তিন সপ্তাহ ধরে বন্ধ খুলনা মেডিকেলের অপারেশন থিয়েটর

খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পোস্ট-অপারেটিভ স্টোরে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার তিন সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও এখনো স্বাভাবিক হয়নি অপারেশন কার্যক্রম। অপারেশন থিয়েটার ও সংশ্লিষ্ট ইউনিটগুলোর অধিকাংশ অস্ত্রোপচার বন্ধ থাকায় বিপাকে পড়েছেন শতাধিক রোগী। বর্তমানে শুধু সীমিত পরিসরে রুটিন ওটি চালু রয়েছে। অপারেশনের অপেক্ষায় অনেক রোগী হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন, আবার অনেককে পরবর্তী তারিখ দিয়ে অপেক্ষা করতে বলা হয়েছে। জানা গেছে, গত ২০ মে ভোরে হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটারসংলগ্ন স্টোর রুমে আগুন লাগে। এতে গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রপাতি ও অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং পরবর্তীতে পুরো অপারেশন থিয়েটার কার্যত অচল হয়ে পড়ে। ঘটনার দিনই স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে দ্রুত সংস্কার ও পুনরায় চালুর নির্দেশনা দেওয়া হলেও তিন সপ্তাহ ধরে বন্ধ অপারেশন থিয়েটার। বর্তমানে নিয়মিত চারটি অপারেশন থিয়েটার চালু রয়েছে। হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানান, প্রতিদিন এখন ১০-১২ জন রোগীর সার্জাারি করা সম্ভব হচ্ছে। অনেক রোগী তার দেখানো ডাক্তারের দ্বারা অপারেশন করাতে চান। সেই ডাক্তারের আবার শিডিউল রোস্টারে নেই। ফলে জরুরি রোগীদের সার্জারি করা হচ্ছে এখন। পাশাপাশি সিজারিয়ান র

তিন সপ্তাহ ধরে বন্ধ খুলনা মেডিকেলের অপারেশন থিয়েটর

খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পোস্ট-অপারেটিভ স্টোরে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার তিন সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও এখনো স্বাভাবিক হয়নি অপারেশন কার্যক্রম। অপারেশন থিয়েটার ও সংশ্লিষ্ট ইউনিটগুলোর অধিকাংশ অস্ত্রোপচার বন্ধ থাকায় বিপাকে পড়েছেন শতাধিক রোগী। বর্তমানে শুধু সীমিত পরিসরে রুটিন ওটি চালু রয়েছে। অপারেশনের অপেক্ষায় অনেক রোগী হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন, আবার অনেককে পরবর্তী তারিখ দিয়ে অপেক্ষা করতে বলা হয়েছে।

জানা গেছে, গত ২০ মে ভোরে হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটারসংলগ্ন স্টোর রুমে আগুন লাগে। এতে গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রপাতি ও অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং পরবর্তীতে পুরো অপারেশন থিয়েটার কার্যত অচল হয়ে পড়ে। ঘটনার দিনই স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে দ্রুত সংস্কার ও পুনরায় চালুর নির্দেশনা দেওয়া হলেও তিন সপ্তাহ ধরে বন্ধ অপারেশন থিয়েটার। বর্তমানে নিয়মিত চারটি অপারেশন থিয়েটার চালু রয়েছে।

হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানান, প্রতিদিন এখন ১০-১২ জন রোগীর সার্জাারি করা সম্ভব হচ্ছে। অনেক রোগী তার দেখানো ডাক্তারের দ্বারা অপারেশন করাতে চান। সেই ডাক্তারের আবার শিডিউল রোস্টারে নেই। ফলে জরুরি রোগীদের সার্জারি করা হচ্ছে এখন। পাশাপাশি সিজারিয়ান রোগীদেরও সেবা দেওয়ার চেষ্টা চলছে। জরুরি অপারেশন থিয়েটরগুলো চালু থাকলে রোগীদের ভোগান্তি পোহাতে হতো না। দ্রুত কাজ সমাপ্ত না হলে ভর্তি রোগীর লাইন আরও দীর্ঘ হবে। প্রতিদিন ১০ জন রোগীকে ছাড়পত্র দিতে পারলেও রোগী ভর্তি হচ্ছে ১৫-২০ জন।

হাসপাতালে ভর্তি রোগী আনছার গাজীর স্বজন সোহেল গাজী জানান, তার নিউরো সার্জারি প্রয়োজন। বেশ কয়েকদিন আগে তাকে ভর্তি করা হয়েছে। বেডে তার চিকিৎসা চলছে। সার্জারির সময় দিয়েছে সামনের সপ্তাহে।

তিনি বলেন, শুনেছি আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত অপারেশন থিয়েটারের কাজ চলছে। এজন্য অনেক রোগী সিরিয়ালে আছে।

পাইকগাছা থেকে আসা সিজারিয়ান রোগী তাসনিমের বোন হুমায়রা খাতুন বলেন, তিনদিন আগে ভর্তি হয়েছে। নরমাল ডেলিভারি ডেট রয়েছে দুই একদিনের মধ্যে। আর সিজার লাগলে তো অপেক্ষা করতে হবে। অনেক রোগী আমাদের সঙ্গেই একই সময়ে ভর্তি হয়েছে।

খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. সুজাত আহমেদ বলেন, অক্সিজেন ও বিদ্যুতের কাজ চলমান আছে। পুরোপুরি কার্যক্রম চালু হতে আরও প্রায় সপ্তাহ দুয়েক সময় লাগবে। আমরা অন্যান্য সচল ওটিগুলো কাজে লাগিয়ে জরুরি রোগীদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছি।

খুলনা গণপূর্ত-১ বিভাগের প্রকৌশলী কামরুল ইসলাম বলেন, সিভিল অংশের কাজ শেষ হতে আর ৮-১০ দিন সময় লাগতে পারে। রঙ সম্পূর্ণ হলে গ্লাস লাগানো হবে। আর নতুন করে গাঁথুনি লাগছে না। এজন্য নতুন করে প্লাস্টারের কাজ নেই। খুব শিগগির অপারেশন চালু হবে বলে।

আরিফুর রহমান/এনএইচআর/জেআইএম

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow