দিনভর অপেক্ষার পর নদীতে ফেলা হলো কোটি টাকার চামড়া
মৌলভীবাজারে দিনভর অপেক্ষার পর যখন কেউ কোরবানির পশুর চামড়া নিতে আসেননি তখন বাধ্য হয়ে কোরবানিদাতারা পশুর চামড়া কেউ নদীতে আবার কেউ মাটিতে পুঁতে ফেলেছেন। সরকারি হিসাবে জেলায় প্রায় ৭১ হাজার পশু কোরবানি হয়েছে। এর মধ্যে গরু প্রায় ৪০ হাজার। এসব গরুর চামড়ার মূল্য সরকারি হিসাবে কয়েক কোটি টাকা। জেলার বেশিরভাগ কওমি মাদরাসা এবারের ঈদে চামড়া সংগ্রহ করেনি। এতে করে চামড়া নিয়ে বিপাকে পড়েন কোরবানি দেওয়া পশুর মালিকেরা। সারাদিন অপেক্ষা করে কেউ চামড়া না নেওয়ায় বাধ্য হয়ে অনেকেই নদীতে ফেলেন ও মাটিচাপা দেন। আবার হাতেগোনা যারা চামড়া সংগ্রহ করেছেন তাদের খরচ তোলা দায় হয়ে পড়েছে। প্রতি চামড়া বিক্রি করতে হয়েছে মাত্র ১০০ টাকায়। জেলার বালিকান্দি এলাকার চামড়া ব্যবসায়ীরা বলেন, আমরা চামড়া কিনে কার কাছে বিক্রি করবো? ট্যানারির কাছে ব্যবসায়ীরা কোটি টাকা পাবে। গত ঈদের চামড়া এখনও বিক্রি হয়নি। এই ঈদে শুধুমাত্র ২০০ বছরের ঐতিহ্য ধরে রাখার জন্য কিছু চামড়া কিনেছি। বাস্তবে চামড়ার বাজার একেবারেই মূল্যহীন। ঈদের দিন পৌর শহরের পুরাতন বাস স্ট্যান্ড এলাকায় দেখা যায়, প্রতি বছরের মতো এবারও সন্ধ্যা নামার সঙ্গে সঙ্গে চামড়া নিয়ে আসছেন বিক্র
মৌলভীবাজারে দিনভর অপেক্ষার পর যখন কেউ কোরবানির পশুর চামড়া নিতে আসেননি তখন বাধ্য হয়ে কোরবানিদাতারা পশুর চামড়া কেউ নদীতে আবার কেউ মাটিতে পুঁতে ফেলেছেন। সরকারি হিসাবে জেলায় প্রায় ৭১ হাজার পশু কোরবানি হয়েছে। এর মধ্যে গরু প্রায় ৪০ হাজার। এসব গরুর চামড়ার মূল্য সরকারি হিসাবে কয়েক কোটি টাকা।
জেলার বেশিরভাগ কওমি মাদরাসা এবারের ঈদে চামড়া সংগ্রহ করেনি। এতে করে চামড়া নিয়ে বিপাকে পড়েন কোরবানি দেওয়া পশুর মালিকেরা। সারাদিন অপেক্ষা করে কেউ চামড়া না নেওয়ায় বাধ্য হয়ে অনেকেই নদীতে ফেলেন ও মাটিচাপা দেন। আবার হাতেগোনা যারা চামড়া সংগ্রহ করেছেন তাদের খরচ তোলা দায় হয়ে পড়েছে। প্রতি চামড়া বিক্রি করতে হয়েছে মাত্র ১০০ টাকায়।
জেলার বালিকান্দি এলাকার চামড়া ব্যবসায়ীরা বলেন, আমরা চামড়া কিনে কার কাছে বিক্রি করবো? ট্যানারির কাছে ব্যবসায়ীরা কোটি টাকা পাবে। গত ঈদের চামড়া এখনও বিক্রি হয়নি। এই ঈদে শুধুমাত্র ২০০ বছরের ঐতিহ্য ধরে রাখার জন্য কিছু চামড়া কিনেছি। বাস্তবে চামড়ার বাজার একেবারেই মূল্যহীন।
ঈদের দিন পৌর শহরের পুরাতন বাস স্ট্যান্ড এলাকায় দেখা যায়, প্রতি বছরের মতো এবারও সন্ধ্যা নামার সঙ্গে সঙ্গে চামড়া নিয়ে আসছেন বিক্রেতারা। প্রতি পিছ চামড়া ১০০-১৫০ টাকা দিয়ে ক্রয় করছেন ব্যবসায়ীরা। অনেক চামড়া বিক্রেতা দূরদূরান্ত থেকে গাড়িতে করে চামড়া নিয়ে এলে গাড়ি ভাড়ার টাকাও মেলেনি তাদের। চামড়া বিক্রি না হওয়ায় আবার অনেকেই চামড়া ফেলে দিয়েছেন। চামড়া নিয়ে ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয়ই হতাশা প্রকাশ করছেন।
জেলার বালিকান্দি বাজারে প্রায় ২০০ বছর ধরে চামড়া সংরক্ষণ ও বিক্রি করলেও এবছর চামড়া ব্যবসায়ীরা চামড়া কিনতে অনিহা প্রকাশ করছেন। অনেকটা বাধ্য হয়ে ও ঐতিহ্য ধরে রাখার জন্য জেলা শহরের বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে কিছু চামড়া ক্রয় করছেন।
জেলার বিভিন্ন কওমি মাদরাসার শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রতি বছর কওমি মাদরাসার পক্ষ থেকে চামড়া সংগ্রহ করে বিক্রি করা হলেও এবছর বেশিরভাগ মাদরাসা চামড়া সংগ্রহ করেনি। গতবছর চামড়া সংগ্রহ করে লোকসান হওয়ায় এবছর চামড়া সংগ্রহ করা হয়নি। একটা চামড়া সংগ্রহ করতে যে টাকা খরচ হয়, বিক্রি করার সময় তা মেলে না।
কাওছার আহমদ নামে একজন বলেন, আমি ৫০টি চামড়া সংগ্রহ করে ৪০০০ টাকা বিক্রি করেছি। আমাদের কষ্ট ও খরচের টাকাও ওঠেনি। ভবিষ্যতে আর কোনোদিন চামড়া সংগ্রহ করবো না। দিন শেষে গাড়িভাড়া ঘর থেকে দিতে হয়।
মনসুর আলী নামে একজন বলেন, আমি সারাদিন চামড়া নিয়ে অপেক্ষা করছি। এবছর কেউ চামড়া নিতে আসেনি। অন্যান্য বছর কওমি মাদরাসা থেকে চামড়া নিতে আসতো, এবার তারাও আসেনি। বিনামূল্যে কেউ চামড়া না নেওয়ায় আমরা বাধ্য হয়ে নদীতে ফেলেছি।
আব্দুস শুকুর নামে একজন চামড়া ব্যবসায়ী বলেন, আমি প্রায় ৪০টি চামড়া নিয়ে এসেছি মৌলভীবাজার শহরে যেখানে চামড়া বিক্রি হয়। কোনো ব্যবসায়ী আমার চামড়া কেনেনি। পরে এগুলো নিয়ে নদীতে ফেলে দিয়েছি।
বালিকান্দি বাজারের চামড়া ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মো. শওকত বলেন, চামড়া ব্যবসায়ীদের শ্রমিকের মজুরির টাকাও মেলে না চামড়া বিক্রি করে। আমাদের এলাকায় ২০০ বছর ধরে চামড়া ব্যবসা চলছে। আমাদের ঐতিহ্য ধরে রাখার জন্য কিছু চামড়া সংগ্রহ করছি। সরকার চামড়ার একটি ফি ঠিক করলেও বাস্তবে এই দামে বেচা-কেনা করা কোনোভাবেই সম্ভব নয়। গত বছরের চামড়া এখনও বিক্রি করতে পারিনি। ট্যানারিগুলোর কাছে বকেয়া রয়েছে ব্যবসায়ীদের। আগামীতে এই শিল্প পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যাবে।
এ বিষয়ে মৌলভীবাজারের জেলা প্রশাসক তৌহিদুজ্জামান পাভেল বলেন, চামড়ার সার্বিক বিষয় নিয়ে আমরা জেলার বালিকান্দি চামড়া ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলেছি। তারা যতটুকু সম্ভব হয়েছে ততটুকু ক্রয় করেছে। আমাদের পক্ষ থেকে বিভিন্ন কওমি মাদরাসায় লবণ দেওয়া হয়েছে চামড়া সংরক্ষণের জন্য।
মাহিদুল ইসলাম/এফএ/জেআইএম
What's Your Reaction?