তীব্র গরমে বরগুনার জনজীবন বিপর্যস্ত, শ্রমজীবী ও নিম্নআয়ের মানুষের দুর্ভোগ চরমে
উপকূলীয় জেলা বরগুনায় তীব্র গরমে জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। দিনের প্রখর রোদ আর ভ্যাপসা গরমে দুর্ভোগ বেড়েছে খেটে খাওয়া মানুষ, শ্রমজীবী ও নিম্নআয়ের মানুষের। সকাল থেকে সূর্যের তীব্র তাপ আর গরম বাতাসে বাইরে বের হওয়াই যেন কষ্টকর হয়ে পড়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, জেলায় বর্তমানে প্রায় ৩২ থেকে ৩৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা বিরাজ করছে। মৃদু তাপদাহ পরিস্থিতি আরও কয়েকদিন অব্যাহত থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।গত কয়েকদিন ধরে বরগুনায় তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি রেকর্ড হচ্ছে। বাতাসের গতিবেগ কম থাকায় গরমের সাথে অস্বস্তিও বাড়ছে কয়েকগুণ। দুপুরের দিকে শহরের প্রধান সড়কগুলোতে মানুষের উপস্থিতি কমে গেলেও কর্মজীবী মানুষদের জীবিকার তাগিদে বের হতে হচ্ছে। বিশেষ করে রিকশাচালক, নির্মাণশ্রমিক, মাছ ব্যবসায়ী ও দিনমজুররা পড়েছেন চরম ভোগান্তিতে।বরগুনা শহরের সদর রোড এলাকায় রিকশাচালক আলমগীর হোসেন বলেন, “রোদে বের হলেই শরীর ঝলসে যাচ্ছে। কিছুক্ষণ পরপর ছায়ায় গিয়ে বসতে হচ্ছে। কিন্তু কাজ না করলে সংসার চলবে না।”একই ধরনের কথা বলেন নির্মাণশ্রমিক জাহিদুল ইসলাম। তিনি জানান, “গরমে কাজ করতে গিয়ে
উপকূলীয় জেলা বরগুনায় তীব্র গরমে জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। দিনের প্রখর রোদ আর ভ্যাপসা গরমে দুর্ভোগ বেড়েছে খেটে খাওয়া মানুষ, শ্রমজীবী ও নিম্নআয়ের মানুষের। সকাল থেকে সূর্যের তীব্র তাপ আর গরম বাতাসে বাইরে বের হওয়াই যেন কষ্টকর হয়ে পড়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, জেলায় বর্তমানে প্রায় ৩২ থেকে ৩৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা বিরাজ করছে। মৃদু তাপদাহ পরিস্থিতি আরও কয়েকদিন অব্যাহত থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
গত কয়েকদিন ধরে বরগুনায় তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি রেকর্ড হচ্ছে। বাতাসের গতিবেগ কম থাকায় গরমের সাথে অস্বস্তিও বাড়ছে কয়েকগুণ। দুপুরের দিকে শহরের প্রধান সড়কগুলোতে মানুষের উপস্থিতি কমে গেলেও কর্মজীবী মানুষদের জীবিকার তাগিদে বের হতে হচ্ছে। বিশেষ করে রিকশাচালক, নির্মাণশ্রমিক, মাছ ব্যবসায়ী ও দিনমজুররা পড়েছেন চরম ভোগান্তিতে।
বরগুনা শহরের সদর রোড এলাকায় রিকশাচালক আলমগীর হোসেন বলেন, “রোদে বের হলেই শরীর ঝলসে যাচ্ছে। কিছুক্ষণ পরপর ছায়ায় গিয়ে বসতে হচ্ছে। কিন্তু কাজ না করলে সংসার চলবে না।”
একই ধরনের কথা বলেন নির্মাণশ্রমিক জাহিদুল ইসলাম। তিনি জানান, “গরমে কাজ করতে গিয়ে শরীর দুর্বল হয়ে যাচ্ছে। প্রচুর ঘাম হচ্ছে। তবুও কাজ বন্ধ রাখার সুযোগ নেই।”
জেলার বিভিন্ন এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দুপুরের পর বাজার, বাসস্ট্যান্ড ও খোলা স্থানে মানুষের উপস্থিতি কমে যাচ্ছে। অনেকেই ছায়াযুক্ত স্থানে আশ্রয় নিচ্ছেন। শহরের পার্ক, গাছতলা ও নদীর পাড়ে কিছুটা স্বস্তির খোঁজে সময় কাটাচ্ছেন মানুষ।
এদিকে গরম বাড়ার সাথে সাথে শিশুদের নানা রোগের ঝুঁকিও বাড়ছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। শিশুদের ঠান্ডা-কাশি, জ্বর, পানিশূন্যতা ও হিটজনিত সমস্যার আশঙ্কা বাড়ছে। চিকিৎসকরা শিশুদের বেশি করে পানি পান করানো, রোদে কম বের করা এবং অতিরিক্ত ভিড় এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছেন।
বরগুনা সদর হাসপাতালের এক শিশু বিশেষজ্ঞ বলেন, “অতিরিক্ত গরমে শিশু দ্রুত অসুস্থ হয়ে পড়তে পারে। তাই অভিভাবকদের সতর্ক থাকতে হবে। বাইরে বের হলে শিশুদের মাথা ঢেকে রাখতে হবে এবং পর্যাপ্ত পানি পান করাতে হবে।”
আবহাওয়াবিদরা বলছেন, আকাশে মেঘ কম থাকা, বাতাসের গতি কমে যাওয়া এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবেই তাপমাত্রা বেশি অনুভূত হচ্ছে। উপকূলীয় অঞ্চলে আর্দ্রতা বেশি থাকায় গরমের অস্বস্তিও বাড়ছে।
আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, বরগুনাসহ দেশের দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। আগামী কয়েকদিন দিন ও রাতের তাপমাত্রা আরও সামান্য বৃদ্ধি পেতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিয়েছেন, প্রয়োজন ছাড়া দুপুরে বাইরে বের না হওয়া, বেশি বেশি পানি পান করা, হালকা খাবার খাওয়া এবং শিশু ও বৃদ্ধদের বাড়তি যত্ন নেওয়ার জন্য।
What's Your Reaction?