটি টাকার পণ্য রপ্তানি হয়েছে, যা আগের অর্থবছরের চেয়ে প্রায় ১০ কোটি টাকা বেশি। রপ্তানি হওয়া পণ্যের মধ্যে রয়েছে হিমায়িত মাছ, সিমেন্ট, শুঁটকি, আটা-ময়দা ও ভোজ্যতেল।

একই অর্থবছরে ভারত থেকে এক কোটি ৯৬ লাখ ৩৩ হাজার ৭৪০ টাকার পণ্য আমদানি করা হয়েছে। এরমধ্যে ছিল চাল, আগরবাতি ও জিরা। এসব পণ্য থেকে সরকারের রাজস্ব আয় মাত্র ৭১ লাখ ৩২ হাজার ৫৯৩ টাকা। অথচ ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এই বন্দর দিয়ে সাত কোটি ৩১ লাখ ৮২ হাজার ৭৫৯ টাকার পণ্য আমদানি করা হয়েছিল। তখন রাজস্ব আদায় হয়েছিল চার কোটি ১৬ লাখ ৮৪ হাজার ৬১৯ টাকা। এক বছরের ব্যবধানে প্রায় সাড়ে তিন কোটি টাকা রাজস্ব কমেছে।
‘সবশেষ ২০২৫-২৬ অর্থবছরেও মোটামুটি মাছ রপ্তানি ভালো ছিল। তবে গত দুই মাসে খুব খারাপ অবস্থা যাচ্ছে। যেখানে দৈনিক ৫০-৬০ হাজার কেজি মাছ আগরতলায় রপ্তানি হতো, তা গত দুই মাসে ১০-১৫ হাজারে নেমে এসেছে’
ব্যবসায়ীরা বলছেন, রপ্তানি আয় বাড়লেও এর বেশিরভাগই আসছে হিমায়িত মাছ থেকে। অন্যান্য পণ্য রপ্তানি কম হচ্ছে। ২০২৫ সালের মে মাসে কিছু পণ্যের ওপর ভারতীয় নিষেধাজ্ঞায় রপ্তানি কমে গেছে। অনেকে ছেড়ে দিয়েছেন ব্যবসা।

সোনাহাট স্থলবন্দরে পাথর আমদানি বন্ধ
স্থলবন্দর সূত্রে জানা গেছে, ১৯৯৪ সাল থেকে আখাউড়া স্থলবন্দর দিয়ে পণ্য আমদানি-রপ্তানি হচ্ছে। রপ্তানিমুখী এই বন্দর দিয়ে প্রতিদিন হিমায়িত মাছ, রিড, সমেন্ট ও ভোজ্যতেলসহ বেশ কয়েকটি পণ্য রপ্তানি হতো উত্তর-পূর্ব ভারতের রাজ্যগুলোতে। টাকার অংকে ছিল যা প্রায় দুই কোটি টাকা। ২০২৪ সালের দেশের রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে ভারতের সঙ্গে কূটনৈতিক টানাপোড়েনে ক্ষতিগ্রস্ত হয় রপ্তানি বাণিজ্য। ২০২৫ সালের মে মাসে স্থলবন্দর দিয়ে প্লাস্টিক ফার্নিচার, প্রক্রিয়াজাত খাবার, ফল ও ফলের স্বাদযুক্ত জুস এবং তুলার মতো উচ্চ চাহিদা সম্পন্ন কয়েকটি পণ্য আমদানির ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয় ভারত সরকার। মূলত আখাউড়া স্থলবন্দরের রপ্তানি আয়ের প্রায় অর্ধেকই নির্ভর করে এসব পণ্যের ওপর।
আখাউড়া স্থলবন্দরের একজন ব্যবসায়ী আবু সুফিয়ান। তিনি জাগো নিউজকে বলেন, ‘ভারতের পণ্য নিষেধাজ্ঞায় আমার ব্যবসা বন্ধ হয়ে গেছে। আমি এখন বেকার। কেননা আগে যেসব পণ্য রপ্তানি হতো আমি সেসব পণ্যের ব্যবসায়ী। তবে এখন নির্বাচিত সরকার দেশে রয়েছে। প্রত্যাশা করছি অচিরেই এই নিষেধাজ্ঞা উঠে যাবে।’
‘ভারতের পণ্য নিষেধাজ্ঞায় আমার ব্যবসা বন্ধ হয়ে গেছে। আমি এখন বেকার। কেননা আগে যেসব পণ্য রপ্তানি হতো আমি সেসব পণ্যের ব্যবসায়ী। তবে এখন নির্বাচিত সরকার দেশে রয়েছে। প্রত্যাশা করছি অচিরেই এই নিষেধাজ্ঞা উঠে যাবে’
স্থলবন্দরের আরেক ব্যবসায়ী রাজিব উদ্দিন ভূঁইয়া বলেন, ‘দিন দিন ব্যবসা আরও খারাপের দিকে যাচ্ছে। এখন যা রপ্তানি হয় তার অর্ধেকই মাছ। এই অবস্থা থেকে উত্তরণের অপেক্ষায় আছি।’

ঢিমেতালে চলছে বিবিরবাজার স্থলবন্দর
বন্দরে ব্যবসার অবস্থা খারাপ বলে মন্তব্য করেন আখাউড়া স্থলবন্দর মৎস্য রপ্তানিকারক অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ফারুক আহমেদ।
তিনি বলেন, ‘সবশেষ ২০২৫-২৬ অর্থবছরেও মোটামুটি মাছ রপ্তানি ভালো ছিল। তবে গত দুই মাসে খুব খারাপ অবস্থা যাচ্ছে। যেখানে দৈনিক ৫০-৬০ হাজার কেজি মাছ আগরতলায় রপ্তানি হতো, তা গত দুই মাসে ১০-১৫ হাজারে নেমে এসেছে।’
স্থলবন্দরের এই ব্যবসায়ীর ভাষ্য, ‘ভারতের বাজার খারাপ হয়ে যাচ্ছে। তবে ভারতীয় ভিসা জটিলতা কমলে আমাদের জন্য সুবিধা হবে। আমরা ভারতের আগরতলার বাইরে অভ্যন্তরে নতুন নতুন বাজার ধরতে পারবো।’
‘দিন দিন ব্যবসা আরও খারাপের দিকে যাচ্ছে। এখন যা রপ্তানি হয় তার অর্ধেকই মাছ। এই অবস্থা থেকে উত্তরণের অপেক্ষায় আছি’
সরকার পরিবর্তনের পর ব্যবসার পরিস্থিতি বদল হয়নি বলে জানান আখাউড়া স্থলবন্দর সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি নেছার আহমেদ।
তিনি জাগো নিউজকে বলেন, ‘ভারতের নিষেধাজ্ঞায় থাকা পণ্যগুলোর বিষয়েও সমাধান হয়নি। শুনে আগরতলায় ভারত-বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের মধ্যে আলোচনা হয়েছে। কিন্তু এই বিষয়ে আমরা জানি না। কোনো বিষয়ে অগ্রগতি হয়েছে কি-না তাও আমাদের অবগত করা হয়নি।’
আখাউড়া স্থল শুল্ক স্টেশনের সহকারী কমিশনার শেখ শাহির আহমেদ বলেন, ‘এই বন্দর দিয়ে ব্যবসার পরিস্থিতি আরও বেগবান করতে আমরা আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করছি। বন্দর সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা নিয়মিতভাবে আমদানি কার্যক্রম আরও বেগবান ও গতিশীল করার দাবি জানিয়ে আসছেন। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়গুলো জানানো হয়েছে।’
সূত্র জানায়, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর বন্ধ করে দেওয়া ভারতীয় ভ্রমণ ভিসা চলতি বছরের ২৮ জুন পুনরায় চালু হয়েছে। কিন্তু এর প্রভাব এখনো পড়েনি আখাউড়া স্থলবন্দর ইমিগ্রেশনে।
আখাউড়া ইমিগ্রেশন চেকপোস্টের ইনচার্জ পুলিশ পরিদর্শক মো. আলাউদ্দিন জাগো নিউজকে বলেন, ‘ভ্রমণ ভিসা ছাড়ার প্রথম দিকে দু-একজন, পরে বেড়ে পাঁচজন যাত্রী এসেছিল। এখন এই বন্দর দিয়ে ভ্রমণ ভিসায় পারাপার হতে একেবারেই যাত্রী নেই। যা আসছে মেডিকেল ভিসার যাত্রী।’
এসআর/এএসএম
What's Your Reaction?


