‘তেল কিনতেই যদি দিন শ্যাষ হয়- কাজ করমো কখন, খামো কী?’
রংপুর নগরীর বাস টার্মিনাল এলাকার বাসিন্দা আব্দুল মতিন। সত্তর বছর বয়সে মোটরসাইকেলে ঘুরে ঘুরে বিভিন্ন এলাকা থেকে ধান কিনে তা আবার বিক্রি করেন। লাভের টাকায় চলে তার সংসার। তবে জ্বালানি সংকট ও লাইনে দীর্ঘ সময় অপেক্ষার কারণে তার ব্যবসা কার্যক্রম প্রায় বন্ধ হওয়ার পথে। রোববার (১৯ এপ্রিল) দুপুরে নগরীর শাপলা চত্বর এলাকার মেসার্স ইউনিক পেট্রল পাম্পে দীর্ঘ সারিতে তেল নিতে অপেক্ষমাণ আব্দুল মতিনের সঙ্গে কথা হয়। তিনি জানান, সকাল সাড়ে ৯টার দিকে এসে লাইনে দাঁড়ালেও দুপুর গড়িয়ে গেলেও তখনো তেল পাননি। মোটরসাইকেলে রাখা খাবার দেখিয়ে জানালেন, লাইনে দাঁড়িয়ে খেতে হবে কারণ কখন তেল পাবেন তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। আক্ষেপ করে আব্দুল মতিন বলেন, ‘তেলের দাম বাড়ছে, তার ওপর আবার লাইনে থাকি পুরা দিন শেষ হয়া যায়। এখন তেল কিনতেই যদি সারাদিন যায়, তাহলে ব্যবসা করমো কখন, খামো (খাবো) কি?’ কথা বলতে বলতেই একটি তেলবাহী ট্যাংকলরি পাম্পে পৌঁছানো মাত্রই সেখানে দেখা যায় ভিন্ন এক দৃশ্য। লরি থেকে জ্বালানি আনলোড শুরু হতেই আশপাশে অপেক্ষমাণ মানুষজন ভিড় করেন। অনেকে আবার তেল নেওয়ার অপেক্ষায় লরির চারপাশ ঘিরে দাঁড়িয়ে থাকেন। জ্ব
রংপুর নগরীর বাস টার্মিনাল এলাকার বাসিন্দা আব্দুল মতিন। সত্তর বছর বয়সে মোটরসাইকেলে ঘুরে ঘুরে বিভিন্ন এলাকা থেকে ধান কিনে তা আবার বিক্রি করেন। লাভের টাকায় চলে তার সংসার। তবে জ্বালানি সংকট ও লাইনে দীর্ঘ সময় অপেক্ষার কারণে তার ব্যবসা কার্যক্রম প্রায় বন্ধ হওয়ার পথে।
রোববার (১৯ এপ্রিল) দুপুরে নগরীর শাপলা চত্বর এলাকার মেসার্স ইউনিক পেট্রল পাম্পে দীর্ঘ সারিতে তেল নিতে অপেক্ষমাণ আব্দুল মতিনের সঙ্গে কথা হয়। তিনি জানান, সকাল সাড়ে ৯টার দিকে এসে লাইনে দাঁড়ালেও দুপুর গড়িয়ে গেলেও তখনো তেল পাননি। মোটরসাইকেলে রাখা খাবার দেখিয়ে জানালেন, লাইনে দাঁড়িয়ে খেতে হবে কারণ কখন তেল পাবেন তার কোনো নিশ্চয়তা নেই।
আক্ষেপ করে আব্দুল মতিন বলেন, ‘তেলের দাম বাড়ছে, তার ওপর আবার লাইনে থাকি পুরা দিন শেষ হয়া যায়। এখন তেল কিনতেই যদি সারাদিন যায়, তাহলে ব্যবসা করমো কখন, খামো (খাবো) কি?’
