তিস্তা গিলে খাচ্ছে শখের বাজার
উজান থেকে নেমে আসা ঢলে পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভয়ংকর রূপ ধারণ করেছে তিস্তা। ভেঙে তছনছ করছে একের পর এক বসতভিটা, গাছপালা, বাঁশঝাড়, শাক-সবজি ও ভুট্টা ক্ষেত। শুক্রবার (২২ মে) বিকেলে সরেজমিন দেখা যায়, সুন্দরগঞ্জ থেকে মাওলানা ভাসানী সেতু সড়কের ১০০ মিটার পূর্বপাশে শখের বাজার গ্রামে দেখা দিয়েছে তীব্র ভাঙন। গত ৫-৬ দিনের ভাঙনে ইতোমধ্যে নিঃস্ব হয়েছেন ফজলু মিয়া, আলম মিয়া, হাফিজার রহমান, আশেক আলী, বাবলু মিয়া, মঞ্জু মিয়া, খলিল মিয়া, আকবার আলী, বিধবা রহিমা ও আবুল কালামের পরিবার। ভেঙে গেছে তাদের বসতভিটা, গাছপালা, বাঁশঝাড় ও শাক-সবজি খেত। বাদলা দিনে ঘর-বাড়ি হারিয়ে অনেকটা অর্ধাহার, অনাহার এবং খোলা জায়গায় দিন কাটাচ্ছেন তারা। এদিকে, ঘর-বাড়ি ও গাছপালা কেটে সরিয়ে নিতে দেখা যায়, ভাঙনের মুখে পড়তে যাওয়া পরিবারগুলোকে। এ সময় তীরে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় হঠাৎ তীরের বিশাল মাটির খণ্ড ভেঙে পড়ে পানির তীব্র স্রোতে তলিয়ে যান সাইফুল ইসলাম নামের স্থানীয় এক ব্যক্তি। পরে স্থানীয়রা উদ্ধার করেন তাকে। ৫-৬ বার ভাঙনের পর আবার ভাঙনের মুখে পড়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন শখের বাজার কালির খামারের অন্তত শতাধিক পরিবারের মানুষ। ভাঙন ঠেকাতে
উজান থেকে নেমে আসা ঢলে পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভয়ংকর রূপ ধারণ করেছে তিস্তা। ভেঙে তছনছ করছে একের পর এক বসতভিটা, গাছপালা, বাঁশঝাড়, শাক-সবজি ও ভুট্টা ক্ষেত।
শুক্রবার (২২ মে) বিকেলে সরেজমিন দেখা যায়, সুন্দরগঞ্জ থেকে মাওলানা ভাসানী সেতু সড়কের ১০০ মিটার পূর্বপাশে শখের বাজার গ্রামে দেখা দিয়েছে তীব্র ভাঙন।
গত ৫-৬ দিনের ভাঙনে ইতোমধ্যে নিঃস্ব হয়েছেন ফজলু মিয়া, আলম মিয়া, হাফিজার রহমান, আশেক আলী, বাবলু মিয়া, মঞ্জু মিয়া, খলিল মিয়া, আকবার আলী, বিধবা রহিমা ও আবুল কালামের পরিবার। ভেঙে গেছে তাদের বসতভিটা, গাছপালা, বাঁশঝাড় ও শাক-সবজি খেত। বাদলা দিনে ঘর-বাড়ি হারিয়ে অনেকটা অর্ধাহার, অনাহার এবং খোলা জায়গায় দিন কাটাচ্ছেন তারা।
এদিকে, ঘর-বাড়ি ও গাছপালা কেটে সরিয়ে নিতে দেখা যায়, ভাঙনের মুখে পড়তে যাওয়া পরিবারগুলোকে। এ সময় তীরে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় হঠাৎ তীরের বিশাল মাটির খণ্ড ভেঙে পড়ে পানির তীব্র স্রোতে তলিয়ে যান সাইফুল ইসলাম নামের স্থানীয় এক ব্যক্তি। পরে স্থানীয়রা উদ্ধার করেন তাকে।
৫-৬ বার ভাঙনের পর আবার ভাঙনের মুখে পড়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন শখের বাজার কালির খামারের অন্তত শতাধিক পরিবারের মানুষ। ভাঙন ঠেকাতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়াসহ সরকারি সাহায্য ও সহযোগিতার দাবি জানিয়েছেন তারা।
রহিমা (৬৫) নামের এক বিধবা নারী জানান, এর আগে একবার ভাঙনের পর কালির খামারে বাড়ি করেছিলেন তিনি। এখন সেই বাড়িও ভেঙে যাওয়ায় আর কোনো ঠিকানা নেই তার। তাই সরকারি কর্তৃপক্ষের কাছে একটু মাথা গোঁজার ঠাঁই চান তিনি।
চার বার নদী ভাঙনের পর বাঁধের ওপর বাড়ি করে আছেন আবুল কালাম। ভাঙন একেবারে নাকের ডগায় আসায় ঘর-বাড়ি সরাতে হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, এখন যদি এখানেও থাকা না হয়, তাহলে পরিবার নিয়ে কোথায় যাব আমি?
এদিকে, তিস্তার শাখা নদীর ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের জন্য এখনো কোনো ত্রাণের ব্যবস্থা করা যায়নি বলে জানিয়ে কঞ্চিবাড়ি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. মনোয়ার আলম সরকার। তিনি বলেন, ইতোমধ্যে আমি ভাঙন এলাকা পরিদর্শন করেছি। ভাঙন নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে যোগাযোগও করা হয়েছে।
শখের বাজারে নদী ভাঙনের কবলিত লোকদের জন্য কোনো ত্রাণ ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না- জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ঈফফাত জাহান তুলি কালবেলাকে বলেন, ভাঙন পীড়িত মানুষের জন্য শিগগির ত্রাণের ব্যবস্থা করা হবে। আর পুনর্বাসনের বিষয়টি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের সঙ্গে কথা বলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ভাঙন স্থান পরিদর্শন করতে গিয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য মো. মাজেদুর রহমান পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব প্রাপ্ত মন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, খুব দ্রুত জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে শত শত ঘর-বাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাবে।
What's Your Reaction?