তুরস্কে বাবা-ছেলের রহস্যজনক মৃত্যু
জীবিকার তাগিদে সুদূর তুরস্কে পাড়ি জমিয়েছিলেন বাবা ও ছেলে। কিন্তু সেই প্রবাসই তাদের শেষ ঠিকানা হলো। তুরস্কে একটি প্লাস্টিক কারখানায় কর্মরত অবস্থায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার একই পরিবারের বাবা ও ছেলের রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (৪ মার্চ) সকালে কুর্দিস্তান আরবিল এলাকার একটি শয়নকক্ষ থেকে তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহতরা হলেন- ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর এলাকার মেড্ডা গ্রামের মৃত ইয়াকুব মিয়ার ছেলে তারেক মিয়া (৪৫) ও তার একমাত্র ছেলে সাব্বির (২২)। এ ঘটনায় গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় সাব্বিরের চাচাতো ভাই লিটন মিয়া (২৬) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এছাড়া ফেনী জেলার আরও এক যুবক এই ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন বলে জানা গেছে। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, তারেক মিয়া দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে তুরস্কে বসবাস করছিলেন। দুই বছর আগে তিনি একমাত্র ছেলে সাব্বিরকেও সেখানে নিয়ে যান। তারা কুর্দিস্তান আরবিল এলাকায় একটি প্লাস্টিক কোম্পানিতে কর্মরত ছিলেন। গত মঙ্গলবার রাতে কাজ শেষে বাবা-ছেলেসহ পাঁচজন একসঙ্গে রাতের খাবার খেয়ে নিজেদের কক্ষে ঘুমান। বুধবার সকালে দীর্ঘক্ষণ তাদের কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে কোম্পানি কর্তৃপক্ষ কক্ষের দরজা খুলে তাদের অচেতন অবস্থায়
জীবিকার তাগিদে সুদূর তুরস্কে পাড়ি জমিয়েছিলেন বাবা ও ছেলে। কিন্তু সেই প্রবাসই তাদের শেষ ঠিকানা হলো। তুরস্কে একটি প্লাস্টিক কারখানায় কর্মরত অবস্থায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার একই পরিবারের বাবা ও ছেলের রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে।
বুধবার (৪ মার্চ) সকালে কুর্দিস্তান আরবিল এলাকার একটি শয়নকক্ষ থেকে তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহতরা হলেন- ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর এলাকার মেড্ডা গ্রামের মৃত ইয়াকুব মিয়ার ছেলে তারেক মিয়া (৪৫) ও তার একমাত্র ছেলে সাব্বির (২২)। এ ঘটনায় গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় সাব্বিরের চাচাতো ভাই লিটন মিয়া (২৬) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এছাড়া ফেনী জেলার আরও এক যুবক এই ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন বলে জানা গেছে।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, তারেক মিয়া দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে তুরস্কে বসবাস করছিলেন। দুই বছর আগে তিনি একমাত্র ছেলে সাব্বিরকেও সেখানে নিয়ে যান। তারা কুর্দিস্তান আরবিল এলাকায় একটি প্লাস্টিক কোম্পানিতে কর্মরত ছিলেন। গত মঙ্গলবার রাতে কাজ শেষে বাবা-ছেলেসহ পাঁচজন একসঙ্গে রাতের খাবার খেয়ে নিজেদের কক্ষে ঘুমান। বুধবার সকালে দীর্ঘক্ষণ তাদের কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে কোম্পানি কর্তৃপক্ষ কক্ষের দরজা খুলে তাদের অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসক তারেক ও সাব্বিরকে মৃত ঘোষণা করেন।
সহকর্মীদের বরাত দিয়ে পরিবারের সদস্যরা জানান, তুর্কি পুলিশ প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে খাদ্যে বিষক্রিয়া থেকে তাদের মৃত্যু হয়েছে। বর্তমানে তাদের মরদেহ স্থানীয় একটি হাসপাতালের মর্গে ময়নাতদন্তের জন্য রাখা হয়েছে।
তারেক মিয়ার প্রথম স্ত্রী মারা যাওয়ার পর চার বছর আগে ভিডিও কলের মাধ্যমে পারভীন আক্তারকে বিয়ে করেন তিনি। পারভীন আক্তার কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন, আমার বাবা-ভাই কেউ বেঁচে নেই। এখন স্বামী আর সন্তানকেও হারালাম। বিয়ের পর স্বামীকে সামনাসামনি কোনোদিন দেখিনি, শুধু ফোনেই কথা হতো। আমার এক বছর বয়সী নাতিটার ভবিষ্যৎ কী হবে? আমি সরকারের কাছে আকুতি জানাই, আমার স্বামী আর সন্তানের লাশটা যেন দ্রুত দেশে আনার ব্যবস্থা করা হয়।
নিহত সাব্বিরের এক বছর বয়সী একটি পুত্রসন্তান রয়েছে। হঠাৎ এই মৃত্যুতে মেড্ডা গ্রামের বাড়িতে আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীদের ভিড় জমেছে। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিদের হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছে স্বজনরা।
What's Your Reaction?