কথা বলতে বলতেই একটি তেলবাহী ট্যাংকলরি পাম্পে পৌঁছানো মাত্রই সেখানে দেখা যায় ভিন্ন এক দৃশ্য। লরি থেকে জ্বালানি আনলোড শুরু হতেই আশপাশে অপেক্ষমাণ মানুষজন ভিড় করেন। অনেকে আবার তেল নেওয়ার অপেক্ষায় লরির চারপাশ ঘিরে দাঁড়িয়ে থাকেন।
জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর পর প্রথম দিনেও পেট্রল পাম্পগুলোতে ফের পুরোনো চিত্রই দেখা গেছে। এতে একদিকে যেমন অনেকেই দাম বৃদ্ধিতে অসন্তোষ প্রকাশ করছেন, অন্যদিকে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় ব্যয় করতে হওয়ায় ক্ষোভ জানিয়েছেন সাধারণ মানুষ।
একই পাম্পে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা মোজাম্মেল হক বলেন, ‘একে তো দাম বাড়াইলো তার ওপর যদি সারাদিন সময় চলি যায় তাহলে সাধারণ মানুষের কী লাভ হইলো।’
রোববার দুপুর ১২টা থেকে ২টা পর্যন্ত রংপুর নগরীর সাতটি ফিলিং স্টেশনে গিয়ে দেখা গেছে, তেলের জন্য দীর্ঘ লাইন। সকাল পেরিয়ে দুপুর গড়িয়েছে তবুও শেষ হচ্ছে না তেলের জন্য অপেক্ষা।
নগরীর জীবন বীমা মোড় এলাকার সালেক মটরস, শাপলা চত্বর এলাকার রহমান ফিলিং স্টেশন ও ইউনিক ট্রেডার্স, চারতলা মোড়ের মিজান ফিলিং স্টেশন, দর্শনা মোড়ের রংপুর ফিলিং স্টেশন, শুঁটকি আড়ত এলাকার ট্রাস্ট ফিলিং অ্যান্ড অটোগ্যাস এবং মডার্ন মোড়ের মেসার্স চাঁদ পেট্রোলিয়াম লিমিটেডে ডিজেল, অকটেন ও পেট্রলচালিত ছোট-বড় শত শত যানবাহনের দীর্ঘ সারি দেখা গেছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, এসব পাম্পে তেল নিতে আসা মোটরসাইকেল ও অন্যান্য যানের চাপ অনেক বেশি। কোথাও কোথাও দীর্ঘ সময় অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে চালকদের। তবে কিছু পাম্পে তেল সরবরাহ করা হলেও, কিছু পাম্পে জানানো হচ্ছে পরে তেল দেওয়া হবে। আবার কয়েকটি পাম্প বন্ধ রয়েছে।
মডার্ন মোড়ের পাম্পটিতে কথা হয় বেসরকারি একটি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত নুরুজ্জামান আহমেদের সঙ্গে। তিনি হাতে একটি ফুয়েল কার্ড সঙ্গে নিয়ে এসেছিলেন। তবে এ পাম্পে তেল দেওয়া হবে না এমন খবর পেয়ে তিনি অন্য পাম্পের দিকে রওনা হন।
নুরুজ্জামান আহমেদ বলেন, ‘অন্য পাম্পে যে পরিমাণ ভীড় তাতে তেল নেওয়ার সুযোগ নেই। অনেকগুলো পাম্প ঘুরলাম কিন্ত দীর্ঘ লাইন। এখন মনে হয় চাকরি থাকে না।’
শাপলা চত্বর এলাকার মেসার্স ইউনিক ট্রেডার্সের ব্যবস্থাপক মো. তাজুল ইসলাম জানান, প্রতিদিন তাদের পাম্পে বরাদ্দ থাকে প্রায় তিন হাজার লিটার পেট্রল, কিন্তু তার বিপরীতে যানবাহনের চাপ কয়েকগুণ বেশি। ফলে তেল নিতে আসা মানুষের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হচ্ছে না।
তিনি জানান, উপজেলা পর্যায়ের অনেক ফিলিং স্টেশনে তেল না থাকায় গ্রামাঞ্চলের মানুষ শহরের পাম্পগুলোর আসছে, যার কারণে এখানকার চাপ আরও বেড়ে গেছে।
What's Your Reaction?