দুই স্বামী ও দুই সন্তানের মৃত্যু, বেদনার এক সমুদ্র পাড়ি দিলেন আশা

ভারতীয় সংগীতজগতের কিংবদন্তি গায়িকা আশা ভোঁসলে আর নেই। বর্ণাঢ্য এক জীবন কাটিয়ে গেছেন তিনি। পেশাগত জীবনে যেমন আকাশছোঁয়া সাফল্য অর্জন করেছেন, ব্যক্তিগত জীবনে তেমনই তাকে বারবার সহ্য করতে হয়েছে গভীর শোক ও কঠিন বাস্তবতা। মাত্র ১৬ বছর বয়সে তিনি গণপতরাও ভোঁসলের সঙ্গে ঘর বাঁধেন। বয়স কম হলেও দায়িত্ব ও পারিবারিক জীবনের ভার কাঁধে তুলে নিতে হয় তাকে। এই সংসারে তার তিন সন্তান জন্ম নেয়। কিন্তু দাম্পত্য জীবনের টানাপড়েনে শেষ পর্যন্ত সন্তানদের নিয়ে বাবার গৃহে ফিরে আসেন তিনি।প্রথম স্বামী ও তিন সন্তানের সঙ্গে আশা এরপর জীবনের নতুন অধ্যায় শুরু হয় সংগীতের সাথেই। প্রথম স্বামীর মৃত্যুর পর ১৯৮০ সালে তিনি বিখ্যাত সুরকার আর ডি বর্মণকে বিয়ে করেন। এই সম্পর্ক তার জীবনে কিছুটা স্থিরতা এনে দিলেও সুখ দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। ১৯৯৪ সালে আর ডি বর্মণের মৃত্যু হলে তিনি দ্বিতীয়বারের মতো বিধবা হন।দ্বিতীয় স্বামী রাহুল দেব বর্মণের সঙ্গে আশা তবে ব্যক্তিগত জীবনের সবচেয়ে বড় আঘাত আসে আরও পরে। ২০১২ সালে তার মেয়ে বর্ষা আত্মহত্যা করেন। এই মৃত্যু তাকে মানসিকভাবে ভেঙে দেয়। এরপর ২০১৫ সালে তার বড় ছেলে হেমন্ত ক্যানসারে মারা যান। এই দুই সন্তান হারা

দুই স্বামী ও দুই সন্তানের মৃত্যু, বেদনার এক সমুদ্র পাড়ি দিলেন আশা

ভারতীয় সংগীতজগতের কিংবদন্তি গায়িকা আশা ভোঁসলে আর নেই। বর্ণাঢ্য এক জীবন কাটিয়ে গেছেন তিনি। পেশাগত জীবনে যেমন আকাশছোঁয়া সাফল্য অর্জন করেছেন, ব্যক্তিগত জীবনে তেমনই তাকে বারবার সহ্য করতে হয়েছে গভীর শোক ও কঠিন বাস্তবতা।

মাত্র ১৬ বছর বয়সে তিনি গণপতরাও ভোঁসলের সঙ্গে ঘর বাঁধেন। বয়স কম হলেও দায়িত্ব ও পারিবারিক জীবনের ভার কাঁধে তুলে নিতে হয় তাকে। এই সংসারে তার তিন সন্তান জন্ম নেয়। কিন্তু দাম্পত্য জীবনের টানাপড়েনে শেষ পর্যন্ত সন্তানদের নিয়ে বাবার গৃহে ফিরে আসেন তিনি।


প্রথম স্বামী ও তিন সন্তানের সঙ্গে আশা

এরপর জীবনের নতুন অধ্যায় শুরু হয় সংগীতের সাথেই। প্রথম স্বামীর মৃত্যুর পর ১৯৮০ সালে তিনি বিখ্যাত সুরকার আর ডি বর্মণকে বিয়ে করেন। এই সম্পর্ক তার জীবনে কিছুটা স্থিরতা এনে দিলেও সুখ দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। ১৯৯৪ সালে আর ডি বর্মণের মৃত্যু হলে তিনি দ্বিতীয়বারের মতো বিধবা হন।


দ্বিতীয় স্বামী রাহুল দেব বর্মণের সঙ্গে আশা

তবে ব্যক্তিগত জীবনের সবচেয়ে বড় আঘাত আসে আরও পরে। ২০১২ সালে তার মেয়ে বর্ষা আত্মহত্যা করেন। এই মৃত্যু তাকে মানসিকভাবে ভেঙে দেয়। এরপর ২০১৫ সালে তার বড় ছেলে হেমন্ত ক্যানসারে মারা যান। এই দুই সন্তান হারানোর শোক তার জীবনের সবচেয়ে কঠিন অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হয়।


একমাত্র মেয়ে বর্ষার শৈশবে তোলা ছবিটি আজ শুধুই স্মৃতি। মা ও মেয়ে দুজনেই আজ জীবনের ওপারে

তার একমাত্র জীবিত সন্তান মেজ ছেলে আনন্দ ভোঁসলে। এতসব দুঃখ-কষ্টের মধ্যেও তিনি কখনো গান থেকে দূরে সরে যাননি। বরং সংগীতকেই বেছে নিয়েছেন বেঁচে থাকার শক্তি হিসেবে।


নাতনি ও হেমন্তের সঙ্গে আশা। হেমন্ত মারা যান ক্যানসারে

সাফল্য, শোক, বিচ্ছেদ ও সংগ্রামের মধ্য দিয়ে গড়ে ওঠা এই জীবনগাথা আজ তাকে শুধু একজন শিল্পী নয়, বরং এক অনন্য সংগ্রামী নারীর প্রতীক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। তিনি বেদনার এক সমুদ্র পাড়ি দিয়ে গেলেন হাসিমুখে। দেখিয়ে গেলেন ব্যক্তিগত দুঃখকে জয় করে কীভাবে সবার আনন্দের জন্য বাঁচতে হয়।


বেঁচে আছেন আশা ভোঁসলের একমাত্র সন্তান আনন্দ

 

এলআইএ

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow