দুধ দিয়ে গোসল করা কি জায়েজ?
মানুষের সমাজে যুগে যুগে নানা ধরনের লোকাচার, কুসংস্কার ও ভিত্তিহীন বিশ্বাস প্রচলিত হয়েছে। বিশেষ করে কোনো বিপদ-আপদ, অশুভ ঘটনা বা ব্যক্তিগত ভুলের পর অনেকেই এমন কিছু কাজ করে থাকেন, যেগুলোর সঙ্গে ইসলামের কোনো সম্পর্ক নেই। আমাদের সমাজেও দেখা যায়, কেউ বড় ধরনের ভুল করলে, কোনো অমঙ্গল থেকে মুক্তি পেতে চাইলে কিংবা অতীতের পাপ ধুয়ে ফেলতে চাইলেই দুধ দিয়ে গোসল করার পরামর্শ দেওয়া হয়। অনেকে এটিকে সৌভাগ্য ফিরে পাওয়ার উপায় বা অশুভ প্রভাব দূর করার মাধ্যম বলেও মনে করেন।
কিন্তু প্রশ্ন হলো, এ ধরনের বিশ্বাস ও আমলের কোনো শরয়ি ভিত্তি আছে কি? ইসলামের দৃষ্টিতে দুধ দিয়ে গোসল করা কি বৈধ? এ বিষয়ে আলেমদের বক্তব্য ও শরিয়তের নির্দেশনা জানা জরুরি।
রাজধানীর জামিয়াতুল ইসলামিয়া বায়তুস সালামের (মিরপুর-১২) সিনিয়র মুফতি আবদুর রহমান হোসাইনী কালবেলাকে বলেন, পাপ বা ভুল থেকে মুক্ত হওয়ার জন্য ইসলাম তাওবা করতে বলেছে। কিন্তু আমাদের সমাজে অনেকে ভুল থেকে মুক্ত হওয়ার জন্য দুধ দিয়ে গোসল করেন, এটা ঠিক নয়। শরিয়তের দৃষ্টিতে এটি একটি ভুল কাজ।
তিনি বলেন, দুধ আল্লাহ তাআলার বড় নেয়ামত। এটি পানীয় ও খাদ্য হিসেবে ব্যবহারের জন্য আল্লাহ মানুষকে দ
মানুষের সমাজে যুগে যুগে নানা ধরনের লোকাচার, কুসংস্কার ও ভিত্তিহীন বিশ্বাস প্রচলিত হয়েছে। বিশেষ করে কোনো বিপদ-আপদ, অশুভ ঘটনা বা ব্যক্তিগত ভুলের পর অনেকেই এমন কিছু কাজ করে থাকেন, যেগুলোর সঙ্গে ইসলামের কোনো সম্পর্ক নেই। আমাদের সমাজেও দেখা যায়, কেউ বড় ধরনের ভুল করলে, কোনো অমঙ্গল থেকে মুক্তি পেতে চাইলে কিংবা অতীতের পাপ ধুয়ে ফেলতে চাইলেই দুধ দিয়ে গোসল করার পরামর্শ দেওয়া হয়। অনেকে এটিকে সৌভাগ্য ফিরে পাওয়ার উপায় বা অশুভ প্রভাব দূর করার মাধ্যম বলেও মনে করেন।
কিন্তু প্রশ্ন হলো, এ ধরনের বিশ্বাস ও আমলের কোনো শরয়ি ভিত্তি আছে কি? ইসলামের দৃষ্টিতে দুধ দিয়ে গোসল করা কি বৈধ? এ বিষয়ে আলেমদের বক্তব্য ও শরিয়তের নির্দেশনা জানা জরুরি।
রাজধানীর জামিয়াতুল ইসলামিয়া বায়তুস সালামের (মিরপুর-১২) সিনিয়র মুফতি আবদুর রহমান হোসাইনী কালবেলাকে বলেন, পাপ বা ভুল থেকে মুক্ত হওয়ার জন্য ইসলাম তাওবা করতে বলেছে। কিন্তু আমাদের সমাজে অনেকে ভুল থেকে মুক্ত হওয়ার জন্য দুধ দিয়ে গোসল করেন, এটা ঠিক নয়। শরিয়তের দৃষ্টিতে এটি একটি ভুল কাজ।
তিনি বলেন, দুধ আল্লাহ তাআলার বড় নেয়ামত। এটি পানীয় ও খাদ্য হিসেবে ব্যবহারের জন্য আল্লাহ মানুষকে দিয়েছেন। দুধ দিয়ে গোসল করলে দুধ নষ্ট হয়। তখন সেটি আর মানুষের খাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয় না। ফলে এটি অপচয়ের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যায়। আর ইসলাম অপচয়কে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করেছে।
পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘হে আদমসন্তান, তোমরা খাও এবং পান করো, তবে অপচয় করো না। নিশ্চয়ই আল্লাহ অপচয়কারীদের ভালোবাসেন না।’ (সুরা আরাফ : ৩১)
কোরআনে আরও আছে, ‘নিশ্চয়ই যারা অপচয় করে, তারা শয়তানের ভাই এবং শয়তান তার রবের প্রতি অতিশয় অকৃতজ্ঞ।’ (সুরা বনি ইসরাইল: ২৮)
উল্লিখিত আয়াতগুলো থেকে স্পষ্ট বোঝা যায় যে, খাদ্যোপযোগী ও মূল্যবান নেয়ামত অকারণে নষ্ট করা ইসলামের দৃষ্টিতে গ্রহণযোগ্য নয়। দুধ দিয়ে গোসল করার ফলে দুধের যথাযথ ব্যবহার হয় না; বরং তা অপচয়ের শামিল হয়। তাই এটি পরিত্যাজ ও গোনাহের কাজ।
এ ছাড়া দুধ দিয়ে গোসল করলে অতীতের ভুল, গোনাহ বা কোনো অশুভ প্রভাব দূর হয়ে যায়—এ রকম বিশ্বাস করাও শরিয়তবিরোধী কাজ। এতে আকিদায় সমস্যা হয়।