তীর ছুড়ে স্বপ্নভেদ, চুয়াডাঙ্গায় আর্চারির নতুন দিগন্ত
* চুয়াডাঙ্গা থেকে বিশ্বমঞ্চে, আর্চারিতে স্বর্ণজয়ের গল্প* তীর-ধনুকে বদলে যাচ্ছে চুয়াডাঙ্গার তরুণদের ভবিষ্যৎ* স্টেডিয়াম নেই, তবু থেমে নেই আর্চারির স্বপ্নযাত্রা* চুয়াডাঙ্গার আর্চারি একাডেমি যেন জাতীয়-আন্তর্জাতিক তারকা তৈরির কারখানা* ইতি-মনিরাদের হাত ধরে আলো ছড়াচ্ছে চুয়াডাঙ্গার আর্চারি* প্রদীপন বিদ্যাপীঠের মাঠেই গড়ে উঠছে ভবিষ্যতের আর্চার* আর্চারিতে চুয়াডাঙ্গার উত্থান, স্বপ্ন এখন অলিম্পিকের মঞ্চে চুয়াডাঙ্গা জেলা শহরের কোর্টপাড়া সংলগ্ন চাঁদমারী মাঠের পাশে প্রদীপন বিদ্যাপীঠের মাঠের এক কোণে প্রতিদিন সকাল-বিকেল জমে ওঠে অন্যরকম এক দৃশ্যপট। ছোট ছোট ছেলে-মেয়েদের হাতে তীর-ধনুক, চোখে স্বপ্ন আর লক্ষ্যভেদের দৃঢ় সংকল্প। কেউ প্রথমবার তীর ছুঁড়ছে, কেউ জাতীয় দলের জার্সি গায়ে চাপানোর স্বপ্ন বুনছে। আর সেই স্বপ্নের ঠিকানাই হয়ে উঠেছে চুয়াডাঙ্গা আরচারি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ও আরচারি একাডেমি। যদিও একসময় চুয়াডাঙ্গা জেলা স্টেডিয়ামে এই প্রশিক্ষণ হতো, তবে সেটা বিভিন্ন কারণে এখন প্রদীপন বিদ্যাপীঠের মাঠের এক কোণে অনুষ্ঠিত হয়। চুয়াডাঙ্গা আরচারি একাডেমির ব্যবস্থাপনায় এবং বাংলাদেশ আরচারি ফেডারেশনের সহায়তায় পরিচালিত এই প্রশি
* চুয়াডাঙ্গা থেকে বিশ্বমঞ্চে, আর্চারিতে স্বর্ণজয়ের গল্প
* তীর-ধনুকে বদলে যাচ্ছে চুয়াডাঙ্গার তরুণদের ভবিষ্যৎ
* স্টেডিয়াম নেই, তবু থেমে নেই আর্চারির স্বপ্নযাত্রা
* চুয়াডাঙ্গার আর্চারি একাডেমি যেন জাতীয়-আন্তর্জাতিক তারকা তৈরির কারখানা
* ইতি-মনিরাদের হাত ধরে আলো ছড়াচ্ছে চুয়াডাঙ্গার আর্চারি
* প্রদীপন বিদ্যাপীঠের মাঠেই গড়ে উঠছে ভবিষ্যতের আর্চার
* আর্চারিতে চুয়াডাঙ্গার উত্থান, স্বপ্ন এখন অলিম্পিকের মঞ্চে
চুয়াডাঙ্গা জেলা শহরের কোর্টপাড়া সংলগ্ন চাঁদমারী মাঠের পাশে প্রদীপন বিদ্যাপীঠের মাঠের এক কোণে প্রতিদিন সকাল-বিকেল জমে ওঠে অন্যরকম এক দৃশ্যপট। ছোট ছোট ছেলে-মেয়েদের হাতে তীর-ধনুক, চোখে স্বপ্ন আর লক্ষ্যভেদের দৃঢ় সংকল্প। কেউ প্রথমবার তীর ছুঁড়ছে, কেউ জাতীয় দলের জার্সি গায়ে চাপানোর স্বপ্ন বুনছে।
আর সেই স্বপ্নের ঠিকানাই হয়ে উঠেছে চুয়াডাঙ্গা আরচারি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ও আরচারি একাডেমি। যদিও একসময় চুয়াডাঙ্গা জেলা স্টেডিয়ামে এই প্রশিক্ষণ হতো, তবে সেটা বিভিন্ন কারণে এখন প্রদীপন বিদ্যাপীঠের মাঠের এক কোণে অনুষ্ঠিত হয়।
চুয়াডাঙ্গা আরচারি একাডেমির ব্যবস্থাপনায় এবং বাংলাদেশ আরচারি ফেডারেশনের সহায়তায় পরিচালিত এই প্রশিক্ষণ কেন্দ্র এখন জেলার ক্রীড়াঙ্গনে সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত খুলেছে। এখান থেকেই উঠে এসেছেন আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের হয়ে স্বর্ণজয়ী আরচার ইতি খাতুন ও মনিরা আক্তার।
মাত্র ১৪ বছর বয়সে আর্চারিতে যাত্রা শুরু করেছিলেন ইতি খাতুন। স্কুলের খেলাধুলা থেকেই ধীরে ধীরে ধনুর্বিদ্যার প্রতি আগ্রহ তৈরি হয়। তবে পথটা সহজ ছিল না। তবে চুয়াডাঙ্গা আরচারি একাডেমিকে সঙ্গে পেয়েছেন তিনি। বর্তমানে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের পরিচিত মুখ ইতি খাতুন। নেপালে অনুষ্ঠিত সাউথ এশিয়ান গেমসে টিম, মিক্সড ও একক ইভেন্টে তিনটি স্বর্ণপদক জিতেছেন তিনি। এছাড়া স্পেন, থাইল্যান্ড ও জাকার্তায় আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছেন। ক্রীড়াক্ষেত্রে সাফল্যের স্বীকৃতি হিসেবে বর্তমানে মাসিক এক লাখ টাকা পান ক্রীড়া মন্ত্রণালয় থেকে।
শুধু ইতিই নন, এই প্রশিক্ষণ কেন্দ্র থেকেই উঠে এসেছেন মনিরা আক্তার। তিনি উত্তর কোরিয়া ও ইরাকে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছেন। এছাড়া ৫ম জাতীয় যুব আরচারি চ্যাম্পিয়নশিপে স্বর্ণপদক অর্জন করেছেন। বর্তমানে তিনিও মাসিক এক লাখ টাকা পান ক্রীড়া মন্ত্রণালয় থেকে।
চুয়াডাঙ্গা আরচারি একাডেমির তথ্যমতে, বর্তমানে এই প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে ৫০ জনের বেশি প্রশিক্ষণার্থী নিয়মিত অনুশীলন করছে। ২০১৬ সাল থেকে এ পর্যন্ত ৩৫০ জনেরও বেশি আরচার এখান থেকে প্রশিক্ষণ নিয়েছে।
একাডেমিতে বর্তমানে ৪০ লাখ টাকার বেশি মূল্যের সরঞ্জাম রয়েছে। এর মধ্যে ৩৫টি ধনুক, ৩৫০টির বেশি তীর এবং ১০টির বেশি টার্গেট বোর্ড রয়েছে। পাশাপাশি শারীরিক ফিটনেসের জন্য আলাদা ব্যায়াম সরঞ্জামও রাখা হয়েছে।
চুয়াডাঙ্গায় আরচারির ভিত্তি গড়ে ওঠে ২০০০ সালের পর। ক্রীড়া ব্যক্তিত্ব ও বাংলাদেশ আরচারি ফেডারেশনের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সোহেল আকরামের উদ্যোগে গঠিত হয় চুয়াডাঙ্গা আরচারি একাডেমি। তারই ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় ২০১৬ সালে ঢাকার বাইরে চুয়াডাঙ্গায় স্থাপিত হয় দেশের একমাত্র স্থায়ী আরচারি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র। বর্তমানে ফরিদপুর ও নড়াইলে অস্থায়ীভাবে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চললেও পূর্ণাঙ্গ স্থায়ী প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ঢাকার বাইরে সারাদেশের মধ্যে একমাত্র চুয়াডাঙ্গাতেই রয়েছে।
চুয়াডাঙ্গা আরচারি একাডেমির সভাপতি ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের পৃষ্ঠপোষক সোহেল আকরাম বলেন, বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনে চুয়াডাঙ্গাকে সবচেয়ে বেশি পরিচিত করেছে আরচারি। খুলনা বিভাগ ও চুয়াডাঙ্গা জেলার আন্তর্জাতিক ও জাতীয় পর্যায়ের বড় অর্জনগুলোর বেশিরভাগই এসেছে এই খেলাধুলা থেকে। তাই আমি চাই এই প্রশিক্ষণ কেন্দ্রটিকে আরও আধুনিক ও সমৃদ্ধ করতে।
তিনি বলেন, প্রতিমাসে এই একাডেমি পরিচালনায় ৫০ হাজার টাকার বেশি ব্যয় হয়; কিন্তু সে তুলনায় সহযোগিতা খুব কম। অনেক সময় ব্যক্তিগতভাবেই খরচ বহন করতে হয়। বর্তমান সরকারের ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীও একজন সাবেক খেলোয়াড়। তাই আমরা আশা করি, তিনি আরচারিকে এগিয়ে নিতে এবং চুয়াডাঙ্গার এই প্রশিক্ষণ কেন্দ্রকে আরও গতিশীল করতে কার্যকর ভূমিকা রাখবেন।
সোহেল আকরাম বলেন, এই প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চালিয়ে নিতে একটা স্থায়ী মাঠের প্রয়োজন। আমি সেই চেষ্টা করছি। চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপি সেক্রেটারি শরীফুজ্জামানের সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। তিনিও সহযোগিতা করবেন।
চুয়াডাঙ্গা আরচারি একাডেমির প্রশিক্ষক মোহাম্মদ হযরত আলী বলেন, আরচারি এমন একটি খেলা যেখানে গ্রামের সাধারণ পরিবারের ছেলে-মেয়েরাও খুব দ্রুত নিজেদের তুলে ধরতে পারে। চুয়াডাঙ্গায় দিন দিন এই খেলায় আগ্রহ বাড়ছে। এখানকার অনেক শিক্ষার্থী এখন জাতীয় পর্যায়ে অংশ নেওয়ার মতো সক্ষমতা তৈরি করছে।
তিনি আরও বলেন, ‘একজন ভালো আরচার হতে হলে সর্বপ্রথম তাকে তার শ্বাস-প্রশ্বাসের নিয়ন্ত্রণ আনতে হবে। তাহলে সে লক্ষ্য স্থির করে তীর ছুঁড়তে পারে। আমরা প্রথমে নতুন প্রশিক্ষণার্থীকে রাবার টানাই। এরপর কিভাবে ধনুক ধরবে, কিভাবে টার্গেট বোর্ডে তীর ছুঁড়বে, তা ধাপে ধাপে শিখিয়ে থাকি। আমার স্টুডেন্টরা চেষ্টা করে এবং তারা সফল হচ্ছে। যেমন ইতি, মনিরা। আর প্রশিক্ষণ দিতে পেরে আমারও ভালো লাগে।’
চুয়াডাঙ্গা শহরের প্রশিক্ষণার্থী সোনিয়া আক্তার সোনিয়া বলেন, শুরুতে আরচারি সম্পর্কে তেমন কিছু জানতাম না। এখানে এসে ধীরে ধীরে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। এখন নিয়মিত অনুশীলন করছি। ভবিষ্যতে জাতীয় পর্যায়ে খেলতে চাই।
আরবক প্রশিক্ষণার্থী শাহরুখ হোসেন বলেন, প্রথমদিকে তীর-ধনুক হাতে নিতে ভয় লাগত; কিন্তু এখন আত্মবিশ্বাস বেড়েছে। আমরা যারা এখানে অনুশীলন করি, সবাই বড় কিছু করার স্বপ্ন দেখি। আমি ভবিষ্যতে অলিম্পিকে অংশগ্রহণ করতে চাই, ইনশাআল্লাহ।
চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার বেলগাছি গ্রামের সাদিয়া ইসলাম নামের আরেকজন প্রশিক্ষণার্থী বলেন, ‘গ্রাম থেকে এসে শুরুতে অনেক কষ্ট হয়েছে। কিন্তু এখানে প্রশিক্ষকরা খুব সহযোগিতা করেন। ইতি আপুর সাফল্য আমাদের অনুপ্রেরণা দেয়।’
আরেকজন ছোট্ট প্রশিক্ষণার্থী কানিজ ফাতেমা। সে জানায়, এক সপ্তাহ যাবৎ প্রশিক্ষণ নিচ্ছে। প্রথমে কিছু না পারলেও এখন সে সবকিছুই শিখেছে।
এছাড়া আরও কয়েকজন প্রশিক্ষণার্থী বলেন, চুয়াডাঙ্গার মতো ছোট্ট একটি জেলা শহরে আরচারি একাডেমি ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র থাকায় তাদের সুবিধা হয়েছে। তারা এখান থেকে আরচারি প্রশিক্ষণ নিয়ে কেউ ইয়ুথ জাতীয় পর্যায়েও প্রতিনিধিত্ব করে এসেছে। ভবিষ্যতে অলিম্পিক ও এশিয়ান গেমসে যেতে প্রশিক্ষণ চালিয়ে যাচ্ছে।
তারা আরও বলেন, আরচারি খেলাটা মনোযোগ ও ধৈর্য্য শেখায়। আমি চাই জাতীয় পর্যায়ে ভালো কিছু করতে এবং দেশের জন্য খেলতে।
একাডেমিতে অনুশীলন করা কয়েকজন শিক্ষার্থী শুরুতে তীর-ধনুক হাতে নিতে ভয় পেলেও এখন তারা জাতীয় পর্যায়ে খেলার স্বপ্ন দেখছে। বিশেষ করে ইতি খাতুনের আন্তর্জাতিক সাফল্য তাদের সবচেয়ে বেশি অনুপ্রাণিত করছে বলেও তারা জানায়।
তবে সচেতন মহল বলছেন, পর্যাপ্ত পৃষ্ঠপোষকতা, আধুনিক সরঞ্জাম ও উন্নত প্রশিক্ষণ সুবিধা নিশ্চিত করা গেলে চুয়াডাঙ্গার এই আরচারি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র দেশের অন্যতম সেরা প্রতিভা তৈরির কেন্দ্রে পরিণত হতে পারে।
উল্লেখ্য, আরচারিতে নিখুঁত শট নেওয়ার জন্য কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ অনুসরণ করতে হয়। প্রথমে ঠিক রাখতে হয় স্ট্যান্স (দাঁড়ানোর ভঙ্গি)। এ সময় পায়ের পাতা কাঁধসমান ফাঁক করে সোজা হয়ে দাঁড়াতে হয়, যেন শরীর লক্ষ্যের সঙ্গে প্রায় ৯০ ডিগ্রি কোণে থাকে। সঠিক স্ট্যান্স একজন আরচারের ভারসাম্য ও নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করে।
এরপর আসে অ্যারো নকিং (Arrow Nocking) ধাপ। এতে ধনুকের স্ট্রিংয়ের নির্দিষ্ট নকিং পয়েন্টে তীরের পেছনের অংশ আটকে দিতে হয়। এই ধাপটি সঠিকভাবে সম্পন্ন না হলে তীরের গতি ও দিক দুটোই প্রভাবিত হতে পারে।
পরবর্তী ধাপে হুকিং ও গ্রিপিং করতে হয়। তর্জনী, মধ্যমা ও অনামিকা আঙুল দিয়ে স্ট্রিং আলতোভাবে ধরে ধনুকের হাতল স্বাভাবিক ও আরামদায়কভাবে গ্রিপ করতে হয়। এতে তীর ছোড়ার সময় নিয়ন্ত্রণ বজায় থাকে।
এরপর শুরু হয় ড্রয়িং (টান)। ধনুকের ছিলা ধীরে ও মসৃণভাবে টেনে গাল বা থুতনি পর্যন্ত আনতে হয়। এ সময় হাতের কনুই কাঁধের সমান্তরালে রাখতে হয়, যাতে শরীরের ভারসাম্য অক্ষুণ্ন থাকে।
এরপরের ধাপ এইমিং (নিশানা)। ধনুকের সাইট ব্যবহার করে লক্ষ্যবস্তুর কেন্দ্রবিন্দু বা বুলস-আইয়ের দিকে চোখ ও হাত স্থির রাখতে হয়। নিখুঁত লক্ষ্যভেদে এই ধাপটির গুরুত্ব সবচেয়ে বেশি।
সবশেষে আসে রিলিজ (তীর ছোঁড়া)। স্থির নিশানা ধরে রেখে আঙুলগুলো আলতোভাবে পেছনের দিকে ছেড়ে দিতে হয়। এতে তীর সঠিক গতিপথে লক্ষ্যবস্তুর দিকে ছুটে যায়।
আরচারির স্কোরিং পদ্ধতিও নির্ভর করে লক্ষ্যবস্তুর বিভিন্ন বলয়ের ওপর। লক্ষ্যবস্তুর একেবারে কেন্দ্রের সোনালি বা লাল বলয়ে তীর লাগলে সর্বোচ্চ ১০ পয়েন্ট পাওয়া যায়। কেন্দ্র থেকে দূরত্ব বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পয়েন্ট কমতে থাকে। সবচেয়ে বাইরের সাদা বলয়ে তীর লাগলে পাওয়া যায় ১ পয়েন্ট।
সিএইচএম/আইএইচএস/
What's Your Reaction?