থাপ্পড় মারায় কলেজ শিক্ষিকাকে জুতাপেটা করলেন বিএনপি নেতা

রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলার দাওকান্দি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে বিএনপি নেতাকর্মী ও শিক্ষকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে কলেজের অধ্যক্ষ, এক নারী শিক্ষকসহ অন্তত ৬ জন আহত হয়েছেন।  বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) দুপুরে অধ্যক্ষের কক্ষ ও কলেজ চত্বরে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় শিক্ষিকা ও বিএনপি নেতার মারামারির একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। আহতদের মধ্যে রয়েছেন— কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুর রাজ্জাক, প্রভাষক আলেয়া খাতুন হীরা, অধ্যাপক রেজাউল করিম, জয়নগর ইউনিয়ন বিএনপির সহসভাপতি আকবর আলী এবং কলেজের দুই কর্মচারী। তাদের মধ্যে অধ্যক্ষ আব্দুর রাজ্জাক ও প্রভাষক হীরা বর্তমানে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঘটনার সময় কলেজে ডিগ্রি পরীক্ষা চলছিল এবং কেন্দ্র ও আশপাশে ১৪৪ ধারা জারি ছিল। এ অবস্থায় স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা অধ্যক্ষের কক্ষে প্রবেশ করে শিক্ষকদের সঙ্গে বাগবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। এক পর্যায়ে তা হাতাহাতিতে রূপ নেয়। ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে প্রভাষক আলেয়া খাতুন হীরা বিএনপি নেতা আকবর আলীকে চড় মারেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে

থাপ্পড় মারায় কলেজ শিক্ষিকাকে জুতাপেটা করলেন বিএনপি নেতা
রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলার দাওকান্দি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে বিএনপি নেতাকর্মী ও শিক্ষকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে কলেজের অধ্যক্ষ, এক নারী শিক্ষকসহ অন্তত ৬ জন আহত হয়েছেন।  বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) দুপুরে অধ্যক্ষের কক্ষ ও কলেজ চত্বরে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় শিক্ষিকা ও বিএনপি নেতার মারামারির একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। আহতদের মধ্যে রয়েছেন— কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুর রাজ্জাক, প্রভাষক আলেয়া খাতুন হীরা, অধ্যাপক রেজাউল করিম, জয়নগর ইউনিয়ন বিএনপির সহসভাপতি আকবর আলী এবং কলেজের দুই কর্মচারী। তাদের মধ্যে অধ্যক্ষ আব্দুর রাজ্জাক ও প্রভাষক হীরা বর্তমানে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঘটনার সময় কলেজে ডিগ্রি পরীক্ষা চলছিল এবং কেন্দ্র ও আশপাশে ১৪৪ ধারা জারি ছিল। এ অবস্থায় স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা অধ্যক্ষের কক্ষে প্রবেশ করে শিক্ষকদের সঙ্গে বাগবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। এক পর্যায়ে তা হাতাহাতিতে রূপ নেয়। ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে প্রভাষক আলেয়া খাতুন হীরা বিএনপি নেতা আকবর আলীকে চড় মারেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে আকবর আলী তাকে জুতা দিয়ে মারধর করেন। পরে সংঘর্ষ অধ্যক্ষের কক্ষের বাইরে ছড়িয়ে পড়ে এবং উভয়পক্ষের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি ও মারামারি শুরু হয়। এক পর্যায়ে আকবর আলীকে মাটিতে ফেলে দেওয়ার দৃশ্যও দেখা যায়। পরবর্তীতে অন্য নেতাকর্মীরাও সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন এবং কলেজের অফিস কক্ষে ভাঙচুর চালান। শিক্ষকদের অভিযোগ, জয়নগর ইউনিয়ন বিএনপির সহসভাপতি আকবর আলীসহ স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের ৪০-৫০ নেতাকর্মী সংঘবদ্ধ হয়ে কলেজে হামলা চালান। তারা দীর্ঘদিন ধরে কলেজ কর্তৃপক্ষের কাছে চাঁদা দাবি করে আসছিলেন। অধ্যক্ষ আব্দুর রাজ্জাক বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই বিভিন্ন মহল থেকে চাঁদা দাবি করা হচ্ছিল। তবে তিনি কাউকেই চিনতেন না এবং কোনো দাবিই মেনে নেননি। প্রভাষক আলেয়া খাতুন হীরা অভিযোগ করেন, বিএনপির কয়েকটি গ্রুপ প্রায়ই কলেজে এসে হিসাব-নিকাশের নামে চাপ সৃষ্টি করত। মূলত তারা চাঁদার দাবিতেই আসতেন। অধ্যক্ষের পাশে দাঁড়ানোই তার ‘অপরাধ’ বলে মন্তব্য করেন তিনি। অন্যদিকে বিএনপি নেতা আকবর আলী দাবি করেন, কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা মোজাম্মেল হকের সময় বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতি হয়েছে। সে হিসাব চাইতে গেলে কলেজ কর্তৃপক্ষ সহযোগিতা না করে উল্টো তাদের ওপর হামলা চালায়। প্রথমে শিক্ষিকা হীরাই তাদের ওপর হামলা করেন, এরপর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। ঘটনার সময় অধ্যক্ষের কক্ষে উপস্থিত ছিলেন দুর্গাপুর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) রফিকুল ইসলামসহ কয়েকজন পুলিশ সদস্য। অভিযোগ রয়েছে, তাদের উপস্থিতিতেই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটলেও শুরুতে তারা কার্যকর ব্যবস্থা নেননি। পুলিশ পরিদর্শক রফিকুল ইসলাম বলেন, পরীক্ষার কারণে এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি ছিল। সম্ভাব্য উত্তেজনার খবর পেয়ে তারা কলেজে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন। কিন্তু কিছু লোক বাধা উপেক্ষা করে কলেজে প্রবেশ করে হামলা ও ভাঙচুর চালায়। লিখিত অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow