দাখিলে শূন্য পাস করা ৪ মাদ্রাসা প্রধানকে কারণ দর্শানোর নোটিশ

সদ্য প্রকাশিত দাখিল পরীক্ষার ফলাফলে বরিশাল জেলার ৪টি মাদ্রাসা থেকে অংশ নেওয়া কোনো শিক্ষার্থীই উত্তীর্ণ হতে পারেনি। এসব প্রতিষ্ঠানের প্রধানকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) বাংলাদেশে মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড। চার প্রতিষ্ঠান প্রধানকে আগামী ২৩ আগস্ট সশরীরে বোর্ডে হাজির হয়ে শিক্ষার্থীদের ফেল হওয়ার কারণ জানিয়ে লিখিত বক্তব্য দিতে বলা হয়েছে। বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক মো. ফারুক আহম্মেদ স্বাক্ষরিত এক নোটিশে এ তথ্য জানানো হয়।  বরিশাল জেলার শূন্য পাস করা ৪টি মাদ্রাসার মধ্যে দুটি বাকেরগঞ্জ উপজেলার এবং দুটি উজিরপুর উপজেলার। চার মাদ্রাসার মোট ৪৬ জন পরীক্ষার্থীর একজনও দাখিল পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারেনি। বাকেরগঞ্জ উপজেলার নলুয়া কাদেরিয়া দাখিল মাদ্রাসা থেকে এবার দাখিল পরীক্ষায় অংশ নেয় ১৬ জন শিক্ষার্থী। তাদের একজনও পাস করতে পারেনি। একই উপজেলার মধ্য বাদলপাড়া এমরানিয়া দাখিল মাদ্রাসা থেকে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ছয়জন শিক্ষার্থীর সবাই ফেল করেছে। অন্যদিকে উজিরপুর উপজেলার মুন্সীরতাল্লুক বালিকা আলিম মাদ্রাসা থেকে সাতজন শিক্ষার্থী দাখিল পরীক্ষায় অংশ নিয়ে কেউই উত্তীর্ণ হয়নি। একই উপজেলার

দাখিলে শূন্য পাস করা ৪ মাদ্রাসা প্রধানকে কারণ দর্শানোর নোটিশ

সদ্য প্রকাশিত দাখিল পরীক্ষার ফলাফলে বরিশাল জেলার ৪টি মাদ্রাসা থেকে অংশ নেওয়া কোনো শিক্ষার্থীই উত্তীর্ণ হতে পারেনি। এসব প্রতিষ্ঠানের প্রধানকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) বাংলাদেশে মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড। চার প্রতিষ্ঠান প্রধানকে আগামী ২৩ আগস্ট সশরীরে বোর্ডে হাজির হয়ে শিক্ষার্থীদের ফেল হওয়ার কারণ জানিয়ে লিখিত বক্তব্য দিতে বলা হয়েছে।

বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক মো. ফারুক আহম্মেদ স্বাক্ষরিত এক নোটিশে এ তথ্য জানানো হয়। 

বরিশাল জেলার শূন্য পাস করা ৪টি মাদ্রাসার মধ্যে দুটি বাকেরগঞ্জ উপজেলার এবং দুটি উজিরপুর উপজেলার। চার মাদ্রাসার মোট ৪৬ জন পরীক্ষার্থীর একজনও দাখিল পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারেনি।

বাকেরগঞ্জ উপজেলার নলুয়া কাদেরিয়া দাখিল মাদ্রাসা থেকে এবার দাখিল পরীক্ষায় অংশ নেয় ১৬ জন শিক্ষার্থী। তাদের একজনও পাস করতে পারেনি। একই উপজেলার মধ্য বাদলপাড়া এমরানিয়া দাখিল মাদ্রাসা থেকে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ছয়জন শিক্ষার্থীর সবাই ফেল করেছে।

অন্যদিকে উজিরপুর উপজেলার মুন্সীরতাল্লুক বালিকা আলিম মাদ্রাসা থেকে সাতজন শিক্ষার্থী দাখিল পরীক্ষায় অংশ নিয়ে কেউই উত্তীর্ণ হয়নি। একই উপজেলার লস্করপুর বড়াকোঠা বালিকা দাখিল মাদ্রাসা থেকে ১৭ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয়। ফলাফলে ১৭ শিক্ষার্থীর কেউ পাস করতে পারেনি।

এ ঘটনায় প্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষার্থীদের ফলাফল শূন্য হওয়ার কারণ জানতে চেয়েছে মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড। সংশ্লিষ্ট মাদ্রাসার প্রধানদের সশরীরে উপস্থিত হয়ে লিখিত ব্যাখ্যা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বোর্ডের চিঠি পাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে উজিরপুর উপজেলার মুন্সীরতাল্লুক বালিকা আলিম মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত সুপার মাওলানা মো. জামাল উদ্দিন বলেন, আগামী ২৩ আগস্ট আমাদের মাদ্রাসা বোর্ডে হাজির হয়ে শতভাগ ফেল হওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করতে বলা হয়েছে। এবার আমাদের সাত জন পরীক্ষার্থী ছিল। তাদের মধ্যে অসুস্থতার কারণে দুই জন পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেনি। পাঁচজন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে সবাই ফেল করেছে। এখানে মাদ্রাসা শিক্ষকদের কোনো দোষ আছে বলে আমার মনে হচ্ছে না।

তিনি আরও বলেন, আমাদের মাদ্রাসায় শিক্ষকসংকট রয়েছে। ১০ জন শিক্ষক দিয়ে পুরো মাদ্রাসা চলছে। তার পরও শিক্ষার্থীদের গাইড করতে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি। আগের পরীক্ষায় আমাদের মাদ্রাসা শতভাগ পাস করেছিল। কিন্তু এবারের ব্যাচটি একেবারেই মেধাশূন্য ছিল। আমরা তাদেরকে অনেক বোঝাবার চেষ্টা করেছি এবং বাবা-মাকে ডেকে সতর্ক করেছি। আমাদের পক্ষ থেকে কোনো ঘাটতি ছিল না। আশা করছি আগামীতে এমন আর হবে না।

সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) বরিশাল মহানগর সম্পাদক রফিকুল আলম বলেন, একটি প্রতিষ্ঠানের সব পরীক্ষার্থী অকৃতকার্য হওয়াকে শুধু শিক্ষার্থীদের ব্যর্থতা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এমন ফলাফল একটি প্রতিষ্ঠানের পাঠদান ও একাডেমিক ব্যবস্থাপনার সামগ্রিক চিত্রকেই প্রশ্নের মুখে ফেলে। শিক্ষকদের পাঠদানের মান, অভ্যন্তরীণ পরীক্ষা ও প্রতিষ্ঠান পরিচালনায় কোনো গাফিলতি ছিল কি না এসব বিষয়ও জবাবদিহির আওতায় আনা প্রয়োজন। 

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow