দুই বছরেও বাস্তবায়ন হয়নি আবু সাঈদের জুলাই স্মৃতি সংরক্ষণ প্রকল্প

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রথম শহীদ ও জুলাই অভ্যুত্থানের অন্যতম প্রতীক আবু সাঈদের স্মৃতি সংরক্ষণে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় (বেরোবি) প্রশাসনের ঘোষিত বিভিন্ন প্রকল্প দুই বছরেও বাস্তবায়নের মুখ দেখেনি। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তার সহযোদ্ধা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার আন্দোলনের স্মৃতি সংরক্ষণে স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ, আবু সাঈদ তোরণ, জুলাই স্মৃতি জাদুঘর প্রতিষ্ঠা, শহীদদের ব্যবহৃত সামগ্রী সংরক্ষণ এবং স্মৃতিবিজড়িত স্থানগুলো সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তবে অধিকাংশ প্রকল্প এখনো ঘোষণা ও কাগজ-কলমেই সীমাবদ্ধ রয়েছে। ‌‘শহীদ আবু সাঈদ দিবস’ উপলক্ষে ২০২৫ সালের ১৬ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয়ের ১ নম্বর গেটে ‘আবু সাঈদ তোরণ ও মিউজিয়াম’ এবং পার্ক মোড়ে ‘শহীদ আবু সাঈদ স্মৃতিস্তম্ভ’র ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন ও স্ট্রিট মেমোরি স্ট্যাম্প উদ্বোধন করা হয়। অনুষ্ঠানে অন্তর্বর্তী সরকারের আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল এবং পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, ইউজিসির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং শহীদ আবু সাঈদের বাবা মো. মকবুল হোসেন উপস্থিত ছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের ক

দুই বছরেও বাস্তবায়ন হয়নি আবু সাঈদের জুলাই স্মৃতি সংরক্ষণ প্রকল্প

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রথম শহীদ ও জুলাই অভ্যুত্থানের অন্যতম প্রতীক আবু সাঈদের স্মৃতি সংরক্ষণে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় (বেরোবি) প্রশাসনের ঘোষিত বিভিন্ন প্রকল্প দুই বছরেও বাস্তবায়নের মুখ দেখেনি। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তার সহযোদ্ধা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার আন্দোলনের স্মৃতি সংরক্ষণে স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ, আবু সাঈদ তোরণ, জুলাই স্মৃতি জাদুঘর প্রতিষ্ঠা, শহীদদের ব্যবহৃত সামগ্রী সংরক্ষণ এবং স্মৃতিবিজড়িত স্থানগুলো সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তবে অধিকাংশ প্রকল্প এখনো ঘোষণা ও কাগজ-কলমেই সীমাবদ্ধ রয়েছে।

‌‘শহীদ আবু সাঈদ দিবস’ উপলক্ষে ২০২৫ সালের ১৬ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয়ের ১ নম্বর গেটে ‘আবু সাঈদ তোরণ ও মিউজিয়াম’ এবং পার্ক মোড়ে ‘শহীদ আবু সাঈদ স্মৃতিস্তম্ভ’র ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন ও স্ট্রিট মেমোরি স্ট্যাম্প উদ্বোধন করা হয়। অনুষ্ঠানে অন্তর্বর্তী সরকারের আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল এবং পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, ইউজিসির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং শহীদ আবু সাঈদের বাবা মো. মকবুল হোসেন উপস্থিত ছিলেন।

দুই বছরেও বাস্তবায়ন হয়নি আবু সাঈদের জুলাই স্মৃতি সংরক্ষণ প্রকল্প

বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারে ‘বঙ্গবন্ধু কর্নার’-এর পরিবর্তে ‘শহীদ আবু সাঈদ কর্নার’ স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়া ১ নম্বর গেট, যা ‘শহীদ আবু সাঈদ গেট’ নামে পরিচিত, সেখানে একটি আবু সাঈদ স্ট্রিট মেমোরি স্ট্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে। একই স্থানে ‘শহীদ আবু সাঈদ জুলাই স্মৃতি জাদুঘর’-এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয় এক বছর আগে। কিন্তু এখন পর্যন্ত নির্মাণকাজে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি নেই। একইভাবে ‘শহীদ আবু সাঈদ গেট’ নির্মাণের কাজও শুরু হয়নি।

আবু সাঈদের সহযোদ্ধা শামসুর রহমান সুমন বলেন, শহীদ আবু সাঈদ সহ জুলাইয়ের সকল শহিদের বিচার দ্রুত কার্যকর করা হয়। আবু সাঈদের ক্যাম্পাস বৈষম্যের শিকার, শহীদ আবু সাঈদ গেইট, জাদুঘর ও চত্বরের কাজ এখনো শুরু হয়নি, এই কাজগুলো যাতে দ্রুত শুরু হয় এই প্রত্যাশা করি। কিন্তু বারবার আমাদের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়, বাস্তবায়ন হয় না।

বিষয়টি নিয়ে বেরোবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. শওকাত আলী বলেন, জুলাই আন্দোলনের প্রথম শহীদ ‘শহীদ আবু সাঈদ’। তার এ স্মৃতিকে সমুন্নত রাখতে আমরা ইউজিসিকে ‘শহিদ আবু সাঈদ গেইট’ নির্মাণের প্রস্তাব দিয়েছিলাম। সেই প্রস্তাবটি ইউজিসিতে গৃহীত হয়েছে এবং আমরা কিছু অর্থায়ন ও পেয়েছি। আগামী ২০শে জুলাই সেই গেটের টেন্ডার উন্মুক্ত হবে। আশা করি, শহিদ আবু সাঈদ গেটের কাজ এ মাসের শেষের দিকে অথবা আগস্টের শুরুর দিকে শুরু হবে।

আজিজুর রহমান/কেএইচকে/জেআইএম

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